বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

অভিযোগের সেঞ্চুরি পার বাড়ছে উত্তেজনা

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার ০৮:৪৯ পিএম

অভিযোগের সেঞ্চুরি পার বাড়ছে উত্তেজনা

ঢাকা : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন যতই কাছে আসছে, বাড়ছে উত্তেজনা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও।

ইসির সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসব অভিযোগ জমার রেকর্ড ‘সেঞ্চুরি’ অতিক্রম করেছে।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) প্রচারের ১৫ দিনে ১১০টি অভিযো জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে। এর মধ্যে উত্তরে ৩২ অভিযোগের বিপরীতে দক্ষিণে জমা পড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি (৭৮টি) অভিযোগ।

ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রার্থীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে সমাধান দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বলছেন, অভিযোগ জমা নিলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না কমিশন। ফলে একের পর এক হামলা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই চলেছে সরকারদলীয় প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা।

আর সরকারদলীয় প্রার্থীরা বলছেন, অভিযোগ এবং নালিশ নিয়ে থাকাই বিএনপির কাজ। তারা প্রচারের চেয়ে অভিযোগ দেওয়ার প্রতি বেশি মনোযোগী।

বিএনপির অভিযোগ পোস্টার ছেঁড়া, প্রচারে বাধা দেওয়া, মাইক ছিনিয়ে নেওয়ার পর সরাসরি মেয়রপ্রার্থীর ওপর হামলা। গত মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলায় মাথায় কিল, ঘুষি ও ঢিলের আঘাতে আহত হয়েছেন তিনি। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের পেছনে বড় বাজার এলাকায় জনসংযোগের সময় এ হামলা হয়।

সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবারসহ তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনবার হামলার ঘটনা ঘটল। আর উত্তর সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে হামলার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৪টি। এর মধ্যে জনসংযোগের তৃতীয় দিনে ১২ জানুয়ারি প্রথম বাধার ঘটনা ঘটে মিরপুরের শাহ আলী এলাকায়।

সেখানে তাবিথ আউয়াল জনসংযোগে গেলে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একদল নেতাকর্মী জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তার প্রচারণায় বাধা দেন। একপর্যায়ে ইটপাটকেল ছুড়লে আল আমিন নামে বিএনপির এক কর্মী আহত হন।

পরদিন ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শাহজাদপুরে সুবাস্তু টাওয়ারের বিপরীতে একটি নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে ফেরার সময় পেছন থেকে কর্মীদের ওপর হামলা হয়। দক্ষিণে বিএনপি-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ওপর এ পর্যন্ত হামলা হয়েছে ৯টি।

এ প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল বলেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও নির্বচনী প্রচারে বাধা দিচ্ছে সরকারদলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মীরা। গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মুজিব সরোয়ার মাসুমের নেতৃত্বে তার গুন্ডাবাহিনী কাপুরুষের মতো আমার নির্বাচনী প্রচারে পেছন থেকে হামলা করেছে। সবচেয়ে ভয়ংকর কথা হলো, এই হামলা কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই হয়েছে। আমার সহকর্মী নেতা-কর্মীদেরও আঘাত করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে মুজিব সারোয়ার সাংবাদিকদের  বলেন, কথা ছিল তারা (বিএনপি) পর্বত সিনেমা হলের সামনে পথসভা করবে। আমি জনসংযোগ করছিলাম সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে বড় বাজারের উত্তরপাড়ায়। সেখানে এসে যদি বাইরের লোক আমার পোস্টার ছেঁড়ে, অশ্লীল স্লোগান দেয়, এটা তো কেউ সহ্য করবে না। এটা তো গ্রামভিত্তিক শহর।

তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন বিষয়ে আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তারা নিজেরা সংঘর্ষ বাধিয়ে আমাদের দায়ী করছেন। তারা এর আগেও নিজেরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ করেছিল। অভিযোগ এবং নালিশ নিয়ে থাকাই বিএনপির কাজ। তারা প্রচারের চেয়ে অভিযোগ দেওয়ার প্রতি বেশি মনোযোগী।

এদিকে উত্তরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এর অধিকাংশ অভিযোগ সরকারদলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে করেছেন বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

এ বিষয়ে দক্ষিণে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, প্রচারের প্রথম দিন থেকেই আমাদের সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মী ও পুলিশ প্রশাসন নানাভাবে হয়রানি শুরু করেছে।

আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থীদের হুমকি-ধমকি, নেতা-কর্মীদের হামলা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, নির্বাচনী প্রচারের মাইক কেড়ে নেওয়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটিয়েছে, ঘটাচ্ছে। ঠিক কতটি জমা দেওয়া হয়েছে তা জানাতে না পারলেও প্রায় অর্ধশত অভিযোগ তাদের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইশরাক বলেন, আমি এবং আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থীরা এসব অভিযোগ নিয়মিতভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়ে যাচ্ছি।

এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের মিডিয়া সমন্বয়ক তারেক শিকদার বলেন, আমরা আমাদের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। এখানে বিএনপির পক্ষ থেকে নিত্যনতুন অভিযোগ তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের প্রার্থী এসব অভিযোগের প্রতি নয় বরং ভোটারদের কাছে প্রচার চালাতে ব্যস্ত। তবে ইশরাকের বাসাসংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিকালে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, এ পর্যন্ত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাছ থেকে ৩২টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের অধিকাংশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কিছু অভিযোগের নিষ্পত্তি চলমান আছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন জানান, শুক্রবার পর্যন্ত ৭৮টি অভিযোগ পেয়েছেন তারা। এর অধিকাংশই নিষ্পত্তি করার দাবি করে তিনি বলেন, ৭৮টি অভিযোগ পেয়েছি। সব কটি অভিযোগ আমরা আমলে নিয়েছি। কিছু অভিযোগের বিষয়ে আমরা কাউকে সতর্ক করেছি, কাউকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি, কিছু অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন আছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই