শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

সত্য হয়েছে ভূমিকম্পের ৮০ ভাগ পূর্বাভাসই

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

সত্য হয়েছে ভূমিকম্পের ৮০ ভাগ পূর্বাভাসই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বড় ধরনের চারটি ভূমিকম্প হয়ে গেছে গত এক সপ্তাহের মধ্যে। এর কোনো কোনোটায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক হারে। বিভিন্ন সময়ে ভূমিকম্পের আগে ভূ-বিজ্ঞানীদের পূর্ভাবাস দিতে দেখা যায়। তাদের দেওয়া এমন পূর্বাভাস অক্ষরে অক্ষরে না মিললেও শতকরা ৮০ ভাগই সত্য হয়েছে এ পর্যন্ত।

গেল সপ্তাহে মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত আনে। অপরদিকে জাপান এবং ইকুয়েডরে বড় মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে জীবন এবং সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

বৃষ্টি, ঝড়, বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ভূমিকম্পেরও পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হবে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের কল্যাণে। গত দু’বছরে বারবার বড় আর মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প দেখেছে বিশ্ববাসী। গত বছর এপ্রিলে ঘটে যাওয়া নেপালের ভূমিকম্প এবং অতি সম্প্রতি জাপান ও ইকুয়েডরের কম্পন চিন্তা বাড়িয়েছে।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ভূগর্ভে অস্বাভাবিক কিছু ঘটার লক্ষণ নেই। বরং অনেক আগে থেকেই বুঝে নেয়া যাচ্ছে, কোন অঞ্চলে ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা আয়নোস্ফেরিক সায়েন্সের কল্যাণেই প্রায় নির্ভুলভাবে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিচ্ছে। ভূমিকম্পনের অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে সেই আভাস দিতে পারেন আয়নোস্ফেরিক সায়েন্সের বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের সত্যেন্দ্রনাথ বসু জাতীয় মৌল বিজ্ঞান কেন্দ্রের সিনিয়র অধ্যাপক সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে একটা বিশেষ অস্বাভাবিকতা থেকে বোঝা যায়, ভূমিকম্প আসতে চলেছে। আয়নোস্ফিয়ারের সবচেয়ে নিচের স্তরে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলেই বোঝা যায়, কম্পন হবে। উপযুক্ত পরিকাঠামো ব্যবহার করলে এটাও বোঝা যায় যে পৃথিবীর ঠিক কোন অঞ্চলে এই কম্পন অনুভূত হবে।

আয়নোস্ফেরিক সায়েন্সের বিশেষজ্ঞরা জানান, বায়ুমণ্ডলের আয়ন স্তরে যে সব গ্যাস রয়েছে, সেগুলো আয়নীয় অবস্থায় থাকে। প্রচণ্ড তাপের কারণে অণুগুলো থেকে ইলেকট্রন ছিটকে বেরিয়ে যায়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং অবলোহিত রশ্মি আয়নোস্ফিয়ারের তাপ বাড়িয়ে দেয়। তার জেরেই গ্যাসের অণু থেকে ইলেকট্রন ছিটকে বেরিয়ে প্রচুর আয়ন তৈরি হয় এবং পাশাপাশি প্রচুর ইলেকট্রন সেখানে মুক্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকে।

স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীর যে অংশে যখন দিন, সেই অংশের উপরের আয়নোস্ফিয়ারে তখন মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা বেশি হয়। যে অংশে রাত, সেখানে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা কম হয়। শুধু তাই নয়, আয়নোস্ফিয়ারের উপরের অংশ বেশি তপ্ত হওয়ায় সেখানে মুক্ত ইলেকট্রন যে সংখ্যায় থাকে, তলার দিকের স্তরে তার চেয়ে ওই সংখ্যা অনেক কম থাকে। আয়নোস্ফেরিক সায়েন্স বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর বা ডি রিজিয়নের ইলেকট্রন সংখ্যা দেখেই বলে দিতে পারে, ভূকম্পের পূর্বাভাস।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি দেখা যায় রাতেও আয়নোস্ফিয়ারের ডি রিজিয়নে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি, তা হলে বুঝতে হবে সূর্যরশ্মির কারণে নয়, ভূগর্ভ থেকে নির্গত র্যাডন গ্যাসের কারণে সেটা হয়েছে। এই গ্যাস ভূগর্ভের বিভিন্ন খাঁজে জমে থাকে। টেকটনিক প্লেট নড়াচড়া করলে ওই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। তা সোজা আয়নোস্ফিয়ারে পৌঁছে ডি রিজিয়নে আটকায়। সেই গ্যাসের অণু থেকেও ইলেকট্রন মুক্ত হতে থাকে এবং ডি রিজিয়নে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।

আয়নোস্ফিয়ারের যে অংশে এই অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, সেই অংশের নিচে পৃথিবীর কোন দেশ রয়েছে তা খতিয়ে দেখেন বিজ্ঞানীরা। সেই দেশে বা তার আশপাশে অবস্থিত টেকটনিক প্লেটেই যে নড়াচড়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায় এবং বিজ্ঞানীরা বলে দেন, কোথায় কম্পন হবে। কম্পনের ৭২ ঘণ্টা আগেই এই আভাস দেওয়া যায়।

উল্লেখ্য, নেপালে বিধ্বংসী কম্পন কিংবা জাপানের ভূমিকম্প উভয় ক্ষেত্রেই আগে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল ভূ-বিজ্ঞানীরা।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩