রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

যৌনরোগ : সংক্রমণ ও উপসর্গ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

যৌনরোগ : সংক্রমণ ও উপসর্গ

সোনালীনিউজ ডেস্ক

অসংযমী যৌন জীবনে অভ্যস্ত হলে সাবধান৷ একাধিক পার্টনারের সঙ্গে সঙ্গম করলে এক শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে যৌনরোগ- সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি)৷ তবে যৌন রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির রক্ত যদি যৌনমিলন ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে অন্যের দেহে সংক্রামিত হয়, তবে তাকে যৌনরোগ বলা যায় না৷ সেই কারণে এইডস বা হেপাটাইটিস বি যৌনরোগ নয়৷ যত্রতত্র গুপ্তরোগ সারিয়ে তোলার বিজ্ঞাপন দেখে যে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে শুধুমাত্র ভেন্যারিয়্যাল ডিজিজ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছেই চিকিৎসা করান৷

সিফিলিস : ব্যাক্টেরিয়াল যৌনরোগের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে সিফিলিস৷ এটি spirochete এবং Treponema Pallidum ব্যাক্টেরিয়ার কারণে হয়৷ সঙ্গমের সময় এই জীবাণু পার্টনারের যৌনাঙ্গের মধ্য দিয়ে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে৷ সাধারণত যৌনমিলনের ১০ দিনের মধ্যে হয় প্রাইমারি সিফিলিস৷ এর ছ' সপ্তাহ থেকে ছ' মাসের মধ্যে হয় সেকেন্ডারি সিফিলিস৷ এটি যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে রোগটি শরীরের হাড় ও অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে৷ এছাড়া লেট সিফিলিস পর্যায়ে গেলে রোগীর নার্ভ, চোখ, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷

উপসর্গ : যৌনাঙ্গে ফুসকুড়ি, ঘা, ব্যথাহীন ফুসকুড়ি এবং রক্ত পড়া, জিভে, ঠোঁটে, মুখে ঘা, জ্বর, মাথা-গা-হাত-পা ব্যথা, গা ম্যাজম্যাজ৷

গনোরিয়া : মূত্রনালি বা ইউরেথ্রাতে প্রদাহ তৈরি করে৷ ব্যাক্টেরিয়াঘটিত অসুখ৷ জীবাণুর নাম নাইসেরিয়া গনোরি৷ গনোরিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে গনোকক্কাল আর্থ্রাইটিস হতে পারে৷ এছাড়াও হৃদযন্ত্র ও কিডনির উপর প্রভাব ফেলে৷
উপসর্গ : প্রস্রাবদ্বার দিয়ে পুঁজের মতো রস গড়ায়, প্রস্রাবের সময় জ্বালা-যন্ত্রণা, লিঙ্গ উত্থিত হলেই যন্ত্রণা৷

Chancroid : ব্যাক্টেরিয়াবাহিত যৌনরোগ৷ মূলত পুরুষদের হয়ে থাকে৷ যৌনাঙ্গের উপরের ত্বকে ৩-৪টে যন্ত্রণাদায়ক ঘা হয়৷ সময়মতো চিকিৎসা না করালে রোগটি ক্রমশ যৌনাঙ্গ থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে৷

উপসর্গ : যৌনাঙ্গ ছাড়া কুঁচকি ও দেহের অন্যান্য গ্ল্যান্ড ফোলে৷ গ্ল্যান্ডের উপরের ত্বক লালচে হয়৷

লিম্ফো গ্র্যানোলোমা ভেনেরিয়াম : গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ও মফস্বল অঞ্চলে খুবই পরিচিত রোগ৷ ক্ল্যামাইডিয়া গ্রূপের ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যবর্তী একটি গ্রূপ এর জন্য দায়ী৷ এর চিকিৎসা না করালে মলদ্বার ও মলাশয় ক্রমশ নষ্ট হয়ে যায়৷ মেনিনজাইটিস, এনসেফেলাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ অনেক ক্ষেত্রে মূত্রনালি, যৌননালি ও মলাশয়ের নালি এক হয়ে যায়৷

উপসর্গ : শরীরে ছোট ছোট ব্যথাহীন ঘা, কুঁচকির গ্ল্যান্ড ফুলে যায়, গ্ল্যান্ডের উপর লালচে দাগ, গাঁটে ব্যথা, গ্ল্যান্ড শক্ত হয়ে কাটা কাটা হয়ে পড়ে৷
হারপিস জেনিটালিস : বর্তমানে এই ভাইরাল রোগের প্রকোপ খুব বেশি৷ চিকিৎসা করালে এটি সহজে সারার বদলে বারবার হয়ে থাকে৷ স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে এই রোগের শিকার হতে পারেন৷ শরীরের যেসব নার্ভ গ্যাংলিয়া আছে তাতে রোগ বাসা বাঁধে৷ এক্ষেত্রে চিকিৎসা না করালে মূলত রোগটি সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে৷ তবে চিকিৎসা করিয়েও সম্পূর্ণভাবে রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না, কারণ রোগ বারবার ফিরে আসে৷

উপসর্গ : প্রতিমাসে ২-৩ বার প্রচণ্ড ব্যথা হয়, সংক্রমণ না হলেও লক্ষণ প্রকাশ পায়৷
ক্ল্যামাইডিয়া: এটি এমন এক পরজীবী যা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মধ্যবর্তী একটি গ্রূপ৷ এই ক্ল্যামাইডিয়া নামক পরজীবী মানব শরীরে ইউরেথ্রাইটিস তৈরি করে যা অন্যদের তুলনায় আলাদা৷ তবে এই সংক্রমণ গনোরিয়ার সঙ্গেই শরীরে ঢোকে৷ অন্যান্য যৌনরোগের মতো এটিও ছোঁয়াচে৷ চিকিৎসা না করালে তা দেহের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে৷

উপসর্গ : প্রস্রাবের সময় জ্বালা, চামড়ার রং পরিবর্তন, প্রস্রাবদ্বার থেকে পরের দিকে পুঁজ বেরোয়৷ সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

সোনালীনিউজ/এইচএআর

রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩