মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ১০ মাঘ ১৪২৪

হবিগঞ্জে কমেছে শুটকি উৎপাদন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার ১০:০৩ এএম

হবিগঞ্জে কমেছে শুটকি উৎপাদন

হবিগঞ্জ: বর্ষার শেষে হবিগঞ্জে পুরোদমে শুরু হয় শুঁটকি উৎপাদন। প্রতিবছরই দেশের চাহিদা মিটিয়ে জেলা থেকে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

জেলার বানিয়াচং, আজমিরিগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার শুটকি উৎপাদনের সাথে জড়িত রয়েছেন।

এখানকার উৎপাদিত শুঁটকিতে কোন ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহার না করায় এর স্বাদ ও কদর আলাদা। কিন্তু এ বছর শুটকি উৎপাদনকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

বৃষ্টি, ঠান্ডা আবহাওয়া, হাওরের জলাবদ্ধতা, কাঁচা মাছের চেয়ে শুটকির দাম কম, পূঁজির অভাব ও যতেষ্ট পরিমাণে সরকারি ঋণ না পাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শুটকি উৎপাদনকারীদের লোকসানের পরিমাণ। একের পর এক লোকসানের মূখে তারা দিতে পারছেন না শ্রমিকদের বেতন। ফলে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কটও।

শুটকি উৎপাদনকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসের টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে বিরাট অংকের লোকসান গুণতে হয় তাদের। সেই সাথে বর্তমানে আবহাওয়া টান্ডা থাকার কারণে দিনের অধিকাংশ সময়ই দেখা মিলছে না সূর্য্যরে। ফলে শুটকি শুকাতে না পারায় অনেক শুটকি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তবে, শুটকি উৎপাদনকারীদের লোকসানের পরিমাণ বাড়িয়েছে ঋণ।

সরকারিভাবে পরিমাণমত ঋণ ও সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে মহাজনদের কাছ থেকে অধিক সুদের ঋণ এনে শুটকি উৎপাদন করছেন অনেকে। ফলে প্রতিমাসেই মহানজনকে দিতে হচ্ছে অধিক হারে সুদ। সেই সাথে সরকারি কোন সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে অনেকে আবার এ ব্যাবসা থেকে সড়ে পরছেন।

এদিকে, শুকনো মৌসুমেও হাওরের পানি না কমায় অন্য বছরের তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাছের অভাবে কাঙ্কিত হারে শুটকি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে শুটকি উৎপাদনকারী বানিয়াচং উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের ইন্দ্রজিত দাস জানান, ‘এ বছর মাছের দাম বেশি। অতচ শুটকির দাম কম। তাই শুটকি উৎপাদন করে লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি বলেন- ‘লুকসান হলেও বাপ-দাদার এ ব্যাবসা আমরা ছাড়তে পারছি না।’

একই এলাকার আরতি বালা দাস বলেন- ‘সরকার থেকে আমাদের মাঝে মধ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কিন্তু কোন ধরণের ঋণ আমরা পাই না। যার কারণে আমরা আর্থিক অবস্থার কারণে শুটকি উৎপাদন করতে মিশিম খেতে হচ্ছে।’

বানু বালা দাস জানান- ‘মহাজনদের কাছ থেকে বেশি সুদে টাকা আনতে হয়। ফলে আমাদের যা লাভ হয় তা মহাজনদের দিয়ে দিতে হয়।’

উমেদনগর এলাকার নজরুল ইসলাম জানান, ‘গত মাসের তিন দিনের বৃষ্টির কারণে আমাদের অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এর মধ্যে এখন প্রচন্ড টান্ডার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই রোদের দেখা মিলছে না। ফলে টিক সময় শুটকি শুকাতে না পারায় বেশিরভাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

শুটকির পাইকারি ব্যবসায়ি মহি উদ্দিন জানান- ‘অন্য বছর এই পৌষ মাসে হাওরের পানি শুকিয়ে যায়। কিন্তু এ বছর হাওওে পানি রয়ে গেছে। ফলে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে পর্যপ্ত পরিমাণে শুটকি বাজারে উঠছে না।

অন্য এক পাইকারি ব্যবসায়ি চাঁন মিয়া বলেন- ‘একসময় আমাদের এলাকায় প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ত। কিন্তু বিল-জলাশয় ভরাট হওয়া এবং এগুলো শুকিয়ে মাছ শিকার করার কারণে মাছ কমে গেছে। মৎসজীবি ও শুটকি ব্যবসায়ি উৎপাদনকারীদের কথা বিবেচনা করে নদী-জলাময় ভরাট ও শুকিয়ে মাছ শিকারের বিষয়ে সরকারি নজরদারি বাড়ানোর আহবান জানান।’

জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. এনামূল হক জানান, ‘মৎস অফিসের উদ্যেগে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও উৎপাদকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’ তবে সরকারি কোন সহযোগিতা করা হচ্ছে না বলে স্বীকার করে তিনি বলেন- ‘আমরা সংম্লিষ্ট দপ্তরে শুটকি উৎপাদনকারিদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে। আশা করি আগামি বছর থেকে সরকারিভাবে ঋণের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’


সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন