শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭, ২ পৌষ ১৪২৪

শিশু একাডেমিতে ১০ দিনব্যাপী বইমেলা

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৬ পিএম

শিশু একাডেমিতে ১০ দিনব্যাপী বইমেলা

সোনালীনিউজ ডেস্ক

জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ৬ষ্ঠ বারের মতো বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ১০ দিনব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। বইমেলায় ৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘নতুন বই পড়বো বেশ, গড়বো সোনার বাংলাদেশ’

শুক্রবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১টায় বইমেলা উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ‘১৭ই মার্চ জাতির জনকের জন্মদিন/এই দিবস বেঁচে থাকবে চিরদিন’ ও ‘জাতির জনকের জন্মদিনে টুঙ্গিপাড়া গাঁয়, জয় বাংলা গান গাইয়ো বন্ধু...’ মনমাতানো গান ও নৃত্য পরিবেশন করে শিশুশিল্পীরা। অনুষ্ঠানে জাতির জনকের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং আগত অতিথিদেরকে বঙ্গবন্ধুর ছবি উপহার দেওয়া হয়।

ড. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শিশু একডেমির বইমেলা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। আজকে তোমরা যারা এখানে রয়েছ তোমাদের উপরে দায়িত্ব পড়বে আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া এবং সেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হলে তোমাদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষায় নিজেদেরকে পরিপূর্ণ করতে হবে। সে কারণেই বইয়ের সাথে সংযোগ, বইয়ের সাথে সম্পর্ক সবসময় সাথে থাকতে হবে। বইমেলা তোমাদেরকে এই যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করে।’

কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বই একটি আলোর কারখানা। বইমেলায় অভিভবকরা শিশুদের হতে বই তুলে দিবে তাহলে শিশুদের বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে আলোকিত ও সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে তৈরি করবে।’

স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি, সেই স্বপ্নের অনেক কাছাকাছি আমরা পৌঁছেছি কিন্তু অনেক স্বপ্ন এখনো বাকি রয়ে গেছে। সে স্বপ্নে পৌঁছাবার জন্য শিশুদের সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের শিশুদের হাতে বই তুলে দিতে হবে।’

প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যনাট্য, নৃত্য-সঙ্গীত, পাপেট শো, ত্রিমাত্রিক শো ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন রয়েছে।

প্রতিদিন শহীদ মতিউর মুক্তমঞ্চে অংশ নেবেন দেশের বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বইমেলায় বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের শিশুতোষ বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইও স্থান পেয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখ্ত, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন ও বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমি বইমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও গ্রন্থাগারিক রেজিনা আক্তার এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সহযোগিতায় বইমেলা চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত। মেলা প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন