বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬

অধ্যক্ষের থাপ্পড়ে শ্রবণশক্তি হারাল নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী

দিনাজপুর প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ মার্চ ২০২০, বুধবার ০৩:২৪ পিএম

অধ্যক্ষের থাপ্পড়ে শ্রবণশক্তি হারাল নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী

দিনাজপুর : অধ্যক্ষের থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফেটে শ্রবণশক্তি হারিয়েছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে এক ছাত্র।বিষয়টি প্রকাশ করায় অধ্যক্ষ ওই ছাত্রকে অন্যত্র ভর্তির জন্য চাপ দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী সাকিল আহাম্মদ (১৫) উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের কাশিয়াড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক মিজানুর রহমানের ছেলে। সে ভাদুরিয়া স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র।

দুই সপ্তাহ আগে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের থাপ্পড়ে সাকিলের কানের পর্দা ফেটে যায়। ফলে সে বা কানের শ্রবণশক্তি হারায়।

এ বিষয়ে সাকিলের মা বলেন, 'হামার (আমার) ছোলকে (ছেলেকে) নতুন ভর্তি করাছি (করিয়েছি) স্কুলে , ছোল হামার বুঝে নাই, দুপুরে কলেজের ছোলেরা বাড়িত আসো চলো (চলে আসে), সে জন্য মোর (আমার) ছোলও বাড়িত আসবার চাছল (আসতে চাচ্ছিলো), তখন প্রিন্সিপাল চারটা চড় মারিচে (মারছে)। এখন মোর ছোলটা কানে আর শুনতে পাওছে (পাচ্ছে) না। কারো কাছে বিচার দিলে হামার ছোলক আর ওই স্কুলত থুবে (রাখবে) না, স্কুল থাকে বার করে দেবে।'

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে প্রথমে বলেনি অধ্যক্ষ তার কানে থাপ্পড় মেরেছে, কারণ এই কথা কাউকে জানালে স্কুল থেকে বের করে দেবে। এদিকে যখন কানে প্রচন্ড ব্যথা হয় তখন সব জানতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করার পর আরও ব্যাথা বেশি হলে রংপুর নিয়ে যাই। বর্তমান রংপুরের চিকিৎসক চিকিৎসা চলছে। অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম চিকিৎসার জন্য ৬ হাজার টাকা দিয়েছে। এখন আর কোন খোঁজ খবর রাখে না। আমার ছেলে যে মাদ্রাসা থেকে জেএসসি পাস করেছে সেই মাদ্রাসায় ভর্তি করার জন্য চাপ দিচ্ছে।'

সাকিলের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, 'আমি নতুন ক্লাসে মাত্র দুই দিন ক্লাস করেছি। অধ্যক্ষ স্যারকেও চিনি না। টিফিনের সময় কলেজের বড় ভাইয়েরা বাড়িতে চলে যাচ্ছিলো। তাই আমিও বাড়ি যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন সময় স্যার আমার কানে থাপ্পড় মারতে শুরু করে। তখন আমি অনেকক্ষণ চোখ দিয়ে কিছু দেখতে পাইনি। পরে অধ্যক্ষ স্যার বলেছে বাড়িতে গিয়ে যদি বলিস এই স্কুল থেকে বের করে দেব। তাই প্রথমে কাউকে বলিনি। যখন প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছিল তখন বাড়িতে মাকে বলেছি। এখন অধ্যক্ষ স্যার আমাকে আগের মাদ্রাসায় ভর্তি হতে বলছে।'

এবিষয়ে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, আমি কোন ছাত্রকে থাপ্পড় মারিনি। এ বিষয়টি আমার মনে পড়ছে না। আমি শুনতেছি সাংবাদিকরা দৌঁড়া দৌঁড়ি করছেন। আপনারা আমার সঙ্গে যোগায়োগ করবেন। ওই ছাত্রকে চিকিৎসা বাবদ কোন অর্থ বা টাকা দেইনি। এছাড়া তাকে অন্য কোথাও ভর্তি হতে বলিনি।

ভাদুরিয়া স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিয়োগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'বিষয়টি শুনেছি। তবে কেউ কোন অভিয়োগ দেয়নি। কোন শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় বা শারীরিক ভাবে কোন নির্যাতন করা যাবে না। আমার কাছে কোন অভিয়োগ এলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোন প্রকার নির্যাতন করা যাবে না। ভাদুরিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue