রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

সমালোচনার ভয়ে ভুগছেন ক্ষমতাসীনরা

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৬ পিএম

সমালোচনার ভয়ে ভুগছেন ক্ষমতাসীনরা

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও আগামী ধাপের নির্বাচনগুলোতে দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসুক তা চায় না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই নিয়ে সমালোচনার ভয়ে ভুগছেন ক্ষমতাসীনরা। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা যতো বাড়ছে সমালোচনার ভয় ততো বেশি জেঁকে বসতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগের ভেতরে। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে রাশ টানতে চায় দলটি। ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন অর্ধেকের বেশি সংসদ সদস্য। এই নিয়েও সমালোচনার তুমুল ঝড় উঠে। এছাড়াও ডিসেম্বরে সমাপ্ত পৌর নির্বাচনেও ফেনীর পরশুরামসহ বেশ কিছু পৌরসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। ওই পৌরসভাগুলোতেও প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে এসব প্রার্থী ও তাদের সমর্থক দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা য়ায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা আর বাড়তে দিতে চায় না শাসক দল। এ পদ্ধতিতে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের বাইরে আগামী ধাপগুলোতে যাতে আর কেউ এই সুযোগ না পায় সেজন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইউপি নির্বাচন তদারকির দায়িত্বে থাকা দুই জন নেতা এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক তা চায় আওয়ামী লীগ। কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসুক এটা আমাদের কাছে প্রত্যাশিত নয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে আমরা গুরুত্বসহকারে নিয়েছি। আগামী ধাপগুলোতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসার সংখ্যা কমে আসবে।

ওই দুই নেতা আরও বলেন, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকেও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আসতে হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসা নিয়ে যে সমালোচনা চলছে তা একপেশে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো আরও জানায়, বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক যে দূরাবস্থা চলছে তাতে করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মনোনয়ন নিতে পারলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন-এটা নিশ্চিত। জনগণ এখন আওয়ামী লীগের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া সমালোচনার একটি ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। প্রতিপক্ষ গ্রুপটি নির্বাচন কমিশনেরও সমালোচনা করতে শুরু করেছে। মূলত নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে সরকার বিরোধীরা। তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া বন্ধ করতে চায় আওয়ামী লীগ।

সম্পাদকমণ্ডলীর এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোক তা চায় না। অবশ্য, এক্ষেত্রে বিএনপি যদি মাঠ ছেড়ে দেয় তাহলে তো আর কিছু করার নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই সবাইকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে এ পর্যন্ত প্রায় দুইশটি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ইস্যুটি ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহল ও সুশীল সমাজে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। তবে ক্ষমতাসীনরা এই সমালোচনাকে নেহায়েত বিরোধিতা হিসেবে নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য সাংবাদিকদের বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ পর্যন্ত আমাদের দলের যারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তাদের প্রতিপক্ষ কেউ প্রার্থী হননি। এতে তো আওয়ামী লীগের সমালোচনার কিছু নেই। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়ার মতো নেতা না থাকলে আমরা তো জোর করে সে দলের কাউকে প্রার্থী করে দিতে পারি না। নাসিম বলেন, বিএনপির যে দৈন্যদশা চলছে তাতে করে সারাদেশে এই চিত্রই হওয়ার কথা।

জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর অপর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, সমালোচনা বা সমালোচকদের আওয়ামী লীগ সমীহ করে, ভয় নয়। তিনি বলেন, আমরা চাই গঠনমূলক সমালোচনা। বিশেষ উদ্দেশ্য নিহিত থাকে এমন সমালোচনা আমরা চাই না। তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় হল আমরা গঠনমূলক সমালোচনা দেখতে পাই না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা প্রার্থী না হলে বা দলগুলো প্রার্থী খুঁজে না পেলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ তো নির্বাচিত হবেই। 

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উৎসবমুখর করে তুলতে সব দল দলীয় প্রার্থী দেবে। তাহলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ থাকবে না। 

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩