মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭, ১৩ চৈত্র ১৪২৩

সব সময় নিষিদ্ধ যে ১০ ছবি!

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

সব সময় নিষিদ্ধ যে ১০ ছবি!

বিনোদন ডেস্ক
চলচ্চিত্রে সব সময়ই বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ছবি নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। নিষিদ্ধ হওয়ার পিছনে হয়ত কখনো রাজনৈতিক, কখনো করে ব্যক্তিগত জীবনী নিয়ে, কখনো অশ্লীলতাসহ নানা কারন থাকতে পারে। সাধারণত কোনো সিনেমাকে প্রাথমিকভাবে নিষিদ্ধ করা হলেও পরবর্তীকালে বিতর্কিত অংশের কাটছাঁটের পরই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় প্রদর্শনীর জন্য। কিন্তু এমন কিছু সিনেমা আছে যেগুলো এতটাই বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি প্রদর্শনীর জন্য। এই আয়োজনে থাকছে তেমনি ১০টি বিতর্কিত ছবির কথা। তালিকাটি করা হয়েছে নিষিদ্ধের প্রকৃতি, সমালোচকদের ভাষ্য, সর্বোপরি সিনেমাগুলোর জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে।

০১. দি এক্সরসিস্ট

‘দি এক্সরসিস্ট’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। অনেক চলচ্চিত্র সমালোচক এই সিনেমাকে ইতিহাসের সর্বাধিক ভয়ংকর সিনেমা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ভয়াবহতার তীব্রতা এবং ধর্মীয় কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ হলেও ছবিটি মুক্তির পর আয় করে ৪৪১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। হরর ঘরানার এই সিনেমা মানবমনকে এতটাই প্রভাবিত করে যে অনেক থিয়েটারেই এই সিনেমা চালানোর সময় ভয়ে অজ্ঞান হয়েছেন অনেকেই, হয়েছেন হিস্টিরিয়াগ্রস্তও।

অশুভ আত্মার প্রভাবে আচ্ছন্ন এক কিশোরীকে নিয়েই আবর্তিত হয় ‘দি এক্সরসিস্ট’-এর গল্প। আর তাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া নানা রোমহর্ষক কাহিনী নিয়েই এগিয়ে যায় সিনেমার গল্প। বলতে গেলে ভয় পাওয়ার জন্য সবগুলো বিষয়ই নিয়ে ছবিটি একেবারে পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।

০২. দ্য টেক্সাস চেইনস ম্যাসাকার  

১৯৭৪ সালে নির্মিত ‘দ্য টেক্সাস চেইনস ম্যাসাকার’ সিনেমাটি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই নিষিদ্ব করা হয় অনেক দেশে। মাত্রারিতিক্ত সহিংসতা প্রদর্শনের অভিযোগে অনেক হল, থিয়েটারই বাধ্য হয় প্রদর্শনী বন্ধ করতে। অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় আর দর্শক আকর্ষণের জন্য ছবিটিকে বাস্তব কাহিনী বলে প্রচার করা হলেও পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ছবির কাহিনী সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এড গেইন নামক একজন ভয়াবহ সিরিয়াল কিলারের জীবন কাহিনী অবলম্বনে নির্মাণ করা হয় এই ছবি, যে কিনা হত্যার পর ‘টোকেন’ হিসেবে রেখে দিত নিহতের শরীরের চামড়া, মাথাসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আর জমা করত তার বাড়িতে।

এই ছবিতে দেখা গেছে, পাঁচ বন্ধু বেড়াতে যায় তাদের দাদার বাসায় আর তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে অনুসরণ করে মুখোশ আঁটা বিশাল দেহী এক খুনি। নিষ্ঠুর আর ভয়ংকরভাবে একে একে সবাইকে খুন করে এই খুনি আর এসব নিয়েই গল্প ছবিটির। ‘স্ল্যাশার’ ঘরানার জন্ম দেওয়া এই ছবি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হলেও আয় করে প্রচুর পরিমাণে।

০৩. ক্যানিবাল হলোকাস্ট

৫০টিরও বেশি দেশে নিষিদ্ধ ‘ক্যানিবাল হলোকাস্ট’ ছবির নির্মিত হয় ইতালিতে। মুক্তির পরপরই খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় ছবির পরিচালক রোজেরো দিওদাতাকে। যদিও পরবর্তী সময়ে নির্দোষ প্রমাণিত হন তিনি। ছবিটির শুটিং হয় অ্যামাজনের গহিন জঙ্গলে আর এতে অভিনয় করেন সত্যিকারের আদিবাসীরা। একজন নির্মাতা অ্যামাজনের গভীর জঙ্গলে যান আদিবাসীদের ওপর একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণের কাজে, তারপর হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যান। তাঁকে খুঁজতে সেখানে পাঠানো হয় একটি উদ্ধারকারী দল, তাঁরা খুঁজে পান উধাও হওয়া নির্মাতার কিছু ফুটেজ। এরপরই দুর্ভাগ্য খুঁজে নেয় তাদেরও।

০৪. দ্য এভিল ডেড

১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য এভিল ডেড’ ছবিটি গল্প বলে পাঁচ বন্ধুর। ছুটি কাটাতে যারা যায় গভীর জঙ্গলের ভেতরে এক নির্জন কুটিরে। কুড়িয়ে পাওয়া একটি অডিওটেপ থেকে উদ্ভূত ভূতের আক্রমণে তাদের ছুটি পরিণত হয় ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। কম বাজেটের এই ‘স্ল্যাশার’ ছবি প্রশংসিত হয় সমালোচক মহলে, বক্স অফিসেও পায় সফলতা। কিন্তু বিপত্তি বাধে এর অতিমাত্রায় গ্রাফিক সহিংসতা আর ভয়াবহতার কারণে। ফিনল্যান্ড, জার্মানি আয়ারল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশে নিষিদ্ধ করা হয় ‘দ্য এভিল ডেড’।

০৫. ন্যাচারাল বর্ন কিলারস

অলিভার স্টোনের পরিচালনায় এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। ‘স্পেক-স্ক্রিনপ্লে’ ধাঁচের এই ছবির কাহিনী লেখেন প্রখ্যাত পরিচালক কোয়ান্টিন তারান্তিনো। গল্পটি ছিল চার্লস স্টার্কোয়েদার আর ক্যারিল ফিউগেট নামক এক প্রেমিক যুগলের জীবন অবলম্বনে, যারা জড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ এক মৃত্যুখেলার সঙ্গে। ‘খুন’ বা সহিংসতাকে মহত্ত্ব প্রদানের চেষ্টার ব্যাপক অভিযোগ উঠে আসে ছবিটির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কিছু বাস্তব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া যায় এই ছবির কাহিনীর। এসব অভিযোগের কারণে আয়ারল্যান্ডে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয় এই ছবি। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কাটছাঁটের পর অনুমতি পায় প্রদর্শনের।

০৬. এ সার্বিয়ান ফিল্ম

স্পেন, নরওয়ে ও ব্রাজিলে নিষিদ্ধ ‘এ সার্বিয়ান ফিল্ম’ নিঃসন্দেহে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম। চাইল্ড রেপ, ইনসেস্ট, নিক্রোফিলিয়া এবং খুনোখুনির ছড়াছড়িকে নিষিদ্ধ করার পেছনে কারণ হিসেবে দেখানো হয়। ছবির গল্প এগোয় একজন পড়তি বয়সের পর্নোস্টারকে ঘিরে, যে এই পেশা থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার বহুদিন পর অর্থাভাবে হঠাৎ করেই চুক্তিবদ্ধ হয় একটি বিশেষ ফিল্মের জন্য। কিন্তু পরিচালকের মনে খেলা করে ভিন্ন পরিকল্পনা আর তা যখন বুঝতে পারে এই অভিনেতা ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে অনেক। এখান থেকে ফেরারও কোনো পথ থাকে না।

০৭. স্কাম

৭০-এর দশকের দিকে ব্রিটিশ অল্প বয়সী তরুণদের অপরাধ সংশোধনাগারগুলোর কঠিন আর নির্মম জীবন নিয়ে নির্মিত ‘স্কাম’। ছবিজুড়ে রেসিজম, গ্যাং রেপ, আত্মহত্যা এবং সংঘর্ষের ছড়াছড়ি আর আধিক্যের জন্য ছবিটির টিভি প্রদর্শনী নিষিদ্ধ হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৯ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয় এই ছবি, যেটিতে তরুণ রে উইন্সটন অভিনয় করেন ‘কারলিন’ চরিত্রে। মজার বিষয় হলো, এই পুনর্নির্মিত ভার্সনটিও নিষিদ্ধ হয়; যদিও পরে আদালতের রায়ে যুক্তরাজ্যে প্রচারের স্বীকৃতি পায় স্কাম। তৎকালীন ব্রিটিশ সংশোধনালয়গুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন আর নেতৃত্বের লড়াইয়ের বাস্তবচিত্রকে সফলভাবে তুলে ধরতে পারার জন্য পরবর্তীতে প্রচুর প্রশংসা কুড়ায় পরের ভার্সনটি। বিশেষ করে উইনস্টনের অভিনয় নজর কাড়ে দর্শক-সমালোচকদের।

০৮. দ্য হিউম্যান সেন্টিপেড

মজার বিষয় হলো, এই ছবিটি প্রদর্শনের অনুমতিই পায় হাতে গোনা দুয়েকটি দেশে। এ ছাড়া পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এটি নিষিদ্ধ করা হয়। ছবিটিকে স্রেফ নির্মাতা টম সিক্সের ‘অসুস্থ’ চিন্তাভাবনার ফসল হিসেবেই বলে থাকেন বেশির ভাগ চলচ্চিত্র সমালোচক। ছবির গল্পে দেখা যায়, এক পাগলাটে বিজ্ঞানী কিডন্যাপ করেন তিনজন আমেরিকান পর্যটককে আর সার্জারির মাধ্যমে তাদের জুড়ে দেন একসঙ্গে, যেখানে দুটি মানুষের সংযোগ -একজনের মুখ থেকে অন্যজনের পায়ুপথে। গল্পের নিষ্ঠুরতা আর অসুস্থ প্লটের জন্য ব্যাপক সমালোচিত ‘দ্য হিউম্যান সেন্টিপেড’। পরবর্তীকালে এই ছবির দুটি সিক্যুয়েলও নির্মাণ করা হয়, সেগুলোও বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ করা হয়।

০৯. মাইকি

১৯৯২ সালে মুক্তির পর থেকে আজ অবধি যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ এই ছবি। ছবিতে থাকা নির্যাতন আর হত্যার কয়েকটি বীভৎস গ্রাফিক দৃশ্য ছাড়াও ১৯৯৩ সালের জেমস বুলজার হত্যার বাস্তবিক কাহিনী চিত্রায়ন করার কারণে নিষিদ্ধ হয় এই ছবির প্রদর্শনী। ছবির গল্প এগোয় নয় বছর বয়সী সোশিওপ্যাথ মাইকি হল্টকে নিয়ে, যে হত্যা করে তার পালক বাবা-মাকে, একই সঙ্গে তাদেরও যারা টের পেয়ে যায় মাইকির খুনে স্বভাব।

১০. গ্রোটেস্ক  

জাপানিজ স্প্ল্যাটার হরর ঘরানার এই ছবি মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। ছবির গল্প এক তরুণ যুগলকে কেন্দ্র করে, যাদের কিডন্যাপ করা হয় ডেট থেকে এবং এরপরই তাদের ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। চোখ উপড়ে ফেলার মতো অনেক ভয়াবহ ফুটেজের কারণে এই ছবিকে নিষিদ্ধ করা হয় যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে।

 

সোনালীনিউজ/ঢাকা/মে

 

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
add-sm
Sonali Tissue
মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭, ১৩ চৈত্র ১৪২৩