শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

শিন পেনকে দেওয়া গোপন ইন্টারভিউই ‘এল চ্যাপো&r

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৩৪ পিএম

শিন পেনকে দেওয়া গোপন ইন্টারভিউই ‘এল চ্যাপো&r

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও রাজনীতিক শিন পেনকে দেওয়া গোপন ইন্টারভিউই এল চ্যাপো’র জন্য কাল হলো। জেল পালানোর ছয় মাসের মধ্যে মেক্সিকোর মাদক সম্রাট জোকুইন গুজম্যান ওরফে এল চ্যাপো তৃতীয়বার গ্রেফতার হওয়ার পেছনে ওই ইন্টারভিউ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছে মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ।

রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনের এক রিপোর্টে বলা হয়, এল চ্যাপো গোপানে শিন পেনকে ইন্টারভিউ দিয়েছেন, যা নিশ্চিত করেন মেক্সিকান অভিনেত্রী কেট দেল কাস্তিল্লো।ম্যাগাজিনটি তাদের ওয়েবসাইটে সাক্ষাতকারটির দুই মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। যাতে দেখা যায়, নীল রঙের প্রিন্টের শার্ট পরিহিত এল চ্যাপো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন।
এসময় শেন পেনের সঙ্গে এল চ্যাপোর  করদর্মন করতে দেখা যায়।এল চ্যাপোকে প্রশ্ন করা হলো বিশ্বব্যাপী মানুষের মাদকাসক্তের পেছনে আপনি দায়ী কি? সাক্ষাতকারের এক পর্যায়ে এমন প্রশ্নের উত্তরে এল চ্যাপো বলেন, না, এটি মিথ্যা, যখন আমি এ ধরনের কাজে জড়িত ছিলাম না তখন কোনো অংশে তা কমে যায়নি।  মাদক চোরাচালান? মিথ্যা।

এদিকে, মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল এরিলি গোমেজ বলেন, শিন পেনের সঙ্গে গুজম্যানের (এল চ্যাপো) ইন্টাভিউ  তার অবস্থান নিশ্চিতে আমাদের সাহায্য করেছে।শনিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক ডেনা নিয়েটো এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, মিশন শেষ। আমরা তাকে আটক করেছি।এর আগে গত ১১ জুলাই মেক্সিকো সিটির ৫৫ মাইল পশ্চিমের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত হাইসিকিউরিটি আলটিপ্লানো কারাগার থেকে গায়েব হয়ে যান এল চ্যাপো।

সে সময় দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, কারাগারের নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলোর নজরদারি থেকে হঠাৎ গায়েব হয়ে যান চ্যাপো। খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে তার কক্ষের ভেতরে ৩৩ ফুট গভীর একটি সিঁড়ি দেখতে পান নিরাপত্তারক্ষীরা। এই সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ছিল দেড় কিলোমিটার।

গুজম্যানের এ গ্রেফতারকে প্রেসিডেন্ট পেনা নিয়েতো ‘আইনের শাসনের জয়’ বলে মন্তব্য করে বলেছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে মেক্সিকো। তিনি আরও জানান, সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের বন্দরনগরী লস মোকিসে সেনা, নৌ ও পুলিশ বাহিনীর এক যৌথ অভিযানে এল চ্যাপোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর আগে গত জুলাইয়ে জেল পালানোর আগে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এল চ্যাপোকে দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতার করা হয়।

এ দফায় পালানোর পর তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে মেক্সিকো সরকার। ঘোষিত অর্থের পরিমাণ ৬০ মিলিয়ন পেসো (২৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা)। তার আগে ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো আটক করা হয় চ্যাপোকে। ২০০১ সালে একটি হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে লন্ড্রির ঝুড়িতে করে পালিয়েছিলেন তিনি। এল চ্যাপো মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক চক্র সিনালোয়া কার্টেলের প্রধান। সিনালোয়া কার্টেল চোরাচালান, মাদক ও অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত কুখ্যাত একটি আন্তর্জাতিক চক্র। আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী চ্যাপো মাদক পাচারের আয় দিয়েই ফোর্বস ম্যাগাজিনে বিলিওনারদের তালিকায় উঠে এসেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোভিত্তিক অন্ধকার জগতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে এল চ্যাপো আলোচনায় আছেন দীর্ঘদিন। ২০১৪ সালে আটকের আগে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ‘পাবলিক এনিমি’ আখ্যা দেয় এবং তাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। পারিবারিক জীবনে এই মাদক সম্রাট তার বিভিন্ন স্ত্রীর ১০ সন্তানের বাবা।

সোনালীনিউজ/ঢাকা

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩