সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

যানজট কমাতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে ব্যক্তিগত গাড়ি

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

যানজট কমাতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে ব্যক্তিগত গাড়ি

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

রাজধানীর রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্যই যানযটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। আর ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে রাজধানীর যানজট। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

কোনো শহর, এলাকা বা পরিবারের ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কত হবে কর্তৃপক্ষই তা নির্ধারণ করে দেবে। পাশাপাশি মোটরবাইক ও অন্যান্য মোটরযানের সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণ করবে বিআরটিএ। শুধু ব্যক্তি বা পরিবারই নয়, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যাও নির্ধারণ করতে পারবে বিআরটিএ। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্যান্য যানের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও বিআরটিএকে দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এসব বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৫-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইনটি সম্পর্কে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়া হয়েছে। এখন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মতামত নেয়া হচ্ছে। এটি শেষ হলে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যানজট নিরসনে গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার প্রস্তাব রেখে একটি আইন করার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, মোটর ভেহিকেলস অর্ডিন্যান্স-১৯৮৩ এর পরিবর্তে দুটি ভিন্ন আইন করা হচ্ছে। সেই আইনে পরিবার প্রতি গাড়ির সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি পরিবারে একটির বেশী গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না, এই ধরনের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে মোটর ভেহিকেল অর্ডিন্যান্স-১৯৮৩ এর পরিবর্তে দুটি ভিন্ন আইন করা হচ্ছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন- ২০১৫ ও সড়ক পরিবহন আইন-২০১৫ প্রণয়নের কার্যক্রম চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খসড়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৫ তে পরিবার প্রতি গাড়ির সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য ২০ বছরের অধিক পুরাতন বাস-মিনিবাস ও ২৫ বছরের অধিক পুরানো পণ্যবাহী যানবাহন ঢাকায় চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া পুরাতন জরাজীর্ণ ট্যাক্সিক্যাবের পরিবর্তে মহানগরীতে আধুনিক মানসম্মত ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র মতে, ১৯৩৯ সালের ভারতীয় মোটরযান আইনে কিছুটা পরিবর্তন এনে প্রণয়ন করা হয়েছিল দ্য মোটর ভেহিকলস অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩। এর অধীনেই দেশের পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ হয়ে আসছে। বর্তমানে এ খাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে, যা বিদ্যমান আইনে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পরিবহন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

এদিকে, ব্যক্তিগত গাড়ি প্রসঙ্গে বিআরটিএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে অনেক পরিবার আছে, যারা দুইয়ের অধিক গাড়ির মালিক। আইনটি পাসের পর বিধিমালা করে পরিবারভিত্তিক গাড়ির সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। প্রতিটি পরিবার সর্বোচ্চ দুটি গাড়ি রাখতে পারবে। তবে কোনো পরিবার দুইয়ের অধিক গাড়ি রাখতে চাইলে অতিরিক্ত প্রতিটির জন্য ক্রমবর্ধমান হারে কর প্রদান করতে হবে। বর্তমানে মোটরবাইকের সংখ্যাও দ্রæত বাড়ছে। তাই মোটরবাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও বেশকিছু বিধান আইনের খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এলাকা বা পরিবারভিত্তিক ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য মোটরযানের সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয় সরকারি কর্তৃপক্ষ। তবে বাংলাদেশে এ-সংক্রান্ত ক্ষমতা সরকারি কোনো সংস্থাকে দেয়া হয়নি। ফলে ইচ্ছেমতো ব্যক্তিগত গাড়ি কিনছে সমাজের ধনিকশ্রেণি। এতে একদিকে যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে গণপরিবহন ব্যবস্থা অনুৎসাহিত হচ্ছে। তাই বিআরটিএকে এ-সংক্রান্ত ক্ষমতা দেয়া হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, নতুন এই আইনে নানা বিধান সংযোজনের পাশাপাশি পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএর ক্ষমতা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধানও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আইনভঙ্গে লাইসেন্সের বিপরীতে পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো চালক ঘন ঘন আইন ভঙ্গ করতে থাকলে পয়েন্ট শূন্যে নেমে আসবে। তখন তিনি আর যানবাহন চালাতে পারবেন না। তবে নতুন আইন প্রণয়ন এবং এটি কার্যকর হতে কতটা সময় লাগবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩