শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

আ.লীগের ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণরা

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার ০৯:৪৩ পিএম

আ.লীগের ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণরা

ঢাকা : তরুণদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতার অংশীদার বা উন্নয়নের মহাসড়কে তাদের যুক্ত করাই লক্ষ্য।

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তরুণদের প্রত্যাশা- শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। ১০ বছরে ভোটার বেড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখের মতো। আর ১ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি তরুণ প্রথমবারের মতো, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে জয়লাভ করতে এই তরুণ ভোটাররাই সব রাজনৈতিক দলের প্রধান টার্গেট।

তবে নিজেদের অধিকার সচেতন এই তরুণ সমাজ কি প্রত্যাশা করেন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে? এমন প্রশ্ন ছিল তাদের কাছে। কয়েকজন তরুণ ভোটারদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, ‘সহজ ও শীথিলতাভাবে ঋণ নিয়ে যাতে তরুণ উদ্যোক্তারা বেড়িয়ে আসতে পারে বা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারে এমন পরিবেশ যারা তৈরি করতে পারবে তাদেরকেই ভোট দিবো। নারীদের নিরাপত্তা ও নারীর ক্ষমতায়নে যারা কাজ করবে তাদেরই সমর্থন দেবে বলেও জানান তারা।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া যা তরুণদের আকৃষ্ট করেছিল। পরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের প্রতিভাবান তরুণ ও আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সর্বোতভাবে সহায়তাও দিয়েছে সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ প্রশিক্ষিত যুবক, যুব মহিলাদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিসহ ‘ন্যাশনাল সার্ভিস’ কর্মসূচিকে পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় সম্প্রসারিত করার ঘোষণা দেয়। আর এবারের ইশতেহারেও তরুণ সমাজের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া হচ্ছে।

এতে যা থাকছে-

১. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা-কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বাড়াতে বাজেটে বরাদ্দসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ।

২. তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দিয়ে তাদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি।

৩. তরুণদের নাগরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।

৪. ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান করা।

৫. জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ।

আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহবায়ক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দেশে যদি আমরা শিল্পায়নের বিপ্লব করতে না পারি তাহলে দেশের শিক্ষিত যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবো না। দেশের যুব সমাজ যেন বেকার না থাকে এবং তাদের চাওয়া পাওয়া আমরা সব সময়ের মত এবারও বিবেচনা করবো।’

এছাড়া চলতি বছরে সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন সামাল দিতে গিয়ে নতুন প্রজন্মের সাথে সরকারের দুরত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।

তিনি বলেন, তারা যে বার্তাটি প্রদান করে গেছে, সেটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই আমার ধারণা এই তরুনদের ভোটই ফলাফল নিয়ন্ত্রন ভোট হবে। তারা তাদের এই উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে ভোট কেন্দ্রে ভোট দেয়ার মাধ্যমে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই