রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭, ৩ পৌষ ১৪২৪

স্বর্ণ ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রাসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার ০৫:৪৬ পিএম

স্বর্ণ ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রাসহ আটক ২

ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এবার স্বর্ণের চাকতি ও ৪ টি স্বর্ণের চুড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়ন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। ৩৪৭ গ্রাম ওজনের ওই চাকতি ও স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য আনুমানিক ১৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। 

এ ঘটনায় মাহাবুবুল আলম নামে দুবাই ফেরত এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) আটক যাত্রী ইকে ৫৮৪ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। এদিকে একই বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রাসহ এক নারী যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।  

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মইনুল খান জানান, ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ার বাসিন্দা আব্দুল গফুরের ছেলে মাহাবুবুল আলম বুধবার রাতে দুবাই থেকে ঢাকায় আসেন। তার পাসপোর্ট নম্বর- বিকে ০৯১২৯৪১। 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে শুল্ক গোয়েন্দার দল মাহাবুবুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তিনি স্বর্ণ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা এলইডি লাইট ভেঙ্গে ২৪৮ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের চাকতি উদ্ধার করা হয়। 

এছাড়াও তার পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে ৯৯ গ্রাম ওজনের ৪টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। চাকতি ও স্বর্ণালঙ্কারের মোট মূল্য ১৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। পাসপোর্ট অনুযায়ী তিনি চলতি বছর ২ বার বিদেশ ভ্রমন করেছেন। 

জিজ্ঞাসাবাদে আটক মাহাবুবুল জানান, তিনি একজন দোকান মালিক। শুল্ক গোয়েন্দাদের নজর এড়াতে এই অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছেন। এ ঘটনায় শুল্ক আইন অনুযায়ী মামলা হয়েছে।

মইনুল খান আরও জানান, একই বিমানবন্দর থেকে সকালে ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকা সমমূল্যের ২ লাখ ৪৯ হাজার সৌদি রিয়েলসহ খাদিজা বেগম নামে এক নারী যাত্রীকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর কর্তৃপক্ষ। 

মূদ্রাগুলো ওই নারী তার শরীরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে চট্টগ্রাম বিমানে (আরএক্স-০৭৮৬) চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। গাজীপুরের মন্নুনগরের আরিচপুরের বাসিন্দা ওই নারীর বয়স ৭০ বছর। 

মইনুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ডোমেষ্টিক চেকইন কাউন্টারে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বৈদেশিক মুদ্রা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর যাত্রীকে কাস্টমস হলে নিয়ে তল্লাশি করে জব্দকৃত সৌদি রিয়ালগুলো উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এসব মুদ্রার সপক্ষে কোন দলিলাদি দেখাতে পারেননি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, জনৈক সোহেল নামে এক ব্যক্তি তাকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুদ্রাগুলো চট্টগ্রাম বিমান বন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বলেন। তিনি মুদ্রা চোরাচালানে সহায়তা করছিলেন। চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে এসব মুদ্রা বিদেশে পাচার হতো। ধারণা করা হচ্ছে আটক ওই নারী যাত্রী একজন বাহক। 

মইনুল খান আরও জানান, ঘোষণা ছাড়া এবং লুকানোর কারণে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ও শুল্ক আইন, মানি লন্ডারিং আইন ভঙ্গ হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে শুল্ক গোয়েন্দার নজরদারীর কারণে ঢাকা থেকে পাচার করতে ব্যর্থ হয়ে চট্টগ্রাম দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব মুদ্রা চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। 

সোনালীনিউজ/জেএ