শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

অর্থ পাচার রোধে আইন সংশোধনের উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৯, সোমবার ০২:৪৩ পিএম

অর্থ পাচার রোধে আইন সংশোধনের উদ্যোগ

ঢাকা : বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার রোধ এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি বিদেশে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে সরকার এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন, নতুন চুক্তি সম্পাদনসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা, যা গত ২০১৭ সালের তুলনায় প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বেশি। সুইজারল্যান্ড সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ২০১৭ সালে জমা করা এ অর্থের পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ১৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ যা বাংলাদেশি টাকায় চার হাজার ১৬০ কোটির সমপরিমাণ। এসএনবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, নির্বাচনের বছরে বাংলাদেশিদের বিদেশের ব্যাংকে অর্থ জমার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

২০১৪ সালেও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ বেড়েছিল। ২০১৩ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন হাজার ২১৪ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে তা বেড়ে প্রায় ৫১ কোটি সুইস ফ্রাঁ অর্থাৎ ৪ হাজার ৪০৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। উল্লেখ্য, এক সুইস ফ্রাঁর বর্তমান বিনিময় মূল্য বাংলাদেশি ৮৬ টাকা ৪৩ পয়সা।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। দেশ থেকে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে বিএফআইইউ গঠন করেছে সরকার।

এ বিষয়ে বিএফআইইউর একজন উচ্চপদের কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে একটি বৈঠক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষযটি নিয়ে আমরা সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। এ ছাড়া দেশটির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের তথ্য আদান-প্রদানসংক্রান্ত একটি চুক্তি করারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। জানা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে।   

সুইস ব্যাংকগুলোতে সাধারণত বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা দুর্নীতিলব্ধ অর্থ জমা রাখে। এ ছাড়া কর ফাঁকি দিতেও দেশটির ব্যাংকে টাকা জমা রাখে অনেকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের প্রয়োজনেও সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন। এ ছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক অর্থ লেনদেন করতে হয়—এমন ব্যবসায়ীরাও অনেক সময় বিদেশি ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন।

উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডে ব্যাংকের সংখ্যা বর্তমানে ২৪৮টি। আর দেশটি তাদের ব্যাংকের গ্রাহকদের তথ্য কঠোরভাবে গোপন রাখে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপে গ্রাহকদের কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটি।

বিদেশে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সাবেক সচিব ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে বিদেশে অর্থ পাচাররোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে।

তিনি বলেন, এ জন্য যেসব দেশে অর্থ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে সেসব দেশের সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।

এ ছাড়া অর্থ পাচার রোধ এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধে আইন সংশোধন এবং প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি অর্থ জমাকারীদের নাম প্রকাশ জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই