রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

অপরাধ ঢাকতে নুসরাতকে রক্তও দেয় মামুন

আদালত প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার ০৩:২৩ পিএম

অপরাধ ঢাকতে নুসরাতকে রক্তও দেয় মামুন

ঢাকা : ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যায় জড়িত তিন আসামি নুর উদ্দিন, এমরান হোসেন মামুন ও আবদুল কাদের ঘটনার পর নিরপরাধ সাজার চেষ্টা করেছিল।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, এই তিন আসামির মধ্যে মামুন নিজের অপরাধ ঢাকতে হাসপাতালে মুমূর্ষু নুসরাতকে রক্তও দেয়। এ ছাড়া আগুন দেওয়ার পর নুসরাতকে বাঁচাতে পানিভর্তি বদনা নিয়ে ছাদে যায় নুর উদ্দিন, আর ঘটনার পর পরই নুসরাতের বাবা-মাকে ফোন দিয়ে অবহিত করে কাদের।

পিবিআইয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামিদের একজন এমরান হোসেন মামুন। সে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার কারামুক্তি দাবির আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা। ২৭ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মুমূর্ষু নুসরাতকে রক্ত দিতে যায় সে। ওই সময় সে নুসরাতকে রক্তও দেয়।

সূত্র আরো জানায়, অন্যতম আসামিদের আরেকজন নুর উদ্দিনও অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করে। ছাদে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নুসরাতকে আগুন দেওয়া হলে তাকে বাঁচাতে নুর উদ্দিন পানিভর্তি বদনা নিয়ে ছাদে যায়। আর ঘটনার পর পরই উপযাচক হয়ে নুসরাতের বাবা-মাকে ফোন দিয়ে ঘটনার খবর দেয় আসামি আবদুল কাদের। নুসরাত হত্যায় গ্রেফতার অন্য আসামিদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পিবিআইয়ের তদন্তে এসব তথ্য বের হয়ে আসে বলেও জানায় সূত্র।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, নুসরাত হত্যায় দায় স্বীকার করে আদালতে কামরুন নাহার মনির দেওয়া জবানবন্দিতে মামুনের নাম সামনে আসে। এরপর মামুন  আত্মগোপন করে। গত ২০ এপ্রিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে (মামুন) আগুন দেওয়ার ঘটনাকে নাটক সাজাতে চেয়েছিল। আসামি নুর উদ্দিন এবং কাদেরও অপরাধ ঢাকতে সাধু সাজার চেষ্টা করেছিল।

নুসরাত হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো সিরাজ উদ দ্দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, মাদরাসাশিক্ষক আবছার উদ্দিন, নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, সাইফুর রহমান জোবায়ের, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, উন্মে সুলতানা মনি, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের, ইফতেখার উদ্দিন রানা, এমরান হোসেন মামুন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

নিহত নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue