শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

৪৫০০ বছরের পুরণো মমি

ফিচার ডেস্ক
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

৪৫০০ বছরের পুরণো মমি

যুগে যুগে কালের বিবর্তনে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মাটি খুড়ে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মমি পাওয়া যাচ্ছে। এবার প্রত্নতাত্ত্বিকরা এমনি এক মমির সন্ধান পেয়েছেন উত্তর পেরুতে। ধারণা করা হচ্ছে মমিটি প্রায় সাড়ে চার হাজার বছরের পুরণো। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মমির চারপাশের আনুষাঙ্গিক জিনিস দেখে মনে করছে মাটি খুঁড়ে পাওয়া মমিটি একজন নারীর মমি। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। যথেষ্ট মার্জিত বা প্রভাবশালী পরিবারে তার জন্ম হয়েছিল এবং তার সামাজিক মর্যাদাও ছিল বেশ। তাই মৃত্যুর পর তার মৃতদেহটি মমি করে রাখা হয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা মাটি খুঁড়ে চারটি হাঁড় খুঁজে পেয়েছেন যেখানে পাখি এবং বানরের ছবি অংকিত ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিতরা মনে করছে প্রাচীন আস্পেরো শহরে বাস করতেন এই নারী। তখন সেখানকার অধিবাসীরা প্রাচীন কারাল সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আস্পেরো প্রাচীন মাছ ধরার শহর নামেও সবার কাছে পরিচিত ছিল। মমি করা নারীটির কবরের সঙ্গে একটি পাত্রে কিছু শাকসব্জির বীজ এবং তার ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসও দেয়া হয়েছিল। জিনিসগুলোর মধ্যে রয়েছে তার গলার হাড় এবং একটি লকেট।

প্রত্নতাত্ত্বিকবিদ রুথ সেডি বহুদিন ধরে কারাল সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তিনি এবং তার গবেষণা দল পেরুতে প্রথম এই মমিটির সন্ধান পান। সেডির মতে এই মমিটি কারাল সভ্যতা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, ‘এই মমিটি থেকে বোঝা যায় সেই সময়টাতে নারী পুরুষের মধ্যে সমতা ছিল। নারী এবং পুরুষ উভয়ই সমাজে নেতৃত্ব দিতে পারতো, এবং এক হাজার বছর আগেও সমাজের নারীদের মধ্যে সামাজিক পদমর্যাদা বোধ ছিল।’

সেডির মতে মমিটির সূত্র ধরে আশপাশে আরো বিভিন্ন উপাদান খুঁজে পাওয়া গেছে যা দিয়ে আস্পেরো এবং কারাল শহরের মধ্যকার বাণিজ্যের ধারণা পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, দুই হাজার ছয়শ এবং দুই হাজার অব্দে দক্ষিণ আমেরিকায় তাদের বসবাস ছিল। খুঁজে পাওয়া উপাদানগুলো থেকে নানারকম বাদ্যযন্ত্রের জিনিসপত্র পাওয়া গেছে যা থেকে বোঝা যায় ওই সভ্যতার মানুষের গানবাজনার প্রতিও আকর্ষণ ছিল। বাদ্যযন্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল চারটি বাশিঁ যা বিভিন্ন পশুপাখির হাড় কেটে তৈরি করা হয়েছিল।

তবে কি কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছিল এব্যপারে নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারছে না প্রত্নতত্ত্ববিদরা। তারা আরো বলেন, সেই যুগে মানুষ বলি দেয়ার প্রথা তেমন একটা ছিল না বললেই চলে। আর যে নারীটির মৃত্যু হয়েছে তার মৃত্যু একটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধারণা করেন তারা। আর যেহেতু সে একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারী ছিলেন তাই তার মৃত্যুর পরে কবরে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে দেয়া হয়েছিল।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন