বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬

ভারতে আবারো মোদি সরকার

অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে আশাবাদী আ.লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৪ মে ২০১৯, শুক্রবার ০৫:৪৮ পিএম

অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে আশাবাদী আ.লীগ

ফাইল ছবি

ঢাকা : আবারও লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সাত ধাপে ভোট নেওয়ার পর বুথ ফেরত জরিপের ফলকে বিরোধী দলগুলো পাত্তা না দিলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলোই সত্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা না হলেও টানা দ্বিতীয়বারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদিই। বিজেপির নেতৃত্বের জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) দ্বিতীয়বার ক্ষমতাসীন হওয়ায় বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তিসহ ঝুলে থাকা বিভিন্ন বিষয়ের সমাধানে আশাবাদী আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ কয়েক নেতা জানান, প্রস্তাবিত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি মোদি সরকারের আমলেই হবে বলে বাংলাদেশের সরকারের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে ভারতের ভূমিকার বিষয়ে আশাবাদী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সরকার। সদ্য শেষ হওয়া মোদির সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধিতার কারণে তিস্তা চুক্তি সই করতে না পারলেও নতুন সরকারের আমলে তা হবে বলে আশাবাদী দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো। তারাও মনে করে, দ্বিতীয় মেয়াদে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত কিছু বিষয়ে সুরাহা হবে।

তবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভারতে যে দল ও জোটই ক্ষমতায় এসেছে, সেই দলের সরকারের সঙ্গেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সরকারের উষ্ণতম কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় ছিল বলে মনে করেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। তারা মনে করেন, দুই দেশেই সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় অমীমাংসিত ও ঝুলে থাকা ইস্যুগুলো সমাধানের বিষয়ে বেশি আশাবাদ জন্ম নিয়েছে। তাছাড়া গত এক দশকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে সুসম্পর্ক রাখার ব্যাপারে দুই দেশেই বড় পরিসরে মতৈক্য সৃষ্টি হয়েছে।

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, ভারতের জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দলটি। দেশটির জনগণ যে দলকে ভোট দিয়ে জয়ী করত, আওয়ামী লীগ তাকেই স্বাগত জানাত। বিজেপির জোটের জয়ে আওয়ামী লীগ গতকাল রাত পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ঢাকার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভা শেষে দলীয়ভাবে ভারতের নির্বাচন নিয়ে কথা বলবে দলটি। তবে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবে এক বার্তায় গতকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজয়ে অভিনন্দন জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত বুধবার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ সব সময় আশাবাদী। ছিটমহল, সীমান্ত চুক্তি যেভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর বিষয়েও একইভাবে ভারতের নতুন সরকার সমাধান করবে বলে আমাদের আশা। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের নতুন নতুন দরজা উন্মোচিত হবে।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন বলেন, গত বছরের এপ্রিলে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল ভারতে গেলে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে তাদের আশ্বাস দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ প্রতিনিধিদের বলেন, ‘বাংলাদেশের সুখে-দুঃখে ভারত সব সময় পাশে থাকবে।’ আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও সেতুমন্ত্রী ওয়ায়দুল কাদের দেশে ফিরে গণমাধ্যমকেও এ তথ্য জানান।

এছাড়া ঐতিহাসিক কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতীয় জাতীয় দল কংগ্রেসের সম্পর্ক সুবিদিত। ভারতে পালাবদলের পর বিজেপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে একটা সংশয় ছিল। গত পাঁচ বছরে সেই সংশয় শুধু ঘুচেই যায়নি, বিজেপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ক্রমশ উষ্ণ হয়েছে। পারস্পরিক নির্ভরতাও সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটের ‘প্রশ্নবিদ্ধতাকে’ গুরুত্ব না দিয়ে বিজেপির নতুন সরকার শুরু থেকেই বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের পাশে দাঁড়িয়ে সেই ভোটকে মান্যতা দেয়। ভারতের মান্যতার প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের কাছে অনস্বীকার্য।

দলটি বলছে, গত ৫ বছরে বিজেপি ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ভালোই ছিল। এবারও সেই যাত্রা অব্যাহত থাকবে। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের জন্য দলের শীর্ষ কয়েক নেতা ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সরকারকে দায়ী করেন। আর ওই সময় ভারতে বিজেপি ক্ষমতাসীন ছিল। সেই অবস্থা এখন আর নেই। কূটনৈতিকরা মনে করেন, সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দুই দেশের ক্ষমতাসীন দলই এখন সচেষ্ট। পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস-দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, রাজনৈতিক দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় থেকেই। মুক্তিযুদ্ধের পর বিভিন্ন সময় অন্য সরকারের আমলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে শিথিলতা এলেও ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আসে।

১০ বছরের বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশেষ উষ্ণতায় অনন্য উচ্চতায় আসীন। এ সময়ের মধ্যে ভারতে সরকার বদল হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে এখনো কোনো ভাটা পড়েনি। ভারতে অন্য দলের সরকারও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরো উষ্ণতার দিকে নিয়ে যায়।

গত ১০ বছরে দুই দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, ছিটমহল বিনিময়, ভারতকে সড়কপথে ট্রানজিট দেওয়া, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, দুই দেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে বাংলাদেশের আন্তরিক সহায়তা-এ সবকিছুতে অগ্রগতি হয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই