বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯, ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার ১১:১৪ এএম

আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ

ঢাকা: একাত্তারের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আজহারুল ইসলামের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ড বহালের রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই এ পুনর্বিবেচনার আবেদন করব। রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায় কার্যকর করা যাবে না। আশা করি সে পর্যন্ত ফাঁসির রায় কার্যকর হবে না।

অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব আরো বলেন,  ‘তার (এটিএম আজহার) বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার কোন অভিযোগ ছিলনা। তিনি কখনো ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। আজহারের বয়স তখন ১৮ বছর। সেময় তিনি কলেজের ছাত্র ছিলেন দাবি করে খন্দকার মাহবুব বলেন, সব অপরাধ পাকিস্তানি আর্মি সংগঠিত করেছে।’

এর আগে সকালে আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। গত ১০ জুলাই এ আপিলের ওপর শুনানি শেষে সিএভি (রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ) রাখেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। ১৮ জুন আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু হয়েছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে (আজহার) ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ে আজহারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগেও বহাল রাখা হয়।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন। আপিল বেঞ্চের বাকি তিন সদস্য হলেন— বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান।

 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে ১২৫৬ ব্যক্তিকে গণহত্যা-হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শতশত বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো ৯ ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর বাদে বাকি পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে। সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ ছাড়াও তিনি যে আলবদর কমান্ডার ছিলেন তাও প্রমাণিত হয়েছে রায়ে। 

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করেন।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue