শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

সংকটের মধ্যেও চলছে অবৈধ গ্যাসলাইন সংযোগ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৩ পিএম

সংকটের মধ্যেও চলছে অবৈধ গ্যাসলাইন সংযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি

ফুরিয়ে আসছে দেশের গ্যাস সম্পদ। কিন্তু রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে লাখ লাখ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজধানী আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাসের অবৈধ পাইপলাইনের পরিমাণ ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি। ওই অবৈধ লাইন থেকেই বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। এজন্য ইতঃপূর্বে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি তিতাস গ্যাসের এক অনুসন্ধানে ওই অবৈধ পাইপলাইনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আর অবৈধ লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ ১৫ লাখ ঘনফুট। তিতাস গ্যাস সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে সম্প্রতিক অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন উচ্ছেদ কার্যক্রম বিষয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন অনতিবিলম্বে অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইন উচ্ছেদে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ অবস্থায় তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে অবৈধ লাইনের চিত্রসহ সার্বিক তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এখনো বড় ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে- অবৈধ গ্যাসলাইন স্থাপনের সাথে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তিতাসের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীই জড়িত থাকায় উচ্ছেদ অভিযানে তেমন ফল আসে না।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সংকটের কারণে বৈধ গ্রাহকরাই নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। শিল্পসহ বাসাবাড়িতেও গ্যাসের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অবৈধ গ্যাসের ব্যবহার। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশ এলাকায় তিতাসের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অবৈধভাবে নিম্নমানের পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে লক্ষাধিক গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। তাতে ক্ষুদ্র শিল্প-বাণিজ্য ও আবাসিক খাতের গ্রাহক রয়েছেন। অবৈধ গ্যাসলাইনের এলাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, বন্দর থানা, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া. নরসিংদীর পলাশ, কাঞ্চন, গাজীপুরের কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর, ময়মনসিংহের জয়দেবপুর রোড এলাকা; আশুলিয়ার বিকেএসপি এলাকা, রাজধানী ঢাকার জিঞ্জিরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, গাবতলীর বেড়িবাঁধ এলাকা, ডেমরা, নন্দীপাড়াসহ সাভারের বিভিন্ন এলাকা।

সূত্র আরো জানায়, অবৈধ গ্যাসলাইন উচ্ছেদে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে গত ডিসেম্বর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত জ্বালানি মন্ত্রণালয় একাধিকবার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু ছোটখাটো কিছু অভিযান ছাড়া কার্যকর তেমন কোনো অভিযান এখনো পরিচালিত হয়নি। এখনো ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, সাভার কালিয়াকৈরে অবৈধ গ্যাসলাইনের অস্তিত্ব বহাল রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলাতেই দীর্ঘ অবৈধ গ্যাসলাইন রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতো নারায়ণগঞ্জের খুব বেশি পরিমাণ অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেই। যা আছে তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। পাশাপাশি চিহ্নিত করা অবৈধ সংযোগের ১১টি উৎসমুখের মধ্যে ৭টি উৎস নিয়ন্ত্রণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তারা আবার তিতাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ কারণে অনেক অবৈধ গ্রাহকের বিরুদ্ধে ইচ্ছা থাকলেও ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, তিতাস গ্যাস অফিসের কতিপয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। আর ওসব অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদাররা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছে। মাইলের পর মাইল পাইপ বসিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়ার নাম করে ইতঃমধ্যে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। আর গ্রাহকরাও দ্রুত লাইন পেতে অসাধু ওই চক্রের ফাঁদে পা দিচ্ছে। কারণ সাধারণ গ্রাহকদের বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ পেতে ঠিকাদার ও তিতাসের পেছনে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। কিন্তু চাহিদামতো টাকা দিলেই অবৈধ সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অবৈধ ওসব সংযোগ থেকে বিভিন্ন স্থানেই মাঝেমধ্যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।

অন্যদিকে তিতাস গ্যাসের সাভার এরিয়ার ডেপুটি ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পাইপ জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানের বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ কমিটির সভাপতি কামরুল হাসান মোল্লা জানান, সাভারে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে নিয়মিতভাবে এ কাজ করবে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। কমিটি তাদের সহযোগিতা করবে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩