শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

সরকারের প্রবৃদ্ধির দাবির সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের দ্বিম

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

সরকারের প্রবৃদ্ধির দাবির সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের দ্বিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি হবে বলে দাবি করেছে সরকার। কিন্তু এর সঙ্গে মত হতে পারছে না ব্যাংক। তারা এ  দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার থেকে ছয় মাসে অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচক ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতিও কম। পাশাপাশি নিম্নমুখি ব্যক্তিখাতে ভোগ প্রবৃদ্ধি। এসবের প্রভাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬.৩ শতাংশ। ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস স্প্রিং ২০১৬: ফেডিং টেইলউইন্ডস’ শীর্ষক প্রতিবেদন গতকাল প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে, অর্থবছরের শুরুতে আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, এডিপি বাস্তবায়ন, ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রভৃতি খাতে ধীরগতি দেখা গেছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট, ব্যবসা করার উচ্চব্যয় ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বহাল থাকায় বেসরকারি বিনিয়োগেও খুব বেশি গতি দেখা যায়নি। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। সব মিলিয়ে অর্থবছরের শুরুতে অর্থনৈতিক সূচকগুলো যতটা শক্তিশালী ছিল, নয় মাস পর তা আর বজায় থাকেনি।

বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছর ব্যক্তিখাতে ভোগ প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩.১ শতাংশ, গত অর্থবছর যা ছিল ৫.৪ শতাংশ। বেতন-ভাতা শতভাগ বৃদ্ধির ফলে সরকারি ব্যয় প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ২০.২ শতাংশ। রপ্তানি ও আমদানি উভয় খাতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে যথাক্রমে ১৫.৫ এবং ১৩.২ শতাংশ। আর সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৩ শতাংশ। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়াবে ৬.৬ শতাংশ।

যদিও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ৭.০৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করেছে সরকার। গত অর্থবছরের শেষ তিন মাস ও চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে এ প্রাক্কলন দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। আর মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৬.২ শতাংশ। যদিও বিবিএসের হিসাবে মার্চ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫.৬৫ শতাংশ। আগের মাসের তুলনায় এটি কিছুটা বেড়েছে।

গত অর্থবছর কৃষিতে প্রবৃদ্ধি কমলেও চলতি অর্থবছর তা বাড়বে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর এ খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৯ শতাংশ, গত অর্থবছর যা ছিল ৩ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে দাঁড়াবে ৯.৭ শতাংশ। তবে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি অনেকটাই কমে দাঁড়াবে ৫.১ শতাংশ। গত অর্থবছর এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৮ শতাংশ।

বিবিএসের হিসাবে, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ২.৬ শতাংশ, শিল্প খাতে ১০.১ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৬.৭ শতাংশ। এছাড়া চলতি অর্থবছর দেশে মোট জিডিপির ২৯.৬৮ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে। গত অর্থবছর এ হার ছিল ২৮. ৮৯ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, আমদানি হ্রাস ও রপ্তানি বৃদ্ধির প্রভাবে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ফিরে আসবে। তার পরও বাহ্যিক খাতে দুর্বলতা রয়ে গেছে। আমদানি মূল্য হ্রাস, করনীতি ও প্রশাসনে দুর্বলতা রাজস্ব আহরণে ঘাটতির বড় কারণ। আর রাজস্ব আহরণে ঘাটতি ও বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদায় দুর্বলতা সামষ্টিক ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রভাবে আগামী অর্থবছর প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা বাড়বে। ফলে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে ৭.২শতাংশ। তবে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়বে বলেও মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

সুদের হার হ্রাস, মূল্যস্ফীতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকা, বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত মজুদ মিলিয়ে অর্থনীতি মোটামুটি স্থিতিশীল বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাণিজ্য ও আর্থিক ধাক্কাকে অর্থনীতির জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এছাড়া অবকাঠামো বাধা দূর করে ও ব্যবসায়িক নীতিমালা সমন্বয়ের মাধ্যমে বেসরকারি খাতে গতি ফিরিয়ে আনাকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকটা টেকসই আকার ধারণ করেছে। ফলে উদীয়মান ও উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ প্রভাবিত হয়নি। এমনকি রাজনৈতিক অস্থিরতা, কাঠামোগত বাধা ইত্যাদি সত্ত্বেও গত এক দশকে গড়ে ৬.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, গত বছর জুনে বিশ্বব্যাংক ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল ৬.৩ শতাংশ। অক্টোবরে তা বাড়িয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ করা হয়। তবে এখন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আগের অবস্থানে নিয়ে গেল সংস্থাটি।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩