শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬

অশ্লীলতা ও পাইরেসি বন্ধে মান্না জীবন বাজি রেখেছিলো : মিশা

এম সুজন আকন | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার ০৬:৫২ পিএম

অশ্লীলতা ও পাইরেসি বন্ধে  মান্না জীবন বাজি রেখেছিলো : মিশা

ঢাকা : প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না চলচ্চিত্রের অশ্লীলতা ও পাইরেসি বন্ধে জীবন বাজি রেখেছিলো বলে জানিয়েছেন অভিনেতা ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সময় টেলিভিশনে ‘স্মরণে মান্না’ অনুষ্ঠানে মিশা সওদাগর একথা বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন- মান্না যখন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তখন ছবি পাইরেসি বন্ধে  মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করেছে। কোথাও পাইরেসি হচ্ছে এমন খবর শুনে দেয়াল টপকিয়ে জীবন বাজি রেখে সেখানে গিয়ে তা প্রতিহত করেছে।

পরে পাইরেসির সঙ্গে জড়িতদের ধরে এনেছে, পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছে। এছাড়া তিনি অশ্লীল ছবি বন্ধে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে গেছেন। বলতে গেলে এখন তার সেই যুদ্ধের ফল ভোগ করছে। এটা শতভাগ সত্য যে তিনি পাইরেসি ও অশ্লীলতা বন্ধে একেবারে শীর্ষে থেকে অগ্রণীভূমিকা পালন করেছে।

নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে সিনেমার জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিলো প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার। ক্যারিয়ারের শুরুতে একক নায়ক হওয়ার সৌভাগ্য তার হয়নি। এজন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিলো। কাশেম মালার প্রেম সিনেমাটি হিট হওয়ার পর মান্নার জীবনের গল্প বদলে যায়। তারপর মান্না হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার যুবরাজ।

টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার সন্তান মান্না। টাঙ্গাইলে তাকে সবাই জানতেন এসএম আসলাম তালুকদার নামে। সিনেমায় এসে হয়ে যান মান্না। দৈহিকভাবে না থেকেও আজও মান্না সবার হৃদয়ে বেঁচে আছেন। শুধু টাঙ্গাইল নয়, বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমী মানুষেরা এক নামে চেনেন মান্নাকে।

মান্না অভিনীত প্রথম সিনেমার নাম তওবা। পরিচালক ছিলেন আজহারুল ইসলাম। তার নায়িকা ছিলেন শেলী। যার সঙ্গে পরে তিনি ঘর বেঁধেছিলেন।

কষ্ট-সংগ্রাম-পরিশ্রমের ফলে একসময় মান্না হয়ে উঠেছিলেন ঢাকাই সিনেমার এক নম্বর নায়ক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন। নায়ক থেকে প্রযোজক হয়েছিলেন। কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র নামে তার ছিলো চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

কৃতাঞ্জলি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে মান্নার জীবদ্দশায় অনেক সিনেমা নির্মাণ হয়েছিলো, যার বেশিরভাগই ব্যবসায়িক সফলতার মুখ দেখেছিলো। নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম প্রযোজিত সিনেমার নাম লুটতরাজ।

মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত আম্মাজান সিনেমাটি ছিলো সেই সময়ের আলোচিত ও ব্যবসাসফল একটি সিনেমা। আজও আম্মাজান সিনেমার গান মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

সংগঠক হিসেবে ছিলেন জনপ্রিয়। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি (মৃত্যুর সময় এই পদে ছিলেন)।

আজও নায়ক মান্না এ দেশের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ভালোবাসার মান্না হয়ে বেঁচে আছেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই