শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সঙ্কট, ব্যাহত পাঠদান

সোনালীনিউজ রিপোর্ট | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সঙ্কট, ব্যাহত পাঠদান

দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো ভয়াবহ শিক্ষক সঙ্কটে ভুগছে। এ কারণে ওসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বড় ও পুরনো কয়েকটি মেডিকেল কলেজ ছাড়া ঢাকার বাইরের ১৮টি মেডিকেল কলেজেই ভয়াবহ শিক্ষক সঙ্কটে রয়েছে। ওসব কলেজে শিক্ষকের ৪০ শতাংশের বেশি পদ শূন্য। তাছাড়া নতুন মেডিকেল কলেজগুলোতে এখনো অনেক পদ সৃষ্টিই করা হয়নি। ফলে ওসব কলেজে পাঠদান ও অন্যান্য শিক্ষাকার্যক্রম প্রায় বন্ধের পথে। 

এই পরিস্থিতিতে সরকার জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র-জুুনিয়র চিকিৎসকদের দিয়ে পাঠদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সরকারের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চিকিৎসক ও শিক্ষক সংকটে থাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঢাকার কাউকে বদলি করা হলেও উচ্চপর্যায়ে তদবির করে তারা ঢাকাতেই থেকে যাচ্ছেন। তাদেও অনেকের পক্ষেই স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), আবার কারো পক্ষে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতারা অবস্থান নিচ্ছেন। আবার অনেকে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠালেও সেখানে থাকছেন না।

ফলে অধিকাংশ সরকারি মেডিকেল কলেজে বেসিক সায়েন্সের কোর্স অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফার্মাকোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, এপিডেমিওলজি, কমিউনিটি মেডিসিন, ফরেনসিক মেডিসিনসহ বিভিন্ন কোর্সে পড়ানোর শিক্ষক নেই।

শিক্ষক সঙ্কটে থাকা ওসব মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষরা বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। সে প্রেক্ষিতে সরকার জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র-জুুনিয়র চিকিৎসকদের দিয়ে পাঠদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, কয়েকটি মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংযুক্ত জেনারেল/সদর হাসপাতালসমূহের সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালটেন্টদের নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বিষয়ভিত্তিক একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বপালনকারী বিধি মোতাবেক দায়িত্বভাতা পাবেন।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। যদিও কনসালটেন্টরা জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাদানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্যারামেডিকস কোর্সের ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের দিয়ে এমবিবিএস কোর্সের পাঠদানে বিশেষজ্ঞরা নানা শঙ্কা দেখছেন।

সূত্র জানায়, দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা ছুটি, মেডিকেল শিক্ষকদের ঢাকামুখিতা, কাগজে-কলমে উপস্থিত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকা- ইত্যাদি কারণে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে শিঙ্কট সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তাছাড়া সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা না করেই নতুন বেশকিছু মেডিকেল কলেজ চালুর ফলেও শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬শ’র বেশি বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে ছিল। যার প্রায় অর্ধেকই সহকারী, সহযোগী ও অধ্যাপক। তাদের অনেকেই কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত রাজধানীতে অবস্থান করছেন। তাছাড়া প্রভাষক পদের অনেকেই শিক্ষা ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

সূত্র আরো জানায়, নতুন কার্যক্রম শুরু হওয়া কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল সংযুক্ত রয়েছে। তাছাড়া অনেক মেডিকেল কলেজের এখনো পূর্ণাঙ্গ ভবন তৈরি হয়নি। নেই অন্য অবকাঠামোও। এমনকি বেশিরভাগ জায়গায় শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদই এখনো সৃষ্টি হয়নি। যেমন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে শিক্ষকদের কোনো পদ সৃষ্টি হয়নি।

অথচ ইতিমধ্যে ১ম ও ২য় ব্যাচে ৫১ জন করে মোট ১০২ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে এনাটমিক, ফিজিওলজি ও বায়োক্যামেস্ট্রি বিভাগে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে কোনো রকমে কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তর করা হলেও সেখানে নেই শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নেই। কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের চিত্রও একই রকম।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে ২৫০ শয্যার মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালকে অস্থায়ীভাবে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে পড়ানোর মতো উপযুক্ত শিক্ষক তৈরি করতে হবে। কনসালটেন্টদের দিয়ে শিক্ষার্থী পড়ানো হলে শিক্ষা ও চিকিৎসা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা ভবিষ্যৎ চিকিৎসাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ এ রশিদ জানান, মেডিকেল শিক্ষায় প্রচুর চিকিৎসক সঙ্কট রয়েছে। বড় মেডিকেল কলেজগুলো ছাড়া বেশিরভাগ মেডিকেল কলেজে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। গড়ে ২৫ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। কোথায় কতোজন শিক্ষক সংকট রয়েছে জানতে সারাদেশ থেকে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এখনও সব তথ্য আসেনি। তাই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ৪০ ভাগের মতো শিক্ষক ঘাটতি রয়েছে এটা নিশ্চিত।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩