বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

সৃষ্টির মাঝেই স্রস্টার পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

সৃষ্টির মাঝেই স্রস্টার পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়

মুহম্মদ সাইদূর রহমান, সোনালীনিউজ

ঢাকা : যুগে-যুগে বিশ্ব মানব থেকে প্রশ্ন এসেছে আল্লাহ্ কি? পরম জগৎ থেকে উত্তর এসেছে-আল্লাহ সেই সত্তা-যিনি বিশ্ব জগতের মহান অধিপতি রাজাধিরাজ। যিনি সৃষ্টিকর্তা লালন কর্তা ও রিজিকদাতা। তিনি এক ও অদ্বিতীয়, সর্বশক্তিমান সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক ও কেন্দ্রে বিন্দু। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই, তিনি একক ও লা-শারীক। তিনিই প্রথম তিনিই শেষ, তিনি আদি থেকে অনাদি, চিরস্থায়ী ও চিরজীবী। জীবন মৃত্য লয় সৃষ্টি তাঁর ইচ্ছা ও শক্তিতে সংঘটিত হয়-তিনিই আল্লাহ। আল্লাহেক বিভিন্ন ধর্ম বাণী ও জাতি গোষ্ঠী বিভিন্ন নামে উল্লেখ করেছেন। যেমন-আল্লাহ ইল্লো আল্লো ইলা খোদা রব্বুন রব্বনী গর্ড ঈশ্বর জগদীশ্বর মহেশ্বর ইত্যাদি বিশেসায়িত নামে ডাকা হয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর অনেকগুলি গুণ ও শক্তিবাচক উপনাম রয়েছে। যা বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন রহমান রহিম করিম রাজ্জাক ছাত্তার জব্বার সামিয়ুন বাসিরুন ইত্যাদি। বস্তত আল্লাহকে অবিশ্বাসের চেয়ে বিশ্বাস করাটাই বড় কঠিন। কারণ তিনি অদৃশ্যমান। মানুষ সাধারণ আর আল্লাহ অসাধারণ ও রহস্যময় কল্পনার বিষয়। যে বিষয়টা অদৃশ্যমান তাকে বিশ্বাসের মূলে ঠাঁই করে নেয়াও দুঃসাধ্য ব্যাপার। এজন্য যুগের মানষেরা বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে ভেসেছিলো। কেউ বিশ্বাস করেছে, কেউ বা করেনি। আবার কেউ জগৎ সৃষ্টিকে প্রকৃতীর খেয়ালিপনা মনে করে। আর আল্লাহর একত্ববাদ শক্তি ও সর্বভৌমত্ত্বের ওকালতনামায় ছিলেন আল্লাহর পরিচয় লাভকারী তাঁর শক্তি ও প্রত্যক্ষগুণ গরীমার প্রদর্শনকারী নবী রাসূল (স.) ও মহামানবগন। তাঁরা যদি আল্লাহর দর্শন ও বাস্তবসম্মত জ্ঞানের ধারণা না পেতেন, তবে কল্পনার বিশ্বাস ভেঙে যেতো এবং দিতে পারতো না দৃঢ়তার সাথে সত্যের দাওয়াত। আর এ পর্যায়ে পৌছাতে গিয়ে এসব অতিমানব ও মহামানবগনকে অনেক সাধ্যসাধন করতে হয়েছে এবং পেতে হয়েছে আল্লাহর অনুগ্রহ। তাঁদের পদাঙ্ক ও পথ নির্দেশনা পালন করে সাধারণ মানুষেরা ও পেতে পারে আল্লাহর পরিচয়, হতে পারে তাঁর নিকটবর্তী। কিন্তু তা কি করে সম্ভব! আল্লাহর পরিচয় পেতে হলে যে সাধনার প্রয়োজন। এক সময় মানবজাতিরা পূর্ব নবী রাসূলদের দেয়া পথ হারিয়ে আল্লাহর অস্তিত্ত্বকে অস্বীকার করে বসেছে এবং জাহেলীয়াত বা বর্বরতার চরম অন্ধকারে হয়েছে নিমজ্জিত। আল্লাহ্ বলতে একক কোনো সার্বভৌম ক্ষমতা সম্বন্ধে তারা ছিল অন্ধ ও নির্বোধ। স্রষ্টা বলতে বৃহৎ সৃষ্টিসমূহ অর্থাৎ চন্দ্র সূর্য পাহাড় সমুদ্র অগ্নিবায়ু এমনকি নানা দেব-দেবীর মূর্তীকে বাণীয়ে নিয়েছে কল্পিত স্রষ্ঠা নামে আরাধ্যের বিষয় ফলে তাদের জীবন ছিল বিষাদময়। পথ হারা মানবজাতির এই চরম দুঃর্দিনে বিশ্ব মানবের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ দেখা দিলেন আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বন্ধু রহমাতাল্লীল আলামিন ইমামূল মুরসালীন হযরত মুহম্মদ (স.)। কিন্তু তিনি নবী হয়ে জন্মালে কি হবে? তাকেও তো সাধনার মাধ্যমে নবুয়তীর পূর্ণতা ঘটাতে হবে। তিনি জাতির এ দুঃর্দিন ঘুচাতে হেরা পর্বতের গুহায় নিলেন আশ্রয়, ধ্যান সাধনার মধ্যে খুজলেন জগতের অধিপতি ও ত্রাণ কর্তাকে। এভাবে ১৫ বৎসর কেটে গেলে একদিন নেমে এলো ঐশ্বী বাণী ”(হে মুহম্মদ) পড় তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিন্ড হতে। পাঠ কর, আর তোমার রব অতিদানশীল। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষ যা জানতো না।” সূরা আলাক, আয়াত-১-৫) নবী মুহম্মদ (স.) জীবরাইলের মাধ্যমে আল্লাহর পরিচয় পেলেন ও প্রকম্পিত হয়ে লোকালয়ে চলে গেলেন। অতপর আদিষ্ট হলেন বিশ্ববাসির কাছে আল্লাহর পরিচয় তুরে ধরতে। তিনি লোকদের ডেকে বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। যিনি পরম করুণাময় ও দয়াময়। তিনি প্রতিদান দিবসের মালিক। আমরা আপনার ইবাদত করি এবং আপনার সাহায্য চাই। আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। যারা আপনার অনুগ্রহপ্রাপ্ত (সূরা ফাতিহা আয়াত-১-৬)। কিন্তু মানুষ চরম দাম্ভীক ও অহংকারী। যার সম্বন্ধে তাদের ধারণা নেই এবং যাকে তারা দেখেনি, এ দাওয়া তারা মানবে কেনো? আবার কেউ কেউ আল্লাহকে প্রমাণ সাপেক্ষে মানতে চেয়েছে। আল্লাহ বিষয়টা জানতে পেরে রাসূল (স.) কে জানিয়ে দিলেন, ”যারা অদৃশ্য থেকে আল্লাহকে বিশ্বাস করেও নামাজ কায়েম করে, আর আমার দেয়া রিজিক হতে দান করে। এরাই প্রতিপালকের পথে সফলকাম” (সূরা বাকারা, আয়াত ৩ ও ৫) এছাড়াও যখন খ্রীষ্ট বাদিদের পক্ষ হতে আল্লাহর অংশীদারিত্বের প্রশ্ন এসেছে, তখন বাণী এসেছে (হে রসূল) বলুন তিনি আল্লাহ এক। অবিনশ্বর চিরস্থায়ী চিরঞ্জিবী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেননি” (সুরা ইখলাছ)। (সংকলিত)

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩