বুধবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫

সাধারণ মানুষকে ভুগিয়েছে নিত্যপণ্যের বাজার

দ্বীন ইসলাম আরিয়ান | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার ০২:৫২ পিএম

সাধারণ মানুষকে ভুগিয়েছে নিত্যপণ্যের বাজার

ঢাকা: বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজার সাধারণ মানুষকে ভুগিয়েছে। বাজারে গিয়ে চাহিদা ও সামর্থ্যের মধ্যে তাল মেলাতে পারেননি ক্রেতারা। নিম্ন আয়ের অনেক মানুষকে তিন বেলা প্রয়োজনীয় খাবার জোটাতেও হিমশিম খেতে হয়। কখনো চাল, কখনো পেঁয়াজ, কখনোবা রসুনের দাম বেড়েছে। কাঁচামরিচ-শাকসবজিও ছিল না পিছিয়ে। তেল, আটার দামও ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

সূত্র মতে, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি। কারণ দাম বাড়ার পেছনে সঙ্কটের চেয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজিই ছিল বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায় কয়েকটি পণ্য। কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ে প্রায় তিনশ’ শতাংশের মতো। তবে কয়েকটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। এ চিত্র খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)।

২০১৭ সালে ভোক্তাদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে চাল। বছরের শুরু থেকে পণ্যটির দাম বাড়তে থাকে। ৩৮ টাকার মোটা চাল বছরের শুরু থেকেই লাফিয়ে লাফিয়ে কেজিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫২-৫৪ টাকায়। আর সরু চালের দাম ৭২-৭৪ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির হিসাবে এখন চাল কেজিপ্রতি ৪০-৬৫ টাকা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩৮-৫৬ টাকা। বছরজুড়ে বেড়েছে ২-১১ টাকা। একইভাবে সাধারণ মানের নাজির ও মিনিকেট ৫৬-৬২ টাকা, যা আগে ছিল ৪৪-৪৮ টাকা। বেড়েছে ১২-১৪ টাকা। ভালো মানের নাজির ও মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা, যা আগে ছিল ৪৮-৫৬ টাকা। বেড়েছে ৯-১২ টাকা। মাঝারি মানের চাল ৪৮-৫৪, যা আগে ছিল ৪০-৪৫ টাকা। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৪২-৪৬ টাকা, যা আগে ছিল ৩৫-৩৮ টাকা। বেড়েছে ৭-৮ টাকা। তবে সরকারি এ হিসাবের সঙ্গে বিরাট অসংগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে খুচরা ও পাইকারি বাজারে। এখানে টিসিবির ৫৬-৬৫ টাকার উন্নতমানের নাজির ও মিনিকেট পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬৬ টাকায়। এতেই পার্থক্য বেরিয়ে এলো কেজিতে ১-২ টাকা। আর খুচরাতে এ পার্থক্য আরো ভয়াবহ। খুচরা বাজারে একই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৮ টাকা।

রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী সোহেল চৌধুরী বলেন, কখনো প্রাকৃতিক কারণ আবার কখনো কৃত্রিম উপায়ে অর্থাৎ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালের দাম বাড়ানো হয়।

চলতি বছর জুলাইয়ের শেষভাগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকার ওপরে ওঠে। এরপর ভারত, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কয়েক মাস বাড়েনি। কোরবানি ঈদের আগে ও পরে কয়েক দফায় দাম বেড়ে এখন ৯০-১৩০ টাকা কেজি ছুঁয়েছে। এক বছরে এই পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৭০-১০০ টাকা। টিসিবির চার্ট অনুযায়ী বাজারে এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০-১২০ টাকা, যা গত বছরে ছিল ২০-৩০ টাকা। টিসিবির সূত্র অনুযায়ী এক বছরে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ৬০-৯০ টাকা।

রসুনের দাম মোটামুটি এখন নাগালের মধ্যে আছে। এখন দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ এবং ভারতীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। গত বছরের এই সময়ে দেশি রসুন ১৪০-১৫০ এবং ভারতীয় রসুন ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে পণ্যটি ক্রেতাদের গায়ে আগুন লাগিয়েছিল। চলতি বছরের জুনে হঠাৎ কয়েক দফা দাম বেড়ে ৪০০ টাকা কেজি ছাড়িয়ে যায়।

এক বছরের ব্যবধানে তেলের দাম বেড়েছে ১৪-১৫ টাকা। গত বছরের অক্টোবরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল (প্রতি লিটার) ব্র্যান্ডভেদে ৯৪-৯৫ টাকা। এর কয়েক দিনের পর ছয়-সাত টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১০২ টাকা হয়। দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়। সে হিসেবে গত সপ্তাহেও বাজারে ব্র্যান্ডভেদে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যেত প্রতিলিটার ১০৫ থেকে ১০৭ টাকায়। বর্তমানে বাজারে এক লিটার বোতলজাত তেলের দাম রাখা হচ্ছে ১০৭-১০৯ টাকা। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৬ থেকে ৯০ টাকায়। পাম তেল ৭২-৭৫ ও সুপার পাম তেল ৭৫-৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবির তথ্য মতে, দেশে গত এক বছরের ব্যবধানে বোতলজাত তেলের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ। সয়াবিন তেল (লুজ) এক বছরে প্রতিলিটারে বেড়েছে ৩.৬৬ শতাংশ। সয়াবিন (বোতল) ৫ লিটার বেড়েছে ১৪.২৯ শতাংশ। সয়াবিন (বোতল) ১ লিটার বেড়েছে ১৪.২৯ শতাংশ। এ ছাড়া পাম অয়েল (লুজ) এক বছরে বেড়েছে ৬.৭৭ শতাংশ। পাম অয়েল (সুপার) ১ লিটার বেড়েছে ৭.৯৭ শতাংশ।

জানুয়ারি মাসে কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি ৪০ টাকা বিক্রি হলেও এপ্রিল মাস থেকে দাম বাড়তে থাকে। যা অক্টোবরে এসে দাড়ায় ২০০ টাকা কেজি। এদিকে বছরের দুই-তিন মাস সবজির দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও বাকি নয় মাসই ৬০ টাকা কেজির নিচে ছিল না কোনো সবজি।

সোনালীনিউজ/জেএ/এমটিআই