বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

আত্মহত্যাকারী নারী পুলিশের জিডি নেননি ওসি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার ০৬:৩৫ পিএম

আত্মহত্যাকারী নারী পুলিশের জিডি নেননি ওসি

নিহত কনস্টেবল হালিমা।

ময়মনসিংহ: জেলার গৌরীপুর থানার ব্যারাকে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন পুলিশের কনস্টেবল হালিমা বেগম। আত্মহত্যার আগে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে জিডি করতে চাইলেও থানার ওসি তা গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেছেন কনস্টেবল হালিমার বাবা।

চলতি মাসের দুই তারিখে ঘটনাটি ঘটে। এরপর তার বাবা হেলাল উদ্দিন আকন্দ সাংবাদিকদের কাছে তার ডায়েরি প্রকাশ করেছেন। 

তিনি বলেছেন, ওর মৃত্যুর পর পাঁচ দিনের মাথায় আমরা যখন ওর মালপত্র আনতে যাই, তখন সেখানে লাগেজের মধ্যে ঐ ডায়েরি ও দুই কপি কাগজ পেয়েছি। অনেক গোপন কথা আপনাকে বলতে হবে, কী করে যে এসব বলি - অনেকটা অসহায়ভাবে বিবিসিকে বলেন এই হলিমার বাবা।

কনস্টেবল হালিমার সুইসাইড লেটার

তারপর তিনি জানালেন, হালিমা বেগম ডায়েরিতে লিখেছেন তাকে তার এক সহকর্মী, একই থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর ধর্ষণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, কীভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেটিও সে লিখেছে। তাকে বলা হয়েছিলো ইয়াবা বিক্রি করে এরকম এক মেয়ে আসামি ধরার জন্য মহিলা পুলিশ লাগবে। তাই বলে আমার মেয়েকে নিয়ে যায় মিজান। তারপর এই ঘটনা। পুলিশের কর্মকর্তারা ঐ সাব-ইন্সপেক্টরকে মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম নামে চিহ্নিত করেছেন।

হালিমা বেগম তার ডায়েরিতে আরো লিখেছেন তিনি যখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ নিয়ে যান, সেটি তিনি গ্রহণ করেননি।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার আহমেদ জানিয়েছেন, আমার কাছে সে ধর্ষণের অভিযোগ করেনি। উল্টো মিজান আমার কাছে অভিযোগ করেছে যে হালিমা তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিলো।

হালিমা বেগমের অভিযোগ তিনি কেন গ্রহণ করেননি, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একথা পুরো অসত্য। আমার কাছে সে কোন অভিযোগ করেনি।

এ ঘটনায় হালিমার বাবা বাদী হয়ে ঐ সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। এসআই মিজানুল বর্তমানে কারাগারে আছেন বলে জানিয়েছেন দেলোয়ার আহমেদ।

গত বছর শেষের দিকে কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ নামে একটি সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পুলিশ বিভাগে কর্মরত নারী সদস্যদের মধ্যে ১০ ভাগের বেশি সদস্য যৌন হয়রানির শিকার হন।

সোনালীনিউজ ডটকম/ঢাকা/এআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue