বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

স্কুল-কলেজের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সমানভাবে কার্যক

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

স্কুল-কলেজের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সমানভাবে কার্যক

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সুবিধা সমানভাবে সচল ও কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সে লক্ষ্যে নানা সঙ্কটে অকার্যকর হয়ে পড়া সারাদেশের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মনিটরিং মেনটরিং, টেকসই ও পুরোপুরি পুরোপুরি কার্যকর করতে ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ২৩ হাজারেরও বেশি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমকে সমানভাবে কার্যকর ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে ইতিমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) কাজ শুরু করেছে।

সেক্ষেত্রে সফটওয়্যার সমস্যা থেকে শুরু করে যে কোনো জটিলতা নিরসন ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিয়মিত তদারকি করতে আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এ্যাওয়ার্ডও দেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভৌত অবকাঠামোর অভাবের পাশাপাশি মনিটরিং ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পাঠদানের সুবিধা পাচ্ছে না। এমনকি অনেক বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা উপকরণ বাসায় নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

আবার অনেক স্কুল-কলেজের বেশিরভাগ ল্যাপটপ, ইন্টারনেট মডেম, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, প্রজেক্টরের স্ক্রিন এবং সাউন্ড সিস্টেম মাসের পর মাস অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া এমনও হচ্ছে- শিক্ষা উপকরণ দেয়ার দ’ বছর পরও প্যাকেটবা খুলে দেখেনি কর্তৃপক্ষ। 

এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিখন-শেখানো কার্যক্রমের গুণগতমান নিশ্চিত হচ্ছে না। শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতির মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম হলেও আশানুরূপভাবে তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম পরিচালনায় নিয়োজিত শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিরও পরামর্শ দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, দেশের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলোকে কার্যকর করতে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাচ্ছে সরকার। সে লক্ষ্যে উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। প্রতি বছরই উপ-পরিচালক, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রশিক্ষক ও শিক্ষকদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।

পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যাৎসাহী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তহবিল গঠনের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল ক্লাসরুমই পর্যায়ক্রমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণে নির্দেশ প্রদান ও উদ্বুদ্ধ করা হবে। ইতিমধ্যে মাউশি স্কুল-কলেজের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সচলের কাজ শুরু করেছে।

দেশে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলোকে অনলাইনে ম্যানেজমেন্ট, মনিটরিং ও মেনটরিং করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)  প্রোগ্রামের সহায়তায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নামে একটি অনলাইন ড্যাসবোর্ড তৈরি করা হয়েছে।

তাতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের শিক্ষকরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস সংক্রান্ত সব তথ্য আপলোড করবেন। প্রতিদিন সারাদেশের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সংশ্লিষ্টদের ওই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হবে। তাছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে হবে।

সূত্র আরো জানায়, সরকারের নতুন উদ্যোগের ফলে দেশের মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। কোনো শিক্ষক কাজে ফাঁকি দিতে পারবেন না কিংবা ব্যক্তিগত কাজে মাল্টিমিডিয়া উপরকরণ ব্যবহার করতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী গত ২ মার্চ দেশের ১২৫টি উপজেলায় আইসিটি ট্রেনিং এ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের তাৎপর্য বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়েই মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম রূপান্তরে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান।

এদিকে সরকারের নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন জানান, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের স্বচ্ছতা ও কার্যকর করতে ব্যাপক নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়। ক্লাসরুম মনিটরিং, মেনটরিং, টেকসই করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সে ব্যাপারে সারাদেশের সকল আঞ্চলিক উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করবেন। সফটওয়্যারের যে সমস্যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমাধান করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩