সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

হর্ন ব্যবহারে মানছে না সরকারি নিষেধাজ্ঞা

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৩ পিএম

হর্ন ব্যবহারে মানছে না সরকারি নিষেধাজ্ঞা

বিশেষ প্রতিনিধি

যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করছে না কেউ। বরং দেশের অধিকাংশ যানবাহনেই হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে।  সাধারণভাবে মানুষ ৪০-৪৫ ডেসিবল মাত্রার শব্দই ভালো শুনতে পায়। তারচেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তিসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে। অথচ দেশের ৮০ শতাংশ যানবাহনে এখনো ব্যবহার হচ্ছে হাইড্রোলিক হর্ন। যা ১০০ ডেসিবলেরও বেশি মাত্রার শব্দ সৃষ্টি করে থাকে। বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মোটর ভেহিকল অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী দেশে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধু তা-ই নয়, যানবাহনে এ হর্ন ব্যবহার করলে জরিমানারও বিধান রয়েছে। কিন্তু  কেনাবেচায় কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বাজারে প্রতিনিয়ত বিক্রি হচ্ছে মারাত্মক শব্দদূষণের উৎস এসব হর্ন। সহজলভ্য হওয়ায় যানবাহনেও চলছে এসবের ব্যবহার। মূলত বিআরটিএর আইন এবং এনবিআরের আমদানি নীতির মধ্যে সমন্বয় না থাকার কারণে ক্ষতিকর এ হর্নের ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এজন্য সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এনে হাইড্রোলিক হর্নের আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধ করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

সূত্র জানায়, বাজারে চাহিদা থাকায় হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অবাধে আমদানি হচ্ছে। কারণ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আমদানি কোনো সমস্যা নেই। কারণ সরকারের আমদানি নীতিতে হাইড্রোলিক হর্নের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। হাইড্রোলিক হর্ন ও ইলেকট্রিক হর্নের জন্য আলাদা এইচএস কোডও নেই। এনবিআরের প্রথম শিডিউল অনুযায়ী হর্নের এইচএস কোড ৮৫১২.৩০.০০। এ কোডে সব ধরনের সাংকেতিক শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রাংশ আমদানি করা যায়। ফলে প্রতি বছর কতো সংখ্যক হাইড্রোলিক হর্ন আমদানি হচ্ছে দেশে তা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই নির্দিষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সারাদেশে ১ লাখ ১৪ হাজার ট্রাক, ৩৫ হাজার ৯৬৪টি বাস, ১৬ হাজার ৯২৭টি কাভার্ড ভ্যান, ২২ হাজার ৬৩০টি ডেলিভারি ভ্যান, ৫ হাজার ৯৮৭টি কার্গো ভ্যান, ২৬ হাজার ৮৯৬টি মিনিবাস ও ৪ হাজার ১৩০টি ট্যাংকার চলাচল করে। এসব পরিবহনের ৮০ শতাংশই হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করে বলে ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়। প্রতিটি যানই বছরে একাধিক হর্ন ব্যবহার করে থাকে। আর ওসব হর্নের প্রতিটির দাম ৪শ’ থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে দেশে পণ্যটির কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার বাজার রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, রাজধানীর অধিকাংশ যানবাহনেই উচ্চমাত্রার, কর্কশ শব্দ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার হচ্ছে। আর ঢাকার বিভিন্ন স্থানের গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকানে ওসব হাইড্রোলিক হর্ন প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া জেলা শহর ও মহাসড়কগুলোতে চলাচলকারী যানবাহনেও ওই হর্ন প্রতিনিয়ত ব্যবহার হচ্ছে। অথচ ১৯৮৩ সালের মোটর ভেহিকল অর্ডিন্যান্সে নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহার করলে জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়। আর ১৯৪০ সালের দ্য মোটর ভেহিকল বিধিমালায়ও হাইড্রোলিক হর্নকে নিষিদ্ধ করা হয়। অর্ডিন্যান্সের ১৩৯ ধারায় নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহারে ১০০ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর  মোটরযান বিধিমালার ১১৪ ধারায় হর্ন ব্যবহার-বিষয়ক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রতিটি যানে অবশ্যই বাল্ব (ইলেকট্রিক) হর্ন ব্যবহার করতে হবে। ওই ধারার মাধ্যমে উচ্চ ও বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী এয়ার প্রেসার হর্ন (হাইড্রোলিক) সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া একাধিক শব্দের একটি সাকসেশন তৈরি করে এমন বহুস্বরের হর্ন ব্যবহার করা যাবে না বলেও তাতে উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে- এমন হর্ন ব্যবহার করা যাবে না যার শব্দ কর্কশ, উগ্র ও উচ্চ। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের গাড়ি ও কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে না। পাশাপাশি হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধে জরিমানার বিধান থাকলেও যথাযথভাবে তা প্রয়োগ হচ্ছে না। বরং জরিমানা মাত্র ১০০ টাকা হওয়ায় গাড়ির চালকরাও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে না। তাছাড়া অনেক চালক আইনে হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধের বিষয়টি জানেও না।

এদিকে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বিষয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) বিজয় ভূষণ পাল বলেন, প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ৪/৫টি দল মাঠে কাজ করেন। তারা ফিটনেস, কালো ধোঁয়া, অবৈধ পার্কিং, শব্দদূষণ ও অধিক মাল ও যাত্রী পরিবহনসহ বিভিন্ন অপরাধের আইনানুগ ব্যবস্থা নেন। তবে এখন মোটরযান আইনটি সংশোধনের কাজ চলছে। খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। নতুন আইনে হাড্রোলিক হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়টি আরো গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, জনকল্যাণে কাজ করাই এনবিআরের কাজ। যদি আইনগতভাবে কোনো ক্ষতিকর জিনিসপত্র আমদানির সুযোগ থেকে থাকে তাহলে তা বন্ধ করার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩