বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা

আগ্রহ ব্যাংকারদের, বিপক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০১:১৬ পিএম

আগ্রহ ব্যাংকারদের, বিপক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঢাকা : ঋণখেলাপিদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা আপতত বহাল থাকলেও ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে এ ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে দুই মাসের জন্য শর্ত দেওয়ায় আগ্রহী ঋণখেলাপিরা কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারাও চাচ্ছেন, আদালতের নির্দেশ থাকলেও বিশেষ এই সুবিধা যেন ব্যাপক আকারে না যায়। কারণ এতে ব্যাংকিং খাতের আর্থিক পরিস্থিতি আরো নাজুক হবে।

আলাপকালে অবশ্য এই সুবিধা ব্যাপকভাবে ঋণখেলাপিদের দিতে আগ্রহী বেশির ভাগ ব্যাংকার। গত দুই দিনে কয়েকটি তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলাপ করে তাদের আগ্রহের কথা জানা গেছে।

তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবমতে, দেশে ব্যাংকিং খাতে মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এটি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। নানা উদ্যোগ নিয়েও খেলাপি ঋণ কমানো যাচ্ছিল না। ব্যবসায়ীরাও কঠিন পরিস্থিতি পার করছেন। তারা ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। আবার ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যেতেও পারছেন না। একটি জিম্মি দশা চলছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে পরিস্থিতির আপতত কিছুটা উন্নতি হবে।

গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আদালতে যান একজন আইনজীবী। শুনানির পর ২৪ জুন এক মাসের স্থিতাবস্থা দেন আদালত। সেটি দ্বিতীয় দফায় বাড়িয়ে আরো দুই মাস করা হয়।

জানতে চাইলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বুধবার (১০ জুলাই) বলেন, এখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কিছু করার নেই। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আদালতের নির্দেশ পরিপালন করতে আমরা বাধ্য।

অপর একজন ব্যাংকারের মতে, খেলাপি ঋণ নিয়ে আমাদের এতদিন কার্যকর কোনো উদ্যোগ ছিল না। এগুলো গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের। এখন ভালো কিংবা মন্দ যে আলোচনাই হোক, একটি সুযোগ এসেছে। ব্যাংকগুলোর গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে ভালো কিছু করতে পারে। ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবে। তারা অনেকে নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করলেও তাতে শুভংকরের ফাঁকি বেরিয়ে আসছে। দেশের বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসাকে চাঙা করতে ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ সহায়তা দেওয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল এই উদ্যোগ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তা পর্যালোচনা করে অসংখ্য ত্রুটি-বিচ্যুতি পাওয়া গেছে।

পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এখানে ঋণখেলাপিদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হলেও টানাটানি ও ব্যবসায়িক লোকসানের মধ্যে যেসব বিনিয়োগকারী ঋণ নিয়মিত করেছেন তাদের জন্য নেই ভালো খবর। অনেক উদ্যোক্তা লোকসানের পরও ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করছেন নতুন ঋণ করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রজ্ঞাপনে অনেক ত্রুটি ছিল। এখানে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে যেসব ঋণগ্রহীতা খেলাপি হয়েছেন তারাই কেবল আবেদন করতে পারবে। কিন্তু ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ওপর এক ধরনের চাপ প্রয়োগ করে পুরনো ঋণ নিয়মিত করতে কিংবা পরিশোধ করতে। ফলে অনেক গ্রাহক নতুন করে ঋণ করে কিংবা সম্পদ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করেন অথবা নিয়মিত করে নেন। ফলে সেসব ঋণ আর খেলাপি হিসেবে শনাক্ত হবে না।

আদালতের সিদ্ধান্তে কার্যকর থাকবে ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুযোগ। ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপননের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ শর্তসাপেক্ষে দুই মাসের জন্য স্থগিত করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের যে সুযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক ওই সার্কুলারে দিয়েছিল, তা আপাতত কার্যকর থাকছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখানে আগ্রহ-অনাগ্রহের কিছু দেখছি না। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। সে মোতাবেক সব চলবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue