বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : তীব্র টানাপোড়নে বিএনপি-জা

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : তীব্র টানাপোড়নে বিএনপি-জা

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

জোটভুক্ত হলেও বিএনপির সাথে জামায়াতের টানাপোড়েন দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এমনকি বিএনপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করেও জামায়াতের নেতাদের পাওয়া যাচ্ছে না। মূলত ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকেই ২০ দলীয় জোটের প্রধান দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে। আর স্থানীয় সরকার পৌরসভা ও চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন কেন্দ্র কওে বিএনপির সাথে জামায়াতের দূরত্ব আরো বাড়ছে। জামায়াত ও বিএনপি সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী যেসব পৌরসভায় তাদের দলীয় মেয়র ছিল এবং যেসব পৌরসভায় বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ওসব আসনের কথা বিবেচেনা কওে ওই নির্বাচনে বিএনপির কাছে অর্ধশত আসন দাবি করেছিল। আর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও জামায়াতের দাবি ছিল সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা। তবে বিএনপি চেয়েছিল স্থানীয়ভাবে জামায়াতের সাথে সমঝোতায় আসতে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

ফলে স্বতন্ত্রভাবে জামায়াত প্রার্থী দিয়ে পৌরসভা ও চলমান ইউপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার জের ধওে নির্বাচনে থাকা না থাকার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক করে। ওই বৈঠকে অন্যান্য শরিক দল অংশ নিলেও জামায়াত অংশ নেয়নি। এর আগেও পরপর জোটের শীর্ষ নেতাদের দুটি বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কেউ অংশ নেননি।

সূত্র জানায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অনেক শরিক দলই জামায়াতে ইসলামীকে বেশি গুরুত্ব দেয়াকে ভালো চোখে দেখেন না। সাম্প্রতিক সময়ে জোটের একাধিক বৈঠকে জামায়াত নেতাদের অনুপস্থিতিতে অনেক শরিক দলের নেতারাই খুশি। তাদের মতে- জামায়াতের আগের মতো শক্তি এখন নেই। এখন ওই দলটির জোটে থাকা না থাকা নিয়ে কিছু যায়-আসে না। তবে তবে বিএনপি হাইকমান্ড মনে করে জামায়াতকে জোটে রাখা উচিত।

কারণ তাদেরও ভোট ব্যাংক রয়েছে। জোটে থাকলে এই ভোট বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে থাকবে। দেশের রাজশাহী, যশোর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর জলঢাকা, সৈয়দপুর, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, ফুলবাড়ী, গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, চারঘাট, তানোর, নওহাটা, নাটোরের সিংড়া, নলডাঙ্গা, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, বগুড়ার কাহালু, জয়পুরহাট, খুলনার পাইকগাছা, ঝিনাইদহের মহেশপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, সাতক্ষীরা, কলারোয়া, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কমলগঞ্জ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সীতাকুন্ড, পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চল মহেশখালী, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া এবং কক্সবাজার এলাকায় জামায়াতের প্রভাব বেশি। ওসব এলাকায় জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হবে জামায়াত নেতারা আশাবাদী। 

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নেই। দলটি ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে আপিল করায় বর্তমানে এখন আপিল বিভাগে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকরা এখন শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হলে দল কী করবে সেই বিকল্পের কথা ভাবছে। তারপরও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই চলমান ইউপি নির্বাচনে জামায়াত তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনতে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জামায়াতের তোয়াক্কা না করায় দলের নীতিনির্ধারকরা ক্ষুব্ধ। 

কারণ বিএনপির নেতারা বলছেন, দল নিষিদ্ধ হওয়ায় দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে জামায়াত। তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েই নির্বাচন করতে হবে। তারপরও যেসব আসনে ধানের শীষ প্রার্থী নেই সেখানে জামায়াতের প্রার্থীকে ছাড় দিতে রাজি ছিল বিএনপি। সেই লক্ষ্যে যেসব ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী নেই সেখানে জামায়াতকে প্রার্থী দিতে বলা হয়েছিল। যা স্থানীয়ভাবে আলোচনা সাপেক্ষে সমঝোতায় যাওয়া যেত। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী তাদের মতো করে প্রার্থী দিয়েছে। তারা একলা চলো নীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে জোটের বৈঠকে না যাওয়ার বিষয়ে জামায়াত নেতারা বলছেন- বিগত পৌরসভা নির্বাচন জোটগতভাবে হয়নি। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও জোটগতভাবে হচ্ছে না। সেখানে জোটের শরিক দলের বৈঠক করে নির্বাচনে থাকা না থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি। বরং বিএনপি নিজেরাই জামায়াতের ব্যাপারে দূরত্ব সৃষ্টি করতে চাইছে।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, বিএনপির সাথে জামায়াতের সম্পর্কের বিষয় স্পষ্ট করে বলা কঠিন। তবে এখনো জোট আছে। জোট ভাঙেনি। তবে দু’দলের মধ্যে আগের তুলনায় সমন্বয় কম। গত পৌরসভা নির্বাচন জামায়াত তাদের মতো করেছে। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও একইভাবে করছে তারা। যদিও ইউপি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারছে না। এমনকি বিএনপির ভোটাররাও কেন্দ্রে যেতে পারছে না। তাই যে যেভাবে পারছে তাদের মতো করে নির্বাচন করছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মনোনয়ন ঘিওে জোটের দুই প্রধান দলের মধ্যে টানাপোড়েন সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জামায়াতে ইসলামী ২০ দলীয় জোটের শরিক দল। ইউপি নির্বাচনের ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩