শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

রবি ও এয়ারটেল একীভূতকরণ : ৩ তথ্য চায় প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

রবি ও এয়ারটেল একীভূতকরণ : ৩ তথ্য চায় প্রধানমন্ত্রী

সোনালীনিউজ ডেস্ক

মোবাইল অপারেটর রবি ও এয়ারটেলের একীভূত সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে প্রতিষ্ঠান দুটির তিনটি বিষয়ে জরুরি তথ্য চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আল মামুন মুর্শেদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, কোম্পানি দুটির আর্থিক অবস্থা, ব্যাংক লোন এবং অন্যান্য সম্পদ এর তথ্য জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে তা সরবরাহ করার জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসিকে জানানো হবে। বিটিআরসি এই তথ্যগুলো দেওয়া মাত্র তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাঠানো হবে। রবি ও এয়ারটেলের একীভূত সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে গত বৃহস্পতিবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। দুই অপারেটরের ব্যবসা একীভূত করতে ২৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক চুক্তির পর তা বিটিআরসিকে জানায়।

এ নিয়ে শুনানি করে বিটিআরসি একীভূতকরণে কয়েকটি বিষয় সুপারিশ করে মূল্যায়ন পাঠায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে। সুপারিশের মধ্যে রয়েছে এয়ারটেল তার থ্রিজি লাইসেন্সের মেয়াদ অর্থাৎ ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাদের ২৫ শতাংশ মালিকানা বিক্রি করতে পারবে না। এছাড়া একীভূত প্রতিষ্ঠান রবি এয়ারটেলের তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) ব্যবহার করতে পারবে। বর্তমানে রবির ১৯ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ এবং এয়ারটেলের ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রয়েছে। একীভূত হওয়ার পর যা হবে ৩৯ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ।

বর্তমানে গ্রামীণফোনের রয়েছে ৩২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ, যা অন্য সব অপারেটরের চেয়ে বেশি। বিটিআরসি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী যাতে চাকরিচ্যুত না হয়, তা নিশ্চিতের সুপারিশ করেছে বিটিআরসি। তবে যারা একীভূত প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে চাইবেন না, তাদের জন্য স্বেচ্ছা অবসরের সুযোগ রাখতে বলা হয়েছে। এদিকে রবি-এয়ারটেলের একীভূত হওয়া প্রতিযোগিতামূলক অবস্থা নষ্ট করবে দাবি করে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেছেন এক ব্যক্তি। বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানান, দুই কোম্পানির একীভূতকরণের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছে আদালত।

আগামী ১১ এপ্রিল হাই কোর্টে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। দুই অপারেটরের ব্যবসা এক হওয়ার পর একীভূত কোম্পানি রবি নামেই চলবে। এক কোম্পানি হলে রবির গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াবে চার কোটির বেশি, যা বাংলাদেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের এক-চতুর্থাংশ। পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহক নিয়ে গ্রামীণফোন আছে সবার উপরে। রবির মালিকানা মালয়েশিয়াভিত্তিক আজিয়াটা গ্রুপের। অন্যদিকে এয়ারটেলের মালিক ভারতের ভারতি এয়ারটেল; তারা ওয়ারিদের ব্যবসা বাংলাদেশে কিনে নিয়েছিল। এশিয়ার বড় টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলোর মধ্যে আজিয়াটা অন্যতম। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পাশাপাশি কম্বোডিয়া, ভারত ও সিঙ্গাপুরেও তাদের ব্যবসা রয়েছে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩