বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

অনিশ্চয়তায় কাটলো মালয়েশিয়া প্রবাসীদের ঈদ

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ মে ২০২০, সোমবার ১১:১৪ পিএম

অনিশ্চয়তায় কাটলো মালয়েশিয়া প্রবাসীদের ঈদ

ঢাকা : বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে নেতিবাচক প্রভাবের মধ্য দিয়েই কেটেছে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ৮ লক্ষ বাংলাদেশী প্রবাসীদের নিষ্প্রাণ নিরানন্দ ঈদ উল ফিতর। টানা লকডাউনে কর্মহীন প্রবাসীরা  নিজ নিজ রুমেই ঈদের নামাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। 

গত দু মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা নিজ নিজ পরিবারের সাথে ও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেনি। এই লকডাউনে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরনে ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।  রেমিট্যান্স প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৭০ ভাগ।  

গত ১৮ মার্চ থেকে চলা লকডাউন চলবে ৯ ই জুন পর্যন্ত। অধিকাংশ কর্মক্ষেত্র উম্মুক্ত না হওয়ায় প্রবাসীদের কোন উপার্জন নেই তাই এ পরিস্থিতিতে থাকা খাওয়া ভিসা নবায়ন ও দেশে পারিবারের খরচ বহন করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। ইদানীং কালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় মুত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে। প্রতিদিন ই শুনা যায় কোথাও না কোথাও এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর। এমতাবস্থায় সংকট উত্তরণে সরকারে ও বিত্তবানদের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

কুয়ালালামপুর বাংলাদেশী মার্কেটে নোয়াখালীর ব্যবসায়ী মোঃ ইব্রাহিম মিয়া বলেন, প্রবাসীরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় আমাদের ব্যবসা বানিজ্যে চরম দূরাবস্থা চলছে আগের ঈদে প্রতিদিন আমরা ১০ থেকে বিশ হাজার টাকা বিক্রি করতাম এখন সেখানে ১ হাজার বিক্রি হয় না। তিনি আরো বলেন এই মার্কটে হাজার হাজার ক্রেতার সমাগম হতো এখন সব ফাঁকা, পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের হস্তক্ষেপ দরকার। কমিউনিটির নেতা ও ব্যবসায়ী মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, এবারের ঈদ ছিল একটি অন্যরকম ঈদ কারণ করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে বিশ্ববাসী যেখানে থমকে গেছে সেখানে মালয়েশিয়া প্রবাসীরাও ভালো নেই, তারা অনেক কষ্টে বর্তমান সময় কাটাচ্ছে এবং আমরা ও আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাড়ানোর। 

এদিকে মালয়েশিয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী রয়েছে অসংখ্য যারা সবাই কম বেশি এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। দেশটিতে কয়েক হাজার বাংলাদেশী  মাই সেকেন্ড হোম ব্যবসায়ীর পাশাপাশি আরো রয়েছে বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক।  তেমনি একজন হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান মালয়েশিয়া সি মিলেনিয়াম ট্রেড এসডিএন বিএইচডি এবং পরান ফুড গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব অহিদুর রহমান অহিদ। তিনি লকডাউন চলাকালীন প্রায় হাজার হাজার প্রবাসী ও মালয়েশিয়ানদের মাঝে বিভিন্ন মানবিক সহযোগিতা করেছেন। সবাই কে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, বর্তমান এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সবাই দেশ বিদেশে সামাজিক নিরাপদ দূরত্বব বজায় রেখে চলবো এবং পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি। 

মালয়েশিয়া এই ৩ মাসে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিজ দেশে অর্থ প্রেরনে কি ধরনের প্রভাব ফেলেছে তার একটি চিত্র তুলে ধরেন কুয়ালালামপুর ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড এনবিএল মানি ট্রান্সফার এর সিইও শেখ আক্তার উদ্দিন আহমেদ, তিনি জানান, এনবিল মানি ট্রান্সফার থেকে মার্চ -২০১৯  মোট প্রেরিত রেমিটেন্স ৭২ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার, মার্চ -২০২০  (লকডাউন শুরু হয় ১৯শে মার্চ থেকে ) মোট প্রেরিত রেমিটেন্স ৭৫ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার, মার্চে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪%, এপ্রিল -২০১৯  মোট প্রেরিত রেমিটেন্স ৭০ কোটি ৬০ লাখ ৮৪ হাজার, এপ্রিল -২০২০ মোট প্রেরিত রেমিটেন্স ১০ কোটি ৩৪ লাখ  ৩ হাজার, এপ্রিলে ঘাটতি ছিল ৮৫%, মে -২০১৯  মোট প্রেরিত রেমিটেন্স ৮২ কোটি ১৩ লাখ ৫৪ হাজার, মে -২০২০ মোট প্রেরিত রেমিটেন্স ৪৫ কোটি ৪২ লাখ ১১ হাজার, মে এর ২৫ তারিখ পর্যন্ত  ঘাটতি  ৪৫%, এসময় তিনি আরো বলেন, প্রবাসীরা লকডাউনের কারনে বাইরে বের হতে পারছেন না কাজেও যোগদান করতে পারছে না যেহেতু অধিকাংশ মিল ফ্যাক্টরী বন্ধ আছে, সাধরণত অন্য মাস ছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ রমজান মাসে দেখতে পেতাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যেতো কিন্তু এবারের রমজানে দেখলাম ৭০ শতাংশ কমে গেছে, আমরা তাদের পাশে দাড়ানো উচিত তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উচিত যদি তা না করা হয় তবে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বলে মনে করি,  অনেক দেশেই প্রবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে,  টাকা পয়সা না থাকার কারণে প্রবাসীর যেমন উৎসব বিহীন ঈদ কাটিয়েছেন তেমনি তাদের পরিবার গুলোও বঞ্চিত থেকেছে,  তাই তাদের পাশে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানরা এগিয়ে আসা উচিত।   

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue