শুক্রবার, ২৬ মে, ২০১৭, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

‌‘আম্মুকে ফালাই দিয়ে চাকু ঢুকাই দিছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

‌‘আম্মুকে ফালাই দিয়ে চাকু ঢুকাই দিছে’

সন্তানের সামনে মায়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ। যেই মায়ের হাসিমুখ দেখে অভ্যস্ত সেই মায়ের এমন করুণ দৃশ্য সন্তান দুচোখে দেখে সহ্য করবে কীভাবে! সন্তানের সামনেই ঘাতকের বুলেটে মায়ের প্রাণ যাওয়ার করুণ দৃশ্য দেখতে হয়েছে ৬ বছরের শিশুপুত্রকে। এর চেয়ে নির্মম আর কী বা হতে পারে!

ব্যাগভরে বই আর খাতা নিয়ে মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাচ্ছিল মাহির। কথা ছিল প্রতিদিনের মতো স্কুল বাসে তাকে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরবেন মা মাহমুদা খানম মিতু। ঘরে ঠিকই ফিরেছেন, তবে লাশ হয়ে। মাহির তো তার মাকে এভাবে পেতে চায়নি। মাহিরের সামনেই তার মা মিতুকে প্রথমে কুপিয়ে পড়ে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আর ওই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল মাহি।

ঘটনাটি রোববার সকালের। চট্টগ্রামে ‘পূর্বপরিকল্পনা’ অনুযায়ী টার্গেট করে দুর্বৃত্তরা পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করে। গোয়েন্দারা প্রাথমিকভাবে এটাই ধারণা করেছেন।

মাহিরের বাবার আগের কর্মস্থল চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটার পর তাৎক্ষণিকভাবে খবরটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় তোলপাড়। বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে পারদর্শী বাবুল আক্তার সম্প্রতি এসপি পদে পদোন্নতি পেয়ে বুধবার যোগদান করতে ঢাকায় আসেন। এরই মধ্যে ঘটলো হৃদয়বিদারক এই ঘটনা।

বাবুল-মিতু দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। ছেলে বড়, মেয়ে ছোট। ছেলে মাহির ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

মায়ের মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ছাত্র মাহিরকে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি সরিয়ে নেন তাদের দারোয়ান। মাহির আতঙ্কিত চোখমুখ নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, ‘গুণ্ডারা আম্মুকে মারসে। ওরা হোন্ডা নিয়া দাঁড়ায়সিলো। হুম, তিনজন। তারপর একজন দৌঁড়ায়ে আমাদের দিকে আইসা আম্মুকে ফালাই দিয়ে চাকু ঢুকাই দিছে। আরেকজন গুলি মারসে’। 

মিতুর বাসার দারোয়ান ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘হঠাৎ দেখি মানুষে দৌড়াদৌড়ি করতেসে। আমি একজনরে দাঁড়া করায়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কী হইসে। কয় একটা মহিলারে মাইরা গেসেগা। আগায়ে যাইতে দেখি বাবুল সাহেবের ছেলেডা.. আহহা।’

তিনি বলেন, ‘আমি কিছু ভাবি নাই। দৌড় দিয়া গিয়া কোল লইসি। কয় আমার আম্মুরে মাইরালাইসে।এরপরে ছেলেডারে লইয়া আইসি আমি।ওখানে আর কিসু দেহি না, বাচ্চাটা তাড়াতাড়ি আমি লইয়া আইসি। বলা যায় না, বাচ্চাডাও যদি মাইরালাই।’

মিতুকে হত্যার আগে সঙ্গে থাকা তার ছেলে মাহিরকে পাশে সরিয়ে রাখে ঘাতকরা। মায়ের মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে মাহির। তাকে সান্ত্বনা দিতে অনেকেই ছুটে আসে তাদের ভাড়া বাসায়। কিন্তু কারও সান্ত্বনায় যেন কাজে আসছে না। মাহিরের কান্নায় সেখানে উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে আসে। এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue
শুক্রবার, ২৬ মে, ২০১৭, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪