রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

র‌্যাবের ভ্যাট আদায়ের খবরে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৩ পিএম

র‌্যাবের ভ্যাট আদায়ের খবরে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে

নিজস্ব প্রতিবেদক

র‌্যাবের ভ্যাট আদায়ের খবরে ব্যবসায়ী সমাজ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। র‌্যাবের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের উদ্যোগ অযৌক্তিক। আমাদের হয়রানি করলে ব্যবসা করতে পারব না।  বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমন মন্তব্য করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

সভায় সংগঠনটির নেতারা জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি জানানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি, ঋণের সুদ হার কমানো, কারখানার উপযুক্ত জমির ব্যবস্থা করাসহ একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন।

রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সংগঠনের পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, জ্বালানি সমস্যা বিনিয়োগে অন্যতম বাধা । নতুন গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস যেখানে আছে, সেখানে জমির দাম আকাশছোঁয়া। জ্বালানি তেলের দামও কমছে না। সরকার যদি গ্যাস দিতে না পারে তাহলে গ্যাসের দামে তেল দিক। দরকার হলে গ্যাসের দামও কিছুটা বাড়াক। তা না হলে বিনিয়োগ বাড়বে না।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস দিয়ে পণ্য তৈরি করতে ১০ টাকা খরচ হলে জ্বালানি তেলে ১৫ টাকা লাগবে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। এখনই দেশের বাজারে কমানোর সুযোগ। বিনিয়োগ ও কর্মসংসস্থানের জন্য সরকারকে এ সিদ্ধান্ত  নেয়া উচিত।

আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড)-কে বলেছি, ১ টাকার ভ্যাট দিতে গিয়ে ৩ টাকার হয়রানি চাই না। আমরা লিগ্যাল স্ট্যাটাস বের করেছি। এ স্ট্যাটাসের বাইরে চেক করা যাবে না। আমাদের অশান্তি করলে আমরা ব্যবসা করতে পারব না।

এফবিসিসিআই’র প্রথম সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলারে ঠেকেছে। এখনই দেশের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার সময়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কারখানার জন্য জমি পাওয়া কঠিন। দামও অনেক। পৃথিবীর কোথাও এত দাম নেই। সুদের হারও বেশি। এগুলো কমলে উৎপাদন খরচ কমত। তাতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ত।

গতবছর সেপ্টেম্বরে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানালেও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক অনুষ্ঠানে এর বিপক্ষে মত দেন। এরপর ওই মাসেই ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেলের দাম না কমানোর ইঙ্গিত দেন। অবশ্য চলতি মাসের শুরুতে অর্থমন্ত্রী মুহিত জানান, জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নীতিমালা করার পরই সরকার দাম পুনর্নির্ধারণ করবে।

সংগঠনের পরিচালক আবু নাসের বলেন, রাজনৈতিক হানাহানি মুক্ত পরিবেশ থাকলে ২০১৬ সাল হবে বিনিয়োগের বছর। তবে এজন্য জ্বালানি, অবকাঠামো খাতে সরকারকে বিনিয়োগ করতে হবে।

সংগঠনটির পরিচালক শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘নিরাপত্তা, শান্তি শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে কেউ টাকা নিয়ে বিদেশে যাবে না। দেশে এখন যারা অনেক বড় হয়েছে তাদের কেউ কেউ হয়ত সন্তানদের কথা ভাবে। আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হলে এরকম হবে না। আর আস্থাহীনতা তৈরি হলে পুঁজি পাচার হবেই।’

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩