সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

শুধুমাত্র শাকসবজি খেলেও শরীরে জমতে পারে চর্বি!

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৩ পিএম

শুধুমাত্র শাকসবজি খেলেও শরীরে জমতে পারে চর্বি!

সোনালীনিউজ ডেস্ক
শাকসবজি খেলে চর্বি হয়না কথাটা পুরোপুরিভাবে সঠিক নয়। আমরা যতটুক খাই সে অনুযায়ী পরিশ্রম না করলে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত খাদ্য চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে। সে যে ধরনের খাবারই হোক না কেন।

সব ধরণের উদ্ভিদজাত খাবারেই প্রধানত সেলুলোজ এবং গ্লুকোজ থাকে। মজার ব্যাপার হল মানুষ সহ বেশিরভাগ স্তন্যপায়ীর পরিপাকতন্ত্র এবং টিস্যু এই প্রাথমিক খাদ্য উপাদান গুলোকে বিভিন্ন এনজাইমের সাহাজ্যে পরিবর্তনের মাধ্যমে চর্বিতে পরিনত করতে পারে।

অর্থাৎ বেঁচে থাকা, বৃদ্ধি ও ক্ষয় পূরনের কাজে যতটুক খাদ্য লাগে ততটুক ব্যাবহার করে বাকি খাদ্য (শর্করা /গ্লুকোজ) চর্বি হিসেবে শরীরের বিভিন্ন জায়গাতে ( বিশেষত যকৃত এবং রক্ত নালিতে) জমা হতে পারে। সুতরাং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিশ্রম না করলে যতই শাকসবজি গ্রহন করুন লাভ নেই, শরীরে চর্বি জমতে পারে।
তাহলে কেন ডাক্তার বা পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা মেদ বা চর্বি কমাতে বেশি করে শাকসবজি খেতে বলেন?

কারণ প্রানিজ আমিষ যেমন বিফ বা প্রন হচ্ছে উচ্চ আমিষ ও চর্বি যুক্ত খাবার যার একটি অংশ আমাদের পাকস্থলীতে গিয়ে বিশেষ কোন পরিবর্তন ছাড়াই চর্বি হিসেবে শরীরে যোগ হয়। এবং এই বিফ (গরুর মাংস) এর চর্বি আমাদের শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হিসেবে জমতে পারে যা হৃদরোগ সহ বহু ভয়ংকর রোগের অন্যতম প্রধান কারন।

আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে যে কেউ চাইলেই নিয়মিত ব্যায়াম ও খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরের মেদ ও কোলেস্টেরল কমাতে পারে। খাদ্য তালিকায় মাংসের পরিবর্তে শাকসবজির কথাটা এখানেই বলা হয়। বেশিরভাগ শাকসবজিতেই প্রচুর ফাইবার থাকে যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহাজ্য করে।

এখানে লক্ষণীয় যে, মাংসের পরিবর্তে শুধু শাক খেলেই কিন্তু চর্বি কমবেনা, সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম বা পরিশ্রমও আবশ্যক। তাছাড়া আমাদের বাচার জন্য আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন ও পানি এই সব গুলো উপাদানই সমান প্রয়োজনীয়।

তাই বাইরে থেকে তেল বা চর্বি (স্নেহ জাতীয় খাবার) যথেষ্ট না খেলেও অনেক ক্ষেত্রে শরীর তার প্রয়োজন অনুযায়ী বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় এসব তৈরি করে নেয়।
গরু তো ঘাস খায়, তাহলে গরুর মাংসে এত চর্বি কেন?

গরুর বিপাক ক্রিয়া আর মানুষের বিপাক ক্রিয়া কিন্তু এক নয়। গরুর পরিপাক তন্ত্রের চেয়ে মানুষের রিপাকতন্ত্র অনেক শক্তিশালি ও কৌশলী। লক্ষ করুন গরু কেবল মাত্র ঘাস লতা আর শষ্যের খোসা খায় সেখানে মানুষ বলতে গেলে সবই খায়। সুতরাং গরুর শারীরিক খাদ্য চাহিদা এই ঘাস লতার থেকেই মেটাতে হয়।

যেসব গরুর অনেক চর্বি হয় সেগুলো দিয়ে মুলত কোন কাজ করানো হয়না পক্ষান্তরে প্রায় সারাদিনই (জবাই করার আগ পর্যন্ত) এদের ব্যুফে চলতে থাকে। ফলে তাদের শরীরের সঞ্চিত খাদ্য ধীরে ধীরে চর্বিতে রূপান্তরিত হয় । আর এটাই তৃণভোজীর শরীরে চর্বি জমার কারন ।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩