বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

লাভের মুখ দেখছে এবার লবণ চাষীরা

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

লাভের মুখ দেখছে এবার লবণ চাষীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের লবণ চাষীরা এবার লাভের মুখ দেখছে। তাতে তারা খুশি। গত মৌসুমে লবণ চাষীরা প্রতি যে প্রতি মণ লবণ দেড়শ’ টাকায় বিক্রি করতে পারেনি, এবার সেই লবণ মাঠেই বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকায়। এ দামে দেশের হাজার হাজার লবণচাষি বেশ খুশি মনে চাষাবাদ করছে। বিসিক ও লবণ চাষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এদেশে কক্সবাজার জেলাতেই সবচেয়ে বেশি লবণ চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু বিগত কয়েকটি মৌসুমেই লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত লবণের যথাযথ দাম পায়নি। সেজন্য তাদের পক্ষে বিপুল পরিমাণ লবণও বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠেই স্তূপ স্তূপ লবণ পড়েছিল। কারণ অধিকাংশ চাষিই লবণ মাঠ  খালি রেখে দিয়েছিল। কিন্তু সে অবস্থা বদলে গেছে। চলতি মৌসুমে শুধু লবণ জমিই নয়, ধানি জমিতেও লবণ চাষের জন্য চাষিদের মধ্যে কাড়াকাড়ি চলছে। আর মাঠের লবণ মাঠেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। লবণ কিনতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ক্রেতারা ভিড় করছেন।
সূত্র জানায়, বিগত বছরগুলোতে চোরাই পথে মিয়ানমার থেকে লবণ আসায় এবং সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করায় বিপুল পরিমাণ দেশিয় লবণ অবিক্রিত থেকে যায়। কিন্তু চলতি বছর ওই পরিস্থিতি না থাকায় লবণের যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন চাষীরা। আর লবণের বাজারমূল্য বাড়ায় এবার লবণ উৎপাদনের দিকে চাষিরা ঝুঁকছেন। পরিষ্কার সাদা লবণের চাহিদা বেশি থাকায় চাষিরা সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাঠে পলিথিন ব্যবহার করে লবণ চাষ করছে। ফলে কানিপ্রতি বাড়তি একমণ লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। অর্থাৎ আগে যেখানে কানিপ্রতি আড়াই মণ লবণ উৎপাদিত হতো, এখন সেখানে সাড়ে ৩ মণ লবণ উৎপাদন হচ্ছে। বাড়তি লবণ উৎপাদন এবং যথাযথ দাম নিয়ে লবণচাষি, জমির মালিক, বিক্রেতা ও স্থানীয় দালালদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বর্তমানে মণপ্রতি লবণ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়।
সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের (বিসিক) বাঁশখালীর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাঁশখালীর সরল, ছনুয়া, শীলকূপ (আংশিক), শেখেরখীল, চাম্বল (আংশিক), গরুামারা ও কাথারিয়া এলাকায় প্রতিবছর ৭ হাজার ২৫৬ একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে জমির পরিমাণ ৮ হাজার একরের বেশি। এখনো নতুন করে ধানি জমিতে লবণ উৎপাদনের কাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী মে মাস পর্যন্ত পুরোদমে চলবে লবণ উৎপাদন। ওসব জমিতে অন্তত ৪০ হাজার চাষি লবণ উৎপাদন করে থাকেন।
লবণ উৎপাদন ও দাম প্রসঙ্গে বাঁশখালীর বিসিকের সহকারী পরিদর্শক হাসিব আহসান বলেন, চাষিরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য পেয়ে উৎসবের আমেজে লবণ চাষাবাদ করছেন। ধানি জমিতে ধানচাষ বাদ দিয়ে অনেকে লবণচাষ করায় লবণ চাষাবাদের জমির পরিমাণও বেড়েছে। ফলে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার অধিক লবণ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩