শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

উত্তরখানে মাসহ দুই সন্তানের লাশের পাশে চিরকুট উদ্ধার

‘আমাদের মৃত্যুর জন্য ভাগ্য ও স্বজনের অবহেলাই দায়ী’

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ মে ২০১৯, সোমবার ০৩:০৪ পিএম

‘আমাদের মৃত্যুর জন্য ভাগ্য ও স্বজনের অবহেলাই দায়ী’

ঢাকা : রাজধানীর উত্তরখানের একটি বাসা থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা ২/৩ দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনও অস্পষ্ট। নিহতদের ঘর থেকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে।

রোববার (১২ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরখান থানাধীন মৈনারটেক এলাকায় মাউসাউদ রোডের বদ্ধ একটি বাসা থেকে পচন ধরা মা ও দুই সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মা ও মেয়ের মরদেহ বিছানায় পড়ে ছিল আর মেঝেতে পড়ে ছিল ছেলের মরদেহ।

নিহত মায়ের নাম জাহানার বেগম মুক্তা (৫০), মেয়ে তাসফিয়া সুলতানা মিম (১৮) ও ছেলে মুহিব হাসান (৩০)। দুই সন্তানের বাবার নাম মৃত ইকবাল হোসেন। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা জগন্নাথপুর গ্রামে।

উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, বদ্ধ ঘরে পচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তাদের শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা ময়নাতদন্ত করলে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। লাশগুলো ফুলে যাওয়ায় কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা বোঝা যায়নি।

নিহতদের ঘরে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিল, ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য ভাগ্য ও আমাদের আত্মীয়-স্বজনের অবহেলাই দায়ী। আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের সম্পদ গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হোক। ইতি জাহানারা বেগম।’

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, উত্তরখানে নিজেদের একটি জমিতে বাড়ি তৈরির উদ্দেশে জাহানারা বেগম তার সন্তানদের সাথে নিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে ঢাকায় এসেছিলেন।

জানা যায়, শনিবার জাহানারা বেগমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে এক স্বজন তাদের বাড়িতে আসেন। দরজায় কড়া নেড়েও তাদের কোনো ধরনের সাড়া শব্দ না পেয়ে তিনি চলে যান। পরদিন বাসায় এসে দুর্গন্ধ টের পেয়ে বাড়ির কেয়ারটেকারকে ডেকে তাদের জানালায় উঁকি দিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। এরপরই পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

বাড়িটির মালিক ডা. কামাল হোসেন ধানমণ্ডিতে থাকেন। প্রথম রমজানে জাহানারা ওই বাসাটি ভাড়া নেন। এরপর ঘটনাটি ৮/৯ মে ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহত জাহানারা বেগমের স্বামী বেশ কিছুদিন আগে মারা গেছেন। তার ছেলে মুহিব হাসান ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। আর মেয়ে তাসফিয়া সুলতানা মিম ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী।

পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল জানান, নিহতদের পরিবারের আত্মীয়দের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue