সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

যে গ্রামে প্রতিদিনই আত্মহত্যা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

যে গ্রামে প্রতিদিনই আত্মহত্যা!

কোনো মানুষ কেবল তখনই আত্মহত্যা করতে উদ্যোত হতে পারে যখন তার নিরাশা অত্যন্ত চরমে পৌঁছে। যখন আশার কোনো আলো তার হৃদয়ে অনুভূত হয় না। যখন তার অস্তিত্ব ও সত্তার কোন মূল্যবোধ অবশিষ্ট রয়েছে বলে অনুভূত হয়না। অর্থাৎ যেসব ‘মূল্যের’ ভিত্তিতে সে এতদিন অস্তিত্বে ছিল এবং যেসব ‘মূল্য-বোধের’ সাথে তার সত্তার পরিচিতি ছিল, সেই মূল্যে-নির্ধারিত ‘পরিচিতি’এখন নিঃশেষ হয়ে গেছে; এখন তার বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।

কিন্তু সেটা যদি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায় তাহলে ভাবনারই বিষয়। বলা হচ্ছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের খারগোন জেলার বড়ি নামের একটি গ্রামের কথা। যে গ্রামে প্রতিদিন একজন মানুষ আত্মহত্যা করেন।

চলতি বছরের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত এই গ্রামে আত্মহত্যা করেছেন মোট একশ জনেরও বেশি। কোনও ‘দুষ্ট আত্মা’র কাজ বলেই মনে করছেন গ্রামবাসীরা। হ্যাঁ, কোনও অপদেবতাই ভর করেছে এই গ্রামে। এমনটাই জানালেন, খোদ সরপঞ্চ রাজেন্দ্র সিসোডিয়া। এ করকম দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়েই দিন কাটাচ্ছে ওই গ্রামবাসী।

গত বছর মোট ৩৮১ টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বড়ি গ্রামে। মাস দুয়েক আগে এই গ্রামের সরপঞ্চ জীবন নিজেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপরই তার ভাই রাজেন্দ্র সিসোডিয়া সরপঞ্চ হয়েছেন। তার মা ও ভাইও আত্মহত্যা করেছেন কিছুদিন আগে। গ্রামে বাস করে মোট ৩২০টি পরিবার। জনসংখ্যা মোট ২৫০০। তার মধ্যে এতগুলো আত্মহত্যার ঘটনা রীতিমত নাড়িয়ে দিয়েছে গ্রামবাসীদের।

পুলিশ সুপার অমিত সিং জানান, ২০১৮ তে এখনও পর্যন্ত একশ জনের আত্মহত্যা খবর পাওয়া গেছে। সবাই কোনও শয়তান বা অপদেবতাকেই দায়ী করছেন। মনোবিদ ডা. শ্রীকান্ত রেড্ডি মনে করছেন, কোনও ডিপ্রেশনের কারণেই এই আত্মহত্যা। মারাত্মক পরিমাণে কীনাশক দেওয়ার ফলে এই ঘটনা বলেও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। যদিও কোনও স্পষ্ট কারণ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আর্থিক কারণ ছাড়াও অনেক কারণ থাকে ডিপ্রেশনের। একসময় চিনের একটি গ্রামে দেখা গিয়েছিল, একটি বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে যা ডিপ্রেশনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মানুষ বুঝতে না পেরে অপদেবতাকে দায়ী করছেন।

এই কারণ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের কাউন্সেলিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। ইতিমধ্যেই গ্রামে মদের বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের বেশ কয়েকটি পিছিয়ে পড়া গ্রামের মধ্যে এটি অন্যতম। এখানে একাধিক কুসংস্কার কাজ করে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা

add-sm
Sonali Tissue
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩