মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

রাজনীতিতে আসছেন জোবায়দা!

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার ০৮:২৫ পিএম

রাজনীতিতে আসছেন জোবায়দা!

ফাইল ছবি

ঢাকা : শাশুড়ি খালেদার পথে ডা. জোবায়দা রহমান। রাজনীতিতে আসছেন। কয়েক বছর ধরে গুঞ্জন শোনা গেলেও এখনো বাস্তব রূপ পায়নি তা। বিভিন্ন সময় এ-সংক্রান্ত নানা খবর গণমাধ্যমেও ফলাও হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা হওয়ার পর আবারো সামনে এসেছে ডা. জোবায়দার রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন।

বিএনপির কারো কারো মতে, দলের ক্রান্তিকালে ডা. জোবায়দা হাল ধরলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। জিয়াউর রহমান জীবিত থাকাকালে খালেদা জিয়াও রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। গৃহিণী হিসেবে স্বামীর পাশে ছিলেন তিনি। বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই দলীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ঘর থেকে বেরিয়ে দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া। জোবায়দা রহমানও খালেদা জিয়ার মতো বৈরী সময়ের মুখোমুখি। চিকিৎসালয় থেকে তার রাজনীতিতে আসাটা বিস্ময়ের কিছু হবে না।

এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, জোবায়দার রাজনীতিতে আসার পরিস্থিতি এখনো হয়নি। চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এখনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন। তাদের অবর্তমানে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে আসতে পারেন, এটা স্বাভাবিক। তবে তিনি আসছেন বলে যারা গুঞ্জন করছেন, তারা তাদের টার্গেট থেকে বলাবলি করছেন।

জিয়াউর রহমানের নিজ জেলা বগুড়ায় শেষপর্যন্ত খালেদা জিয়া বা তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তাকেপত্নী ডা. জোবায়দা রহমানকে চান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এমন দাবি সিলেট বিএনপি নেতাকর্মীদেরও। এলাকার কন্যা হিসেবে তারা সিলেট-১ আসনে জোবায়দাকে দেখতে চান। তবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, বিশেষ পরিস্থিতির মুখে না পড়লে ডা. জোবায়দা রাজনীতিতে পা রাখছেন না। আর খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানও চান না এখনই দলে সক্রিয় হোন জোবায়দা। জিয়া পরিবার ও দলের ঐক্য ধরে রাখতে যদি কখনো প্রয়োজন হয়, তাহলেই কেবল শাশুড়ি ও স্বামীর পরামর্শে সাময়িকভাবে দলের হাল ধরতে পারেন তিনি।

এই সময়ে তারেকপত্নীর রাজনীতিতে আসার পক্ষে যারা বলছেন তাদের যুক্তি হলো— খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের হাল ধরবেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। উত্তরাধিকার ও পদাধিকারবলে তিনিই প্রাপ্য। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা, অসংখ্য মামলা আর যাবজ্জীবন সাজা কাঁধে নিয়ে তিনি দেশে ফিরতে না পারলে কী হবে দলের। এমন অবস্থা সৃষ্টি হলে ডা. জোবায়দা রহমানকে হাল ধরতে হবে। আবার জোবায়দার এখনই রাজনীতিতে না আসার কথা যারা বলছেন তাদের যুক্তি— বিএনপিতে এখনো নেতৃত্ব সঙ্কট সৃষ্টি হয়নি। পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে আসা হবে যুক্তিযুক্ত।

বিএনপির রাজনীতিতে আসতে জোবায়দার নাম আলোচনায় আসে আরো দুই বছর আগে। ওই বছরের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। কাউন্সিলের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান।

তারপর দলের স্থায়ী কমিটির দুটি সদস্য পদ খালি রাখা হয়। দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা ছিল জোবায়দা হচ্ছেন নীতিনির্ধারকদের একজন। একটি পদে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে স্থান দেওয়া হলেও আলোচনা শেষ হয়নি। ফের আলোচনায় জোবায়দা রহমান।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, এখনো দলের নেতৃত্বে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানই। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে দুজনই ভূমিকা পালন করছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। তবে চূড়ান্ত রায়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান মুক্ত না থাকতে পারলে বিকল্প হিসেবে জোবায়দা রহমানকে চিন্তা করা হতে পারে। কারণ বিএনপি মানেই জিয়া পরিবার। এই আলোচনায় যোগ হয়েছে তারেক কন্যা জায়মা রহমানের নামও। আলোচিত ব্যক্তিরা রাজনীতিতে আসছেন কি না তা নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ এবং তারেক রহমানের দেশে না ফেরার ওপর।     

এক-এগারো সরকারের জরুরি অবস্থার সময় গ্রেপ্তার হওয়া তারেক রহমান ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বরে মুক্তির পর স্ত্রী ও মেয়ে জায়মা রহমানকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তারা লন্ডনেই অবস্থান করছেন। স্বামীর সঙ্গে লন্ডন যাওয়ার সময় সরকারি চাকরি থেকে ডা. জোবায়দা শিক্ষা ছুটি নিয়েছিলেন।

পরে তা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়। লন্ডন যাওয়ার পর কয়েক দফায় ছুটি বাড়ান জোবায়দা। তবে তার সর্বশেষ আবেদনটি আর গ্রহণ করেনি মন্ত্রণালয়। প্রায় ছয় বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ২০১৪ সালে তাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর সংসদকে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

এমন অবস্থার মধ্যে ডা. জোবায়দার রাজনীতিতে আসা দূরের কথা, শিগগির দেশে ফিরবেন কি না তার সিদ্ধান্তও হয়নি। লন্ডনে যাতায়াত আছে বিএনপির এমন একাধিক প্রথম সারির নেতার সঙ্গে কথা বললে এমনটাই জানা যায়।

সোনালীনিউজ/এমটিআই