শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

লাগাম টানুন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

লাগাম টানুন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটকের খুব কাছে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছেন ওই কারাগারেরই সদ্য বিদায়ী সার্জেন্ট ইন্সপেক্টর। একটি ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কেনার সময় আক্রান্ত হন তিনি। এখানেও দুর্বৃত্তদের আগমন মোটরসাইকেলে। এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে গেছে তারা। পুলিশ আটক করেছে ওষুধের দোকানের মালিককে। কারা কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত না করে বলা যাবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পরই কাশিমপুর কারাগারের মূল ফটকের কাছাকাছি এলাকায় দিনের বেলায় এ ধরনের ঘটনা আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কি নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করল? প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে যে খবর আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, দেশে খুনখারাবি থেমে নেই। গত সাড়ে তিন মাসে দেড় হাজারের মতো খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চলতি মাসের ২০ দিনেই ঘটেছে প্রায় ৩৫০টি হত্যাকাণ্ড।

এসব কিসের আলামত? কোন দিকে যাচ্ছে দেশ? দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু একের পর এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। অপরাধপ্রবণতাও দিন দিন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা ধরা না পড়ার ঘটনা যেন বিচারহীনতার বার্তাই দিচ্ছে।

রোববার গভীর রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক হত্যা মামলার দুই আসামিকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যেভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, তাতে সচেতন মানুষমাত্রই আজ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। খুনখারাবির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। ফলে জনমনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তীব্র হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সামগ্রিক আস্থাহীনতা তৈরি হবে, যার ফল হবে ভয়াবহ। তাতে লাভবান হবে ষড়যন্ত্রকারীরা। 

ধারণা করা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে এভাবে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাইছে ষড়যন্ত্রকারীরা। সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে চাইছে। যখন দেশের অর্থনীতি অগ্রসরমাণ, প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী, রাজনৈতিক অস্থিরতা একেবারেই নেই─ এমন অবস্থায় গুপ্তহত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্লগার কিংবা অ্যাকটিভিস্ট ছেড়ে এবার তাই বেছে নেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে, যাতে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কাশিমপুর কারাগারের সামনে গুলি করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সক্রিয় করতে হবে। বাড়াতে হবে গোয়েন্দা তৎপরতাও। এই দেশ অপরাধীদের অভয়ারণ্য হতে পারে না।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে জনগণের আস্থায় চিড় ধরতে বেশি সময় লাগবে না। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে কালক্ষেপণ করবে না।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩