শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

শিশু ধর্ষণ : এরাও তবে মানুষ?

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

শিশু ধর্ষণ : এরাও তবে মানুষ?

অসভ্য যুগে যে কুকীর্তির স্বাক্ষী হতে হয়নি ধরাবাসীকে, তেমন কুকীর্তি এই সভ্য যুগে অহরহ ঘটছে। যে শিশুটি বুঝতেই শিখলো না, মানুষের জৈবিক চাহিদা বলে কোনো তাড়না আছে। আর সেই ‘তাড়না’ কিংবা লালসা যাই বলুন না কেন, তার প্রয়োগ ঘটে শিশুদের ওপর। প্রতিনিয়ত পাশবিকতার চরম সীমা অতিক্রম করে চলেছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা।

ওহে মানুষ! তোমরা পশুর পাশবিকতাকেও হার মানালে তবে? ধর্ষণের পর অবুঝ ওই শিশুটিকে খুন করে তার দেহ গুম করে রাখা হচ্ছে। মানবিকতা, মন্ষ্যুত্ব, বিবেক বোধের এমন অধঃপতনের স্বাক্ষী বোধ হয় কোনো সভ্যতাই ঘটেনি, যেমনটা বিকৃত হচ্ছে চলমান সমাজ-সভ্যতায়। ধর্ষণ করা যায়নি বলে, দু’ক্লাসে পড়ুয়া ফুটফুটে শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করতে একবারও বুক কাঁপেনি মানুষরূপি সেই অ-মানুষের। মানুষের এমন অধোঃগতি কিভাবে ঘটল, সে বিষয়ের উত্তর দেবে কে?

মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের শিশুটি যখন শিক্ষক, চাচা-মামা কিংবা অন্য কারো দ্বারা ধর্ষিতা হওয়ার সংবাদ শুনি, তখন লজ্জায়-ঘৃণায় চিৎকার করতে কাঁদতে ইচ্ছে করে। এই কি তবে মানুষ? সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব? কোন পশুর রক্ত এদের শরীরে প্রবাহিত হলে এরা এমন ‘কীর্তি’ ঘটায়। শুধু মেয়ে শিশু নয়, এসব নরপশুদের কবল থেকে রক্ষা ছেলে শিশুরাও। ছেলে শিশুকে বলৎকার করতেও পিছপা হচ্ছে না নরপশুরা।

ধর্ষকের একমাত্র শাস্তির বিধান হোক মৃত্যুদন্ড। সমাজ পরিচালকরা ভাবুন, সমাজের শৃঙ্খলা রোধ করতে বোধ হয় এর বিকল্প নাই। যারা দেবশিশুদের ধর্ষণ-হত্যা করতে দ্বিধা করে না, তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে কেন? এসব নপুংসকদের প্রকাশ্যে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে দেয়া হোক। মানুষ শিক্ষা গ্রহন করুক। ভীতির সঞ্চার হোক। মাত্র দু’তিন ক্লাসে পড়ুয়া শিশুরাও যাদের লালায়িত দৃষ্টি থেকে রক্ষা পায় না, তাদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। ওদের বাঁচতে দিলে, বংশবৃদ্ধির সুযোগ দিলে মানব সমাজে কেবল অমানুষ-পশুতুল্য জীবের বিস্তার ঘটবে।

শুধু শিশু নয়, যে কোনো বয়সের নারীকেই পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে। ধর্ষকের পরিচয় হোক একটাই, সে কেবলই ধর্ষক। সে কোনো মানুষের সন্তান নয়, পিতা নয়, পুত্র নয়, নয় ভাইও। ধর্ষণ রোধে ধর্ষকদের ব্যাপারে রাষ্ট্র যদি কঠোরতা না দেখায় তবে সমাজে ক্ষতের গভীরতা বাড়তেই থাকবে। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে লড়তে হবে কঠোরভাবে। কোনো ধর্ষক যেন প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে না যায়, খেয়াল রাখতে হবে সেদিকেও। আসুন সচেতনতা, সুশিক্ষা এবং সুশাসন দিয়েই গড়ে তুলি আমাদের আগামীর প্রজন্ম।

সোনালীনিউজ/ঢাকা

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩