শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪

স্বাগত মাহে রমজান

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

স্বাগত মাহে রমজান

শুরু হলো সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান। পশ্চিম দিগন্তে উদিত এক ফাঁলি বাঁকা চাঁদ মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ে এসেছে রহমত, মাগফেরাত, মুক্তি ও শান্তি-সম্প্রীতির অমীয় বার্তা। মানবজাতির ঐকান্তিক কল্যাণ ও মঙ্গল লাভের অপার সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে এই বার্তায়। কারণ এ মাসে করুণাময় তার অফুরন্ত রহমত ও শান্তির বারিধারা বর্ষণ করেন। তার নেয়ামতের ভাণ্ডার খুলে দেন। অগণিত বান্দাকে মাফ করে দেন। মুক্তির সুসংবাদ পৌঁছে দেন মুমিনের দুয়ারে দুয়ারে।

দীর্ঘ এগার মাসের অবিরাম চলায় অন্তরে সৃষ্ট বিষাক্ত মরীচিকা দূর করতেই রমজানের সিয়াম। সিয়াম সাধনা মানুষকে ফেরেশতাদের অনুকরণের মাধ্যমে যতদূর সম্ভব নিজকে প্রবৃত্তির গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয়। সিয়ামের অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের পাশবিক ইচ্ছা ও জৈবিক চাহিদার মধ্যে সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা আনা। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করে। চিরন্তন জীবনের অনন্ত সফলতার স্বর্ণশিখরে আরোহন করে। পশুত্ব নিস্তেজ হয়ে যায় এবং মনুষত্যবোধ জাগ্রত হয়।

রমজান মুমিনজীবনের অনন্য প্রাপ্তি। রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের বহুমুখী কল্যাণের সন্ধান দেন। মানুষের গতিপথ বিভ্রান্ত করার জন্য অভিশপ্ত শয়তান সবসময় পাঁয়তারা করতে থাকে। কিন্তু রমজানের চাঁদ উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শয়তানকে বন্দি করে দেয়া হয়। শয়তানের কুমন্ত্রণা দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না। রমজানে মানবতার প্রত্যাশিত ঠিকানা জান্নাতের দুয়ার খুলে দেয়া হয়। আর অভিশপ্ত জাহান্নামের দুয়ার দেয়া হয় বন্ধ করে। যারা জীবনের স্রোতধারা সঠিক পথে প্রবাহিত করতে চায় তাদের জন্য রমজান আশির্বাদস্বরূপ।

রমজান মুমিনের জন্য কাক্সিক্ষত সফলতা লাভের জোরালো হাতছানি। যারা পাপাচারের মাধ্যমে জীবনটাকে অতিষ্ট করে করে তুলেছে রমজান তাদের ক্ষান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। পাপের খনিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত বান্দাকেও এ মাসের বরকতে মাফ করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন মহান রাব্বুল আলামিন। রমজানের প্রাপ্তি ও সুফল নিশ্চিত হওয়ার পূর্বশর্ত হলো, রমজানের দাবি যথাযথভাবে আদায় করা। রমজানে পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকা অতি সহজ। কারণ মানুষের চিরশত্রু ইবলিশকে তখন শিকলবদ্ধ করে রাখা হয়। সে জন্য রমজানের বাঁকা চাঁদ পাপমুক্ত থাকার সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। সুতরাং এত বড় সুযোগ পেয়েও যারা তা কাজে লাগাতে পারে না রাসুল সাঃ তাদের বড়ই দুর্ভাগা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সোনালীনিউজ/ঢাকা