শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

আতিকের কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টকে বের করে দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার ০১:৩৯ পিএম

আতিকের কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টকে বের করে দেয়ার অভিযোগ

ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই ওয়ার্ডে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আফসার উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। ভোটকেন্দ্র থেকে লোকজন বেরোচ্ছেন। ছবি: শাকিল আহমেদসেগুন নিজেই সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। নওয়াব হাবীবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। এটাই উত্তরের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের ভোটকেন্দ্র।

নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি শেষ। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনি সামগ্রীও পৌঁছে গেছে। প্রিজাইডিং অফিসারসহ সবাই যার যার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নির্বাচনের বিষয়ে কোনও ধরনের আশঙ্কার কিছু নেই। ভোটাররা অবাধ ও নির্বিঘ্নে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাদের কোনও অসুবিধা হবে না।’ নির্বাচনে উন্নত পরিবেশ বিরাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকার এই দুই সিটি নির্বাচনের প্রচারে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনও সংঘর্ষ হয়নি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ২১ দিন অনেকটা নির্বিঘ্নেই প্রচার চালিয়েছেন। তবে পিছিয়ে ছিলেন অন্য প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উৎসব ভাব বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, বিএনপির বহিরাগতরা অস্ত্রসহ ঢাকায় অবস্থান করছে। একই দিনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল কমিশনকে জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সামনে রেখে চলছে ধরপাকড়।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় ঢাকা উত্তরে ৩৬টি ও দক্ষিণে ৫৭টি ওয়ার্ড ছিল। এবারের দুই সিটিতে ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ড সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে বেড়েছে ভোটার ও কেন্দ্র সংখ্যাও। এ নির্বাচনে দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন ভোটার।
জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৩ জন মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আরও রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আকতার উজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লা, ইসলামি আন্দোলনের মো. আবদুর রহমান ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) বাহারানে সুলতান বাহার।

এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির তাবিথ আউয়াল। এছাড়া, এ সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন—কমিউনিস্ট পার্টির ডা. আহাম্মদ সাজেদুল, এনপিপির মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)-এর শাহীন খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ।

প্রার্থী সংখ্যা : ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ৪৭০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৩৩৪ জন। বাকি ১৩৬ জনের অনেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে মেয়র পদে ৬ জন, ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ডের বিপরীতে ২৫১ জন কাউন্সিলর ও ১৮টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৭৭ জন নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৭ জন মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারা সবাই চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এই সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে ৩২৬ জন ও সংরক্ষিত ২৫টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোটের মাঠে লড়াই করছেন ৮২ জন প্রার্থী।

ভোটার সংখ্যা : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, দুই সিটিতে মোট ভোটার ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮ জন ও নারী ভোটার ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪৫৯ জন। সিটি করপোরেশনের হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটিতে মোট ভোটার রয়েছে ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ জন ও নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ জন ও নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন।

ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ : ঢাকার দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্র ও ১৪ হাজার ৪৩৪টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১ হাজার ৩১৮টি ভোটকেন্দ্র ও ৭ হাজার ৮৫৭টি ভোটকক্ষ এবং দক্ষিণ সিটিতে ১ হাজার ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ৬ হাজার ৫৮৮টি ভোটকক্ষ রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৬৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং দক্ষিণে ৬৪৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব কেন্দ্র করা হয়েছে। একক হিসাবে এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি (১১টি) ভোটকক্ষ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন মিরপুরের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়। একই সিটির তেজগাঁওয়ের সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজে রয়েছে ১০টি ভোটকক্ষ। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কদমতলীর এ কে হাইস্কুল কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৮টি ভোটকক্ষ রয়েছে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা : ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা রয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৭০ জন। এরমধ্যে ২ হাজার ৪৬৮ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১৪ হাজার ৪৪৫ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২৮ হাজার ৮৮০ জন পোলিং কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ১ হাজার ৩১৮ জন প্রিজাইডিং, ৭ হাজার ৮৫৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ১৫ হাজার ৭১৪ জন পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ করবেন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে ১ হাজার ১৫০ জন প্রিজাইডিং, ৬ হাজার ৫৮৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ১৩ হাজার ১৭৬ জন পোলিং কর্মকর্তা ভোট নেবেন।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue