শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

সিরিয়ার মাদায়া শহরে খাবারের অভাবে মৃতের সংখ্যা বাড়

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৩৪ পিএম

সিরিয়ার মাদায়া শহরে খাবারের অভাবে মৃতের সংখ্যা বাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

 

সিরিয়ার ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের কারণে গুলি-বোমায় দিন দিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে অনাহারে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যাও। এখন দেশটির অন্তত একটি শহরের মানুষ জীবন বাঁচাতে খাওয়ার জন্য লতা-পাতাও পাচ্ছে না বলে খবরে বলা হচ্ছে।

সিরিয়ায় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) নির্মূল করতে হবে বা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সরতে হবে এ নিয়ে যত আলোচনা বিশ্ব গণমাধ্যমে হয়, তার সিকি শতাংশও হয় না ক্ষুধার্ত মানুষগুলোকে নিয়ে। সেখানে যেন মানবতা হারিয়ে যায়।

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, সিরিয়ার মাদায়া শহরে খাবার না পেয়ে গত এক মাসে অন্তত ২৩ জন মানুষ মারা গেছেন। ওই এলাকায় ৪০ হাজার মানুষ ক্ষুধার্ত। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, গত সপ্তাহে ওই এলাকায় প্রতিদিন অনাহারে এক থেকে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে মানুষ লতা-পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করছে। এর সঙ্গে তুষারপাত যোগ হওয়ায় শহরটিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে এবং লেবানন সীমান্তের ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মাদায়া শহর। বেশ কয়েক মাস ধরেই সরকারি বাহিনী এবং তাদের মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে আছে এ শহরটি। বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গত জুলাই থেকে এই শহরের নিয়ন্ত্রণ সরকারপন্থীদের হাতে যায়। জাতিসংঘ বলছে, এই এলাকায় ৪২ হাজার লোক বন্দী অবস্থায় আছে। তবে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারের হিসেবে এই সংখ্যা ২০ হাজারের মতো হবে। চুক্তি অনুযায়ী শহরে খাদ্যসহ বিভিন্ন জিনিস প্রবেশে কিছু বিধিনিষেধ আছে। এ কারণে শহরটিতে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে।

গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে এই মাদায়া শহরে বাইরে থেকে কোনো খাবার ঢোকেনি। মরিয়া হয়ে সেখানকার অধিবাসীরা শিশুসহ কয়েকজনের ভঙ্গুর, কৃশ এবং কঙ্কালসার ছবি ইন্টারনেট ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেখানে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া একটি বেসরকারি সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার বলছে, ১ ডিসেম্বর থেকে ক্ষুধার কারণে বা না খেতে পেয়ে এখানে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আছে ছয়টি ছোট্ট শিশু, যাদের বয়স এক বছরের নিচে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারের পরিচালক ব্রাইস ডি লি ভিঙ্গু এই মাদায়া শহরকে ‘একটি খোলা কারাগার’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ শহর ছেড়ে যারা পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে তারা বুলেট বা ভূমি মাইনের প্রাণ হারাচ্ছে।

মাদায়া শহরের এক উদ্ধারকর্মী হাসান আবু সাদী দ্য ইনডিপেনডেন্টকে টেলিফোনে বলেন, এক সপ্তাহ ধরে ক্ষুধার কারণে দিনে একজন অথবা দুজন মারা যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে তুষার পড়ায় এখানে কোনো লতা-পাতা বা ঘাসের অস্তিত্ব নেই। এই শহরে লবণ ও পানি ছাড়া কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।’
খবরে বলা হয়েছে, মৃতের সংখ্যার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও এবং ছবি দেখে এর ভয়াবহতা বোঝা যায়। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একজন মা ১৬ মাস বয়সী কৃশকায় একটি মেয়েকে পানির সঙ্গে জ্যাম মিশিয়ে খাওয়াচ্ছেন। তিনি বলছেন, এর কারণ হলো ওই শিশুকে খাওয়ানোর মতো কোনো দুধ নেই। গত মঙ্গলবার প্রচারিত একটি ছবিতে অনাহারে মারা যাওয়া কঙ্কালসার একজন মানুষের মরদেহ দেখা যায়।

এদিকে মাদায়া শহরের চিত্র তুলে ধরে সাওয়াহাব আহমেদ নামের একজন বিবিসিকে বলেন, ‘না-খেতে পেয়ে বৃহস্পতিবার দুজন মারা গেছেন। দুই শ দিন ধরে মাদায়া অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এখানকার মানুষজন এখন মাটি, ঘাস, গাছের পাতা খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছে। খাবার আর অবশিষ্টই নেই। তুষারের কারণে এখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঘাস, পাতাও ক্রমশ শুকিয়ে আসছে।’

আবদুল রহমান নামে শহরের এক বাসিন্দার বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে আরও বলা হয়েছে, শহরে এখন কোনো কুকুর, বিড়াল জীবিত নেই। মানুষ খাবার না পেয়ে কুকুর, বিড়াল নিধন করে মাংস খাচ্ছে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩