বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

সালাম এক মুমিনের প্রতি আরেক মুমিনের হক

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৪৩ পিএম

সালাম এক মুমিনের প্রতি আরেক মুমিনের হক

মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব আলী, সোনালীনিউজ
দুনিয়ার সব জাতির মধ্যে একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রথা চালু আছে। ইসলামে সালাম বিনিময় সে ধরনেই প্রথা। শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময়ে ইসলামে পারস্পরিক যে ভাষায় সম্ভাষণ করা হয় তা সর্বোত্তম।

এক মুমিনের সঙ্গে আরেক মুমিনের দেখা হলে সালাম দেওয়া একটি অবশ্য পালনীয় ইসলামি বিধান। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে এক মুমিনের প্রতি আরেক মুমিনের হক বলে অভিহিত করেছেন। সালামের প্রচলন শুরু হয়েছে হজরত আদম (আ.) থেকে।

বোখারি শরিফের ৭২১ নম্বর হাদিসে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন আল্লাহতায়ালা আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর একদল ফেরেশতার কাছে যেতে ও তাদের সালাম করতে বললেন। আরও বললেন তারা সালামের জবাব কীভাবে দেয় তা আপনি লক্ষ্য করবেন এবং ওই জবাব আপনার এবং আপনার বংশধরদের সালামের নিয়ম হবে। আদম (আ.) ফেরেশতাদের কাছে গিয়ে 'আসসালামু আলাইকুম' বলে সম্ভাষণ জানালেন।

প্রতিউত্তরে ফেরেশতারা ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বললেন। এক মুসলমান অপর মুসলমানকে দেখামাত্র আস্সালামু আলাইকুম অর্থাৎ 'আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক' বলে সম্ভাষণ করে। এ সম্ভাষণের মাধ্যমে পরিচিত, অপরিচিত, গরিব, ধনি, বয়স্ক, শিশু সবার শুভ কামনা করা হয়। এ সম্ভাষণ এক মুসলমানকে অপর মুসলমানের সঙ্গে আৎিদক সম্পর্কে আবদ্ধ করে।

এ সম্ভাষণের জবাব হিসেবে ওয়াআলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বা আপনার ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক বলে শুভ কামনা করা হয়। যা আৎিদক সম্পর্ক স্থাপনেরই তাগিদ দেয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারও সঙ্গে দেখা হলে সর্বাগ্রে তাকে সালাম দেওয়া পছন্দ করতেন। এমনকি তিনি শিশুদেরও সালাম দিতেন। আবু হুরাইয়া (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত মুমিন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

আর যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না। আমি তোমাদের এমন একটি বিষয়ের কথা বলব, যাতে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসার সৃষ্টি হবে। তোমাদের মাঝে সালামের প্রসার কর। (তিরমিজি)

লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব আলী, ইসলামি গবেষক।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩