বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

সোনায় বিনিয়োগকারীরাই বেশি লাভবান

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

সোনায় বিনিয়োগকারীরাই বেশি লাভবান

অর্থনীতি রিপোর্টার

আন্তর্জাতিক বাজারে দেড় মাস আগে গত ২১ ডিসেম্বর প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৮১ মার্কিন ডলার। ছয় বছরের মধ্যে সোনার এই দাম সর্বনিম্ন। অবশ্য বিশ্বের পণ্যবাজারে তার আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল, প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে হাজার ডলারের নিচে নেমে যাবে। সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু দ্রুতই পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে।

চলতি বছরের প্রথম ৩৬ দিনে সোনার দাম ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ১৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো পণ্যের চেয়ে সোনার দামই ঈর্ষণীয় হারে বেড়ে চলেছে। সব মিলিয়ে বছর শেষেও সোনায় বিনিয়োগকারীরাই বেশি লাভবান হবেন। যাঁরা ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ খ্যাত সোনা কিনে রাখবেন তাঁদের মুখেই হাসি থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশে প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ৪১ হাজার ২৯০ টাকা। এরপর দুই দফায় বেড়ে বর্তমানে প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৭৪০ টাকা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক খান গত সপ্তাহে বলেন, ‘সোনার দামে যখন ঊর্ধ্বগতি থাকে মানুষ তখন বেশি কেনে। আর দাম কমের দিকে থাকলে মানুষ অপেক্ষা করে, কখন দাম কমবে।’

চলতি বছরের শুরু থেকেই বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে সার্বিকভাবে দরপতনের প্রবণতা চলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের অন্যতম প্রধান সূচক ডাউ জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ১০০০ পয়েন্ট কমেছে। একই সময়ে সেই দেশের আরেকটি বড় সূচক নাসড্যাক কমেছে ৮ শতাংশ। শেয়ারবাজারের এই নেতিবাচক প্রবণতার বিপরীতে সোনার দামে অনেকটা উল্লম্ফন লক্ষ করা যাচ্ছে। তাই এখন সোনাই বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের বিনিয়োগ গবেষণা বিভাগের পরিচালক জোয়ান কার্লোস বলেন, বিশ্বের শেয়ারবাজারগুলো টালমাটাল অবস্থায় চলছে। তাই সুরক্ষিত মূলধন বাড়াতে সোনাই একমাত্র অবলম্বন হয়ে দেখা দিয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াতেও সোনা সুবিধাজনক স্থানে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের মার্ক ইনভেস্টমেন্টসের বর্তমান সম্পদের ২০ শতাংশই হচ্ছে সোনা। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা এক্সেল মার্ক বলেন, শিল্পে সোনার ব্যবহার কম। তাই বৈশ্বিক মন্দায় অন্য ধাতুর চেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এটি। তাই খেলায় জিতে গেছে সোনা।

এদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে মন্দাভাব চলছে। যে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম অনেক দিন ধরেই নিম্নমুখী রয়েছে। চলতি বছরে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ১৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ২৬ ডলারে নেমে গেছে। তামা ও পলেডিয়াম নামক ধাতুর দামও নিশ্চিতভাবে কমে আসবে। ব্লুমবার্গ কমোডিটি ইনডেক্সে দেখা যায়, বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামালের দাম ১৯৯১ সালের পরে গত মাসেই সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পড়েছিল। ২০১১ সালে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। তখন প্রতি আউন্সের দাম বেড়ে ১ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়।

এখন থেকে ছয় সপ্তাহ আগে সোনার দাম কমে গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে যায়। অবশ্য এই দরপতনের পেছনে রয়েছে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব। কারণ, এর আগে নীতিনির্ধারণী সুদের হার শূন্যের কাছাকাছি থাকায় তা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ত্বরান্বিত করেছিল। তবে সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরায় তা সোনার জন্য খারাপ হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অন্যান্য কারণে এসব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে, বেড়েছে সোনার দাম।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকস মনে করে না যে সোনার দাম ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি ধারণা করছে, সোনার সবচেয়ে বড় দুই বাজার চীন ও ভারতে চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই সোনার দাম বেড়ে চলতি বছর শেষে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার হতে পারে। সূত্র: সিএনএন মানি ও রয়টার্স

সোনালীনিউজ/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩