সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

‘অয়েল ফ্রি কিচেন’-এর স্বাস্থ্যবান্ধব বিনা তেলের ইফতারি

ফিচার ডেস্ক    | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০১ জুন ২০১৯, শনিবার ০১:৩৪ পিএম

‘অয়েল ফ্রি কিচেন’-এর স্বাস্থ্যবান্ধব বিনা তেলের ইফতারি

ঢাকা: রোজায় তেল ছাড়া ইফতারির আইটেমের কথা কল্পনাই করা যায় না! রমজান উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ইফতারসামগ্রী নিয়ে রমরমা বাণিজ্য হয়। সারা দিন রোজা থেকে মুখরোচক খাবারের স্বাদ নিতে ইফতারসামগ্রীর দোকানে ভিড় জমে। মানুষের এ আকর্ষণ ও দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে ভেজাল আর কেমিক্যালের বিষ মেশানো খাবার চড়া দামে বিক্রি করে ক্রেতাদের আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি করছেন অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে। এখানে রোজার প্রথম দিন থেকে বিনা তেলে সুস্বাদু রকমারি ইফতারি নিয়ে বসেছে বিনা অপারেশনে হূদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান সাওল হার্ট সেন্টারের ক্যাটারিং কনসার্ন ‘অয়েল ফ্রি কিচেন।’ আয়োজকরা জানান, ইফতারি স্টলে আগত ক্রেতাদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তারা নিয়মিত এখান থেকে বিনা তেলের ইফতারসামগ্রী কিনতে আসেন। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

স্বাস্থ্য-ঝুঁকিমুক্ত কোনোরকম প্রিজারভেটিভ ও কেমিক্যাল ছাড়া তেলবিহীন ইফতারি বিভিন্ন আইটেম খেয়ে শরীরে স্বস্তির আমেজ আসে। এই খাবারগুলো নিরাপদ জেনেই নিশ্চিন্তে খেতে পারি। ক্রেতাদের অনেকে বলেন, ইফতারির বাজারে চড়া দামে পোড়া তেল, মবিল ও কেমিক্যাল মেশানো এমনকি আগের দিনের বাসি খাবারও বিক্রি করা হয়। এসব খাবর কিনে খেয়ে সাধারণ মানুষ আর্থিক এবং শারীরিক দুদিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উল্লেখ্য, রোজায় বাজারে তৈরি ভাজাপোড়া খাবারের অধিকাংশই ভাজা হয় পুরনো তেলে। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজার ফলে তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সৃষ্টি হয়। এসব পদার্থ ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থ হিসেবে পরিচিত।

‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রমাদান ফাস্টিং রিসার্চ’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণালব্ধ নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভাজাপোড়া, অতিমসলাযুক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের কারণে অনেকেই রোজা রেখে অবশেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে রোজার পর এদের অধিকাংশই ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। হঠাৎ করে একসঙ্গে এসব খাবার গ্রহণের ফলে বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া এবং ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দেয়। তাই রোজা রাখার সময় যাতে এসিডিটি দেখা না দেয়, তা প্রতিরোধের জন্য আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ-জাতীয় খাবার পাকস্থলীর মাংসপেশির সংকোচন প্রসারণ প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দিয়ে পেটফাঁঁপা যেমন প্রতিরোধ করে তেমনি খাবারগুলোকে ভেঙে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে পরিণত করে। ফলে খাবার সহজেই হজম হয়ে যায়। আর এর ফলে এসিডিটি দেখা দেওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রথম বিনা তেলে রান্না স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ খাবার প্রতিষ্ঠান ‘অয়েল ফ্রি কিচেন’-এর বিনা তেলে ইফতার বিক্রি কার্যক্রম এই প্রথম। ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন, বিক্রিও ভালো। আয়োজকদের মতে, ব্যবসাটাই প্রধান নয়, মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত ও নির্ভেজাল ইফতারসামগ্রী দিতে পারছি, এটাই বড় বিষয়। আয়োজকরা আরো বলেন, খাবারে এক্সট্রা তেল ও চর্বি উপকার করে না। শরীর এসব পেয়ে থাকে শাকসবজি, ফল, মাছ, মাংস ইত্যাদি প্রাকৃতিক খাবার থেকেই। এর ওপর এক্সট্রা তেল যোগ হলো মড়ার উপর খাড়ার ঘা। অতিরিক্ত তেল শরীর অপসারণ করতে পারে না বলেই ভয়ানক সব নন-কমিউনিক্যাবল বা অসংক্রামক স্থায়ী রোগ তৈরি হয়। এর থেকে বাঁঁচার উপায় তেলের খাবার বর্জন। তাই বিনা তেলে ইফতারি-স্টল দেওয়া হয়েছে ইস্কাটন গার্ডেন রোডে নেভি হাউজের সামনে।

৩৩ রকম বিনা তেলের ইফতারি : বাংলাদেশের প্রথম ‘অয়েল ফ্রি কিচেন’ নিয়ে এসেছে বিনা তেলে তৈরি নিরাপদ, স্বাস্ব্যসম্মত, সুস্বাদু, ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি ইফতারি। ছোলা, পেঁয়াজু, ভেজিটেবল পাকোড়া, চিকেন পাকোড়া, ঘুগনি, আলুর চপ, ডিম চপ, চিকেন চপ, চিকেন গ্রিল, চিকেন সাসলিক, ফিস সাসলিক, চিকেন টিক্কা,বিফ টিক্কা, জালি কাবাব, শামি কাবাব, শিক কাবাব, বিফ হালিম, মাটন হালিম, চিকেন বিরিয়ানি, বিফ বিরিয়ানি, মাটন বিরিয়ানি, ছোলা-বিফ বিরিয়ানি, রুমালি রুটি, চিকেন রোস্ট, বিফ ভুনা, মাটন ভুনা, বোরহানি, লাউ পায়েস এবং (পূর্ব অর্ডার সাপেক্ষে উত্তরবঙ্গ থেকে আনা মিষ্টিদই, টকদই, ক্ষীরসা, গুড়ে সন্দেশ, প্যারা সন্দেশ) খোলায় ভাজা ইউরিয়া সারমুক্ত নির্ভেজাল মুড়ি, উৎকৃষ্ট খই, সাদা চিড়া, লাল চিড়া, খেজুরসহ ৩৩ রকমের স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু ইফতারি।

আয়োজকদের মতে, ‘খাবারের জন্য বাঁঁচবেন না বরং বাঁঁচার জন্য খান’- অসংখ্য ভেজালের ভিড়ে ভালো ও স্বাস্থ্যকর খাবারটা খুঁজে বের করুন। ভয়াবহ সব রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হলে বিনা তেলের খাবারের কোনো বিকল্প হয় না। জানা গেছে, তাদের এই আয়োজন উৎসুক জনগণের মধ্যে স্বস্তি দিতে পেরেছে। বিভিন্ন স্থানে বিনা তেলের তৈরি খাবার নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ফুড কর্নার-জাতীয় দোকান চালু করার জন্য ক্রেতারা অনুরোধ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অয়েল ফ্রি কিচেন ইফতারির পাশাপাশি কোনোরূপ তেল, বাটার, ঘি ছাড়া সবার জন্য সব ধরনের খাবার ও বিভিন্ন রোগভিত্তিক এবং প্রসূতি মা ও শিশুর খাবার তৈরি ও অর্ডার নিয়ে থাকে। টেলিফোনে ও অনলাইনেও দেওয়া যাবে। ওয়েব: http://www.oilfreekitchen.com.bd/ ফোন: ০১৭৭৭৭৮০৮৫৮/ ০১৭৭৭৭৮০৮৫৯/ ০১৭৭৭৭৮০৮৬০

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এসআই