শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

আওয়ামী লীগের নজর বিএনপির শপথে

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার ০৯:২১ পিএম

আওয়ামী লীগের নজর বিএনপির শপথে

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিএনপি থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ না নিয়ে সরকারকে এক ধরনের ‘রাজনৈতিক চাপে’ ফেলার কৌশল নিয়েছে দলটি। তবে বিএনপি এই কৌশল থেকে সরে আসবে বলে ধারণা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের।

বিএনপির নির্বাচিতরা নির্ধারিত সময়ে শপথ নেন কি না বা কখন শপথ নেন, আওয়ামী লীগের নজর এখন সেসব দিকে। বিজয়ী হয়ে এমপি হিসেবে এখনো শপথ না নিলেও এ বিষয়ে অনেকটাই ‘নির্ভার’ আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েক নেতা।

শপথের বিষয়ে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ধরনের ‘রহস্যের’ সৃষ্টি হলেও তারা নির্ধারিত সময়ে শপথ নেবেন বলে আশাবাদী ওই নেতারা। শপথ নেওয়া ও না-নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে দুটি ধারা স্পষ্ট হওয়ায় দলটি শেষ পর্যন্ত শপথ নিতে রাজি হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

সরকারি দলের সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় ফল বিপর্যয়ের পর দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি।

একদিকে নির্বাচিতদের বেশিরভাগই শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেওয়ার পক্ষে।

অন্যদিকে নির্বাচনে পরাজিত জ্যেষ্ঠ নেতাসহ অনেকেই সংসদে যোগ দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের পর দলটির অন্য নেতা মোকাব্বির খান শপথ নেওয়ায় সংসদে যাওয়ার বিষয়ে আরো আগ্রহী হয়ে ওঠেন বিএনপির বিজয়ীরা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্রমতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও এখন বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা দলীয় বৈঠকে ও গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা শপথ নিয়ে সংসদে যেতে আগ্রহী। বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার পক্ষে বলে গত সোমবার ঢাকার গুলশানে দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অভিমত জানানো হয়।

আগামী ৩০ এপ্রিল শপথ নেওয়ার শেষ সময় ঘনিয়ে আসায় নির্বাচনী এলাকার জনগণের চাপ রয়েছেন বলে জানিয়ে দলকে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করেন তারা। তবে শপথ না নেওয়ার ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনমনীয় মনোভাবের বার্তা বৈঠকে জানিয়ে দেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এ সময় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না যেতে সতর্ক করে দেন তারা।

ক্ষমতাসীন দলের সূত্র জানায়, বিএনপির শপথ নেওয়া ও সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ ইতিবাচক থাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৫ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ‘সংখ্যায় কম হলেও’ বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ নিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানান। গত ২ ফেব্রুয়ারি গণভবনে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানানো হয় ঐক্যফ্রন্টকে। তবে তাতে অংশ নেননি ফ্রন্টের নেতারা।

এছাড়া নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতার সময় বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনা আছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার নির্ধারিত সময় বাড়ানোর কোনো সুযোগ সংবিধানে আছে কি না, এ নিয়েও দলের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা আছে। নির্দিষ্ট কারণ থাকলে স্পিকার শপথের সময় বাড়াতে পারেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ চায়, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে ৯০ দিনের মধ্যে বিএনপির নির্বাচিতরা শপথ না নিলে তাদের শপথের জন্য আরো সময় দিতে। ৯০ দিনের মধ্যে শপথের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বিএনপির সদস্যের চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় আছে।’

বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলে সেটা ইতিবাচক হবে বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম বিএনপি সংসদে যাওয়ার বিষয়ে বৈঠক করেছে। যদি তারা সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা হবে ইতিবাচক।

কেননা, তারা নির্বাচন করেছেন সংসদে যাওয়ার জন্যই। তাদের সংসদে যোগদানকে স্বাগত জানাব। গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে তাদের সংসদে যোগ দেওয়া উচিত। আমরা চাই তারা বিভিন্ন বিষয়ে রাজপথে সোচ্চার থাকুক, একই সঙ্গে সংসদেও সোচ্চার হোক।’

তথ্যমতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হলেও আটটি আসনে প্রার্থীরা জয়ী হন। এগুলোর মধ্যে ছয়টিতে বিএনপির প্রার্থী আর দুটিতে ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম জয়ী হয়।

বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম ওমর, বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির মোশাররফ হোসেনের কাছে জাসদের একেএম রেজাউল করিম তানসেন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির জাহিদুর রহমানের কাছে ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদের কাছে আওয়ামী লীগের আব্দুল ওয়াদুদ এবং  চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির আমিনুল ইসলামের কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়াউর রহমান পরাজিত হন। বগুড়া-৭ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হন। তারা কেউ এখনো শপথ নেননি।

মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও সিলেট-২ আসন থেকে জয়ী একই দলের মুকাব্বির হোসেন খান সংসদ সদস্য হিসেবে ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই