মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭, ৭ ভাদ্র ১৪২৪

রিজার্ভ চুরি : অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন জম

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

রিজার্ভ চুরি : অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন জম

সোনালীনিউজ ডেস্ক

রিজার্ভ চুরির অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন আজ বুধবার জমা দেওয়া হয়েছে।  আজ সন্ধ্যা ৬ টায় ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বাধানী তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে কিছুই বলেন নি ড. ফরাস উদ্দিন ও  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে গঠিত ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ এক মাস গত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে যাওয়ার দিন থেকে হিসাব করলে আগামী শুক্রবার ৩০ দিন পার হবে এই কমিটির। এই সময়ের মধ্যেই সরকারের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে তা চূড়ান্ত করা হয়। ৮৩৫ কোটি টাকা মূল্যমানের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরির ঘটনা দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ব্যাংক কেন গোপন রেখেছিল, তার উত্তর মিলবে এই প্রতিবেদনে। আর চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে করণীয় নির্ধারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠকে বসছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স।

রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত ১৫ মার্চ ড. ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে সরকার। কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। আর ৭৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চেয়েছে সরকার।

তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারির চার দিন পর ২০ মার্চ ফরাসউদ্দিন হেয়ার রোডের বাসভবনে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ২২ মার্চ তিনি প্রথম বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। আর সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সাতটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য থাকবে। তবে এর মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে তথ্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে থাকবে না। সরকার নির্ধারিত ৭৫ দিনের মধ্যে যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে, তাতে সব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সার্ভার থেকে অবৈধভাবে পেমেন্ট আদেশ কিভাবে ও কার বরাবর গেল, অবৈধ পরিশোধ ঠেকানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপগুলো যথাযথ ছিল কি না, তার উল্লেখ থাকবে প্রতিবেদনে। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকারের ভেতরে ও বাইরে যে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, তার চেয়ে বড় রহস্যর কারণ হয়ে রয়েছে, ঘটনাটি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কেন সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের (অর্থ মন্ত্রণালয়) কাছে প্রায় এক মাস গোপন রেখেছিল। এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তদন্ত কমিটিকে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকবে।

গত ১৫ মার্চ রিজার্ভ খোয়ানোর দায় নিয়ে পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের ডেকে তখনকার গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছিলেন, রিজার্ভের বাকি অর্থও যাতে হ্যাকাররা চুরি করে নিতে না পারে, সে জন্য বিষয়টি গোপন রেখে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুরোধও বিষয়টি গোপন রাখার একটি কারণ। রিজার্ভ চুরির সঙ্গে ফিলিপাইনের ব্যাংক জড়িত জানাজানি হলে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই এ অনুরোধ করে দেশটি।

চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, কমিটিকে তাও জানাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কমিটি সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার তথ্য পেয়েছেন, তবে তাঁদের কেউ জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে তথ্য থাকবে।

এ ছাড়া চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা ও অর্থ উদ্ধারে নেওয়া পদক্ষেপগুলো পর্যাপ্ত কি না এবং রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ থাকবে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/মে

 

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue