শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

রেলের প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চায়

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

রেলের প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতীয় অর্থে বাংলাদেশ রেলওয়ের বাস্তবায়নাধীন তিন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার কারণে ব্যাখ্যা চেয়ে ঠিকাদার নিয়োগ আটকে দিয়েছে ভারত। এর জের ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাঠালেও ভারত তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। বরং সম্প্রতি ভারত প্রকল্প তিনটির দরপত্র সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় দফা ব্যাখ্যা চেয়েছে। ফলে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের অনুমোদন না পাওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্প তিনটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ দিতে পারছে না। তাতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আটকে গেছে। তাছাড়া চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে ঠিকাদারের অনুকূলে মোবিলাইজেশন বাবদ চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ অগ্রিমও পরিশোধ করা যাচ্ছে না। ফলে চলতি অর্থবছর তিনটি প্রকল্পের বরাদ্দই কমানোর আবেদন করা হয়েছে এবং বন্ধ রয়েছে প্রকল্পগুলোর কাজও। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত অক্টোবরেই ভারতীয় ঋণের আওতায় খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণে ঠিকাদারের সাথে চুক্তি হয়। আর আগস্টে একই প্রকল্পের আওতায় রূপসা রেল সেতু নির্মাণেও চুক্তি হয়। কিন্তু তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও ভারতের এক্সিম ব্যাংক প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের ঠিকাদার নিয়োগ প্রস্তাব আটকে দেয়। এর বিপরীতে যথাক্রমে নভেম্বর ও সেপ্টেম্বরে দুটি প্যাকেজের জন্য ভারতীয় ব্যাংকটি বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ব্যাখ্যা চায়। সে প্রেক্ষিতে গত ১০ ডিসেম্বর ভারতের এক্সিম ব্যাংকে জবাব পাঠায় রেলওয়ে। তবে তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বরং দ্বিতীয় দফায় ঠিকাদার নিয়োগের প্যাকেজ দুটির বিভিন্ন ডকুমেন্ট চেয়ে পাঠিয়েছে এক্সিম ব্যাংক। গত জানুয়ারিতে এ সংক্রান্ত চিঠি রেলওয়ের হাতে এসে পৌঁছায়। শিগগিরই এর ব্যাখ্যা পাঠানো হবে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৭২১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তবে গতবছরের মে মাসে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৮৩৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা করা হয়। অর্থাৎ প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ১১৬ কোটি টাকা বা ১২৩ শতাংশ। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন মেয়াদও বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় রূপসা রেল সেতু নির্মাণে ভারতের লারসন অ্যান্ড তুবরো লিমিটেড এবং মূল রেলপথ নির্মাণে ইরকন ইন্টারন্যাশনালের সাথে চুক্তি করা হয়। চুক্তিমূল্য যথাক্রমে ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ ও ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রকল্প ব্যয় বাড়ায় খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণে ভারতের ঋণের পরিমাণও বেড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটিতে ভারতের ১ হাজার ২০২ কোটি ৩১ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। এখন তা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে তা অনুমোদনের জন্য ভারতের হাইকমিশনে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো ওই প্রস্তাবে ভারত অনুমোদন দেয়নি।

সূত্র আরো জানায়, ভারতীয় ঋণে রেলের ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি নেয়া হয় ২০১২ সালে। তখন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নে পরামর্শক নিয়োগ চুক্তি হয় গত বছরের ২ জুন। তবে ঠিকাদার নিয়োগ প্রস্তাবটি এখনো আটকে আছে। একই অবস্থা কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ সংস্কার প্রকল্পেও। ২০১৩ সালে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫১৬ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গত আগস্টে পরামর্শক নিয়োগ চুক্তি করা হয়। সেটিও আটকে আছে। প্রকল্পটি সম্পর্কিত দুই দফা ব্যাখ্যা পাঠানো হয়েছে যথাক্রমে অক্টোবর ও ডিসেম্বরে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের এক্সিম ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। তাই তারা বারবার ব্যাখ্যা চাইছে। প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নয়। দু’দফায় সব প্রকল্পের ব্যাখ্যা পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায় দ্রুতই প্রকল্পগুলোর অনুমোদন পাওয়া যাবে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩