বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

অক্টোবরে সম্মেলন, তৃণমূল গোছাতে ব্যস্ত আ.লীগ নেতারা

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১২ মে ২০১৯, রবিবার ০৯:২৫ পিএম

অক্টোবরে সম্মেলন, তৃণমূল গোছাতে ব্যস্ত আ.লীগ নেতারা

ঢাকা : আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় যথা সময়ে হতে যাচ্ছে দলের সম্মেলন। সে হিসেবে আগামী অক্টোবর মাসে দলটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর এ সম্মেলনকে সামনে রেখে তৃণমূল গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, রোজা ও প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যেও জোরেসোরে বিভাগে বিভাগে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। বর্তমানে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সফরে রয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দল গোছানো আর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে পাওয়া না পাওয়ার ক্লেশ এবং অভ্যন্তরীণ বিবাদ মেটাতে জেলা-উপজেলায় করা হচ্ছে বর্ধিত সভা। ওই সব সভায় মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার সম্মেলন ও কমিটি গঠনের তাগিদও দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতাকারী এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এ বছর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। ফলে দলীয় সভাপতির ইচ্ছায় আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর সম্মেলন ঘিরে দলের তৃণমূল নতুন করে ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় নেত্রী। তৃণমূলকে তরতাজা করতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের আট বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিশ্বস্ততার জায়গা তৃণমূল। সেই তৃণমূলকে সংগঠিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই পরিকল্পনাকে মাথায় রেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত  নেতারা সারাদেশেসাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে (২০২০) সামনে রেখে সরকারের মুজিব বর্ষ পালনের ঘোষণা এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হবে। এর আগেই দলকে গুছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।’

জানা গেছে, শনিবার (১১ মে) চুয়াডাঙ্গা জেলায় সাংগঠনকি সফরের মধ্যে দিয়ে খুলনা বিভাগের জেলাসমূহে দলের সাংগঠনিক সফর শুরু করেছে দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম। খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যেসফরে আছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, এস এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম মিলন ওপারভীন জামান কল্পনা।

এই সফরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণ করেন তারা। এছাড়াও আগামী ১৩ মে যশোর ও নড়াইলে, ১৪ মে সাতক্ষীরায়, ১৮ মে খুলনা মহানগরে, ১৯ মে খুলনা জেলায়, ২০ মে বাগেরহাট জেলায় এবং ২১ মে ঝিনাইদহ জেলায় আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় অংশ নেবে বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম।

এদিকে, শনিবার (১১মে) চট্টগ্রাম নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত চট্টগ্রামের বিভাগের চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগনিক দল। এই বর্ধিতসভায় প্রধানঅতিথি হিসাবে অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু।

আর সফররতনেতাদের মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, সাংগঠনকি সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

সফরের বিষয়ে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘তৃণমূল থেকে সংগঠনকে সাজাতে হবে। অক্টোবর মাসে আমাদের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসাবে তৃণমূলের সকল পর্যায়ে সম্মেলন করতে হবে। চলমান রমজান মাসের মধ্যেই চুয়াডাঙ্গা জেলার নতুন ইউনিয়নগুলোতে, জুলাইয়ের মধ্যে সকল ইউনিয়নে এবং ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব উপজেলা সম্মেলন শেষ করতে হবে।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই