বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

রেলে কনটেইনার পরিবহন বাড়াতে নতুন কোম্পানি গঠনের উদ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

রেলে কনটেইনার পরিবহন বাড়াতে নতুন কোম্পানি গঠনের উদ

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে আয় বাড়াতে আগ্রহী। এজন্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে কনটেইনার পরিবহন আগের চেয়ে ১০ বাড়ানো চাচ্ছে। এজন্য রেলওয়ে কনটেইনার সার্ভিস করপোরেশন নামে আলাদা একটি কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর নতুন এই কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ১শ’ কোটি টাকা। খুব শিগগিরই বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি হওয়া পণ্যের মাত্র ৫ শতাংশ রেলওয়ে কনটেইনারের মাধ্যমে পরিবহন করে। বাকি ৮০ শতাংশ সড়কপথে এবং ১৫ শতাংশ নৌপথে পরিবহন করা হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি ও রফতানি পণ্য পরিবহনের জন্য ১৯৮৭ সালে কমলাপুরে আইসিডি নির্মাণ করা হয়। সেজন্য ট্রেনের পাঁচটি রেক (ইঞ্জিন ও ৩০টি ওয়াগন নিয়ে একটি রেক) ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন বৃদ্ধি না পাওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ বেড়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৫-১৬ সাল) ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত  ৬ মাসে মাত্র ৩৮ হাজার ৭৮১টি কনটেইনার পরিবহন করে রেলওয়ে আয় করেছে ৪০ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরে ওই ছয় মাসে কনটেইনার ওঠানামা হয় ১০ লাখ ৪৯ হাজার। যার মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ রেলওয়ে পরিবহন করেছে। তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ৩৪৩টি কনটেইনার পরিবহন করে রেলওয়ে আয় করেছিলো ৭০ কোটি ৮ লাখ টাকা। একই অর্থবছরে বন্দরে ১৮ লাখ ৬৭ হাজার কনটেইনার ওঠানামা হয়। তাছাড়া বিগত ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮১ হাজার ৯৩০টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার আইসিডিতে পরিবহন করা হয়। পরে ইঞ্জিনের সংকটসহ নানা কারণে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন কমতে থাকে।

সূত্র জানায়, প্রায় চার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বেশির ভাগ অংশই এখন ডাবল লাইনে (বিদ্যমান একটি লাইনের পাশে আরেকটি লাইন) রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে রেলপথের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কনটেইনারবাহী একটি ট্রেনের গড় পরিচালন সময় ২২-২৪ ঘণ্টা। কিন্তু বর্তমানে বেশির ভাগ অংশ ডাবল লাইন হয়ে যাওয়ায় কনটেইনারবাহী ট্রেনের পরিচালন সময় ৭-৮ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব। ফলে আমদানি ও রফতানিকারকরা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই মালামাল পরিবহন করতে পারবেন।

এদিকে রেলপথে পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক। তিনি জানান- একসময় নৌ ও রেলপথেই পণ্য পরিবহন করা হতো। এখন ওই দুটি পথ মৃতপ্রায়। রেলপথ মন্ত্রণালয় বন্দরের কনটেইনার পরিবহন বাড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়। এর ফলে সড়ক ও মহাসড়কের ওপর চাপ কমে আসবে। তাতে রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারের উপযোগী থাকবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই গোমতী ও মেঘনা সেতুর কাছে পণ্যবাহী গাড়ির ওজন পরিমাপের জন্য ডিজিটাল এক্সেল লোড কন্ট্রোল যন্ত্র স্থাপন করা হবে। যাতে করে অতিরিক্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়। এর ফলে রেল ও নৌপথে পণ্য পরিবহন আরো বাড়বে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন জানান- কনটেইনার ও মালামাল পরিবহনের জন্য রেলওয়ে কনটেইনার সার্ভিস করপোরেশন নামের নতুন কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রস্তাবটি আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যেই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে। তারপর জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধন করে নতুন কোম্পানির কার্যক্রম শুরু করা যাবে। আর কোম্পানির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর রেলপথে কনটেইনার পরিবহন অনেক বেড়ে যাবে। তাতে মহাসড়কের ওপর ভারি গাড়ির চাপ কমবে এবং সড়ক কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সাথে রেলের আয়ও অনেক বাড়বে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩